রবিবার, ১৭ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কুকীর্তি ফাঁস!  » «   মায়ের পছন্দ ব্রাজিল, সমর্থক জয়ও  » «   পুলিশ কমিশনার‘ঈদগাহে ছাতা ও জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নয়’  » «   ‘আমিও প্রেগনেন্ট হয়েছি, অনেকবার অ্যাবরশনও করিয়েছি’  » «   গুগল পেজ ইরর দেখায় কেন?  » «   রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সিইসি কে কোথায় ঈদ করছেন  » «   ইসি সচিব : তিন সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা  » «   বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে মনু ও ধলাই  » «   বিশ্বকাপের একদিন আগে বরখাস্ত স্পেন কোচ!  » «   ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ৭ কি.মি. যানজট  » «   শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে আলিয়ার সোজা কথা!  » «   যে কারণে ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে চান খালেদা  » «   খালেদা চিকিৎসা চান নাকি রাজনীতি করছেন : সেতুমন্ত্রী  » «   যানজটের কথা শুনিনি, কেউ অভিযোগও করেননি  » «   ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ‘বকশিসের নামে নীরব চাঁদাবাজি নেই’  » «  

বিজয় ধ্বনিতে আজো বাজে নারী গেরিলার পদধ্বনি



বিজয় ধ্বনিতে আজো বাজে নারী গেরিলার পদধ্বনি

যুদ্ধে নারী ও শিশুর ভাগ্য লেখা হয় ধ্বংসলীলার প্রাচীরে। যুদ্ধ নামের অনলে পুড়ে মরে অবলা নারী-শিশুরাই। যুদ্ধের দামামা বাজলেই নারীর ললাটে আতঙ্কের বলি রেখা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। আবার যুদ্ধ জয়ের নিশানাতেও নারী। যুদ্ধ জয়ের নেপথ্যের কারিগরও নারী-ই।

যুদ্ধে জয় এসেছে, অথচ তাতে নারীর অবদান নেই, বিশ্ব ইতিহাসে তা বিরল। ব্যতিক্রম ছিল না বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও। নারী সমরে ছিল, ছিল নেপথ্যের শক্তি-সাহসে। তাদের ভূমিকা ঈর্ষাণীয়, যা ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধজয়ের ইতিহাসে গৌরবজ্জ্বল হয়ে আছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্ব থেকেই নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত অদম্য সাহস আর উদ্দীপনা নিয়ে তারা বিজয় ছিনিয়ে আনেন। বিশেষ করে গেরিলা নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা সংগ্রামী নারী সমাজের আজো প্রেরণার উৎস।

fredomfighter

মুক্তিযুদ্ধে নারী গেরিলাদের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে বেগম ফোরকানের কথা। যার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল প্রথম গেরিলা স্কোয়াড। তার নেতৃত্বে প্রথম দলে ছিলেন ৮ জন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই অস্ত্র চালোনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন তারা।

গেরিলা ট্রেনিংয়ের জন্য বিভিন্ন শরনার্থী শিবির থেকে শতাধিক মহিলাকে নির্বাচন করা হয়। প্রথম এদের বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র সর্ম্পকে ধারণা দেওয়া হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে সুইসাইড স্কোয়াডের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

পূর্বঞ্চালীয় হাই কমান্ড শেখ ফজলুল হক মনির নির্দেশে তার ডেপুটি আ.স.ম. আব্দুর রব কিশোর-তরুণীদের গেরিলা ও সুইসাইড স্কোয়াডকে আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন লেম্বুচোরা ক্যাম্প, আগারতলায়।

fredomfighter

মুক্তিযুদ্ধের আরেক মহীয়সী নারী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে সংগ্রামী নারীদের যোদ্ধা জন্য বাংলাদেশের তৎকালীন এমপি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পরিচালনায় চালু হয়েছিল ‘গোবরা ক্যাম্প’। সেই ক্যাম্পে নারীরা অস্ত্র চালনা শিখতেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির উদ্যোগে প্রায় ৩০০ তরুণী ও কিশোরী সংগঠক গোবরা ক্যাম্পে অবস্থান করতেন। এছাড়াও সিভিল ডিফেন্স ও নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হত সেখানে।

মুক্তিযুদ্ধে নারী শক্তির অন্যতম নাম তারামন বিবি বীর প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রামের রাজীবপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে রাধুনী হিসেবে যোগদেন। রাজীবপুর ওয়ার ফিল্ডে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ন গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করে করেন এই গেরিলা।

একের পর এক অ্যাসাইনমেন্ট পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানস্থল কোদালকাঠী ইউনিয়নে ঢুকে যেতেন তিনি। রাতের বেলা পাক সেনা শিবিরের কাছাকাছি ঢুঁ মেরে বের করে আনতেন হাঁড়ির সব খবর। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মুক্তিবাহিনী প্রথম পাকসেনা শিবিরে হামলা চালায়। এছাড়া ওই রনাঙ্গানে যুদ্ধ শুরুর আগে তারামন বিবি অসংখ্য বাঙ্গালী পরিবারকে পাকবাহিনীর কবল থেকে নিরাপদ স্থানে আনার অ্যাসাইনমেন্টও অংশ নেন।

fredomfighterএকাত্তরের গেরিলা যোদ্ধা আলমতাজ বেগম ছবি মুক্তি যোদ্ধাদের রান্নাবান্নার পাশাপাশি অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। একসময় পাক সেনারা ঘিরে ফেলেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ঐ ক্যাম্প। ৭/৮ দিন অবরুদ্ধ অবস্থায় যুদ্ধ করেছিলেন তিনি।

বরিশালের মুলাদী থানার কুতুব বহিনীতে করুণা বেগম অন্য মহিলা যোদ্ধাদের সঙ্গে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এই বাহিনীর অধীনে ছিলো ৫০ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন এই বাহিনীর কমান্ডার। ছদ্মবেশে থেকে শত্রু ছাউনির ওপর গ্রেনেড নিক্ষেপ করে অপারেশন চালিয়েছেন। এছাড়াও স্টেনগান, রাইফেল চালোনা এবং যে কোনো ধরণের বিস্ফোরক দ্রব্য সর্ম্পকে বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন তিনি।

পুরুষের পোশাক পরে যুদ্ধ করেছিলেন আলেয়া বেগম। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা ইউনিট কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ‘রাইফেল, এস এম জি, বন্ধুক, এস এল আর সবকিছু চালানোতেই আলেয়া সমান পারদর্শী ছিলেন। শত্রুপক্ষের শক্তি ও অবস্থান বুঝে তাদের মোকাবেলা করাতে এসব সমরাস্ত্র হাতে নিয়ে ছুটতেন তিনি। একাধিক সম্মুখ সমরে তার ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি। তিনি ভারতের চাপড়া ট্রেনিং ক্যাম্পে যুদ্ধ কৌশল ও সমরাস্ত্র চালানো শেখেন।

পিরোজপুর জেলার ‘অপারেশন স্বরুপকাঠী’ বাহিনীর অকুতোভয় দুই নারী মুক্তিযোদ্ধা বীথিকা বিশ্বাস এবং শিশির কনা গ্রেনেড চার্জ করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন গানবোর্ড। নৌকা থেকে পানিতে নেমে সাঁতরে কচুরিপানার সঙ্গে মিশে ভাসতে ভাসতে ভিড়েছিলেন লঞ্চের গায়ে। ছুড়ে মেরেছিলেন গ্রেনেড। পিরোজপুরে এক অখ্যাত গ্রামের মেয়েগুলো হয়ে উঠেছিলে এক একজন দুর্ধর্ষ গেরিলা। বীথিকা গেরিলা ও গুপ্তচরবৃত্তির ট্রেনিং দেয়ার জন্য মেয়েদের সংগ্রহ করে আনতো। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মেয়েকে ট্রেনিং দেয়া হয়েছিল।

তবে বিশ্লেষক এবং ইতিহাসবিদদের মতে মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান এখনো পরিপূর্ণভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে শত শত নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি এবং গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিলেও এ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হয়েছেন মাত্র ২০৯ জন নারী।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: