রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত ৭৯  » «   জেলগেট থেকে স্বামীকে নিয়ে যায় ডিবি, আজ শুনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত  » «   ইরানে করোনাভাইরাসে ৫ জনের মৃত্যু  » «   আ. লীগের মনোনয়ন পাননি স্বামী, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন শাবানা  » «   অনৈতিক কাজে নারী সরবরাহ, দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৪  » «   পাকিস্তান আমলে রাস্তায় আন্দোলন করেছি, এখন করা যায় না  » «   ব্যাংক ঋণে চলছে সরকার  » «   মুজিববর্ষে ২০০ টাকার নোট আসছে বাজারে  » «   সরকারি চাকরিজীবীদের বড় সুখবর দিল সরকার  » «   বিমানবন্দরে মুসলিমদের বাড়তি তল্লাশির পরামর্শ রায়ানএয়ার সিইওর  » «   শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অন্যতম সহযোগী শাকিল গ্রেপ্তার  » «   কুৎসা রটানোয় হতাশ হলেও বার্সাতে সুখেই আছেন মেসি  » «   ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ক্ষুব্ধ নগরবাসী  » «   শহীদের সঙ্গে প্রেম ভাঙলো কার দোষে? মুখ খুললেন কারিনা  » «   বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেল সখীপুরের ২ হাজারের বেশি মানুষ  » «  

বিকৃত যৌন উল্লাস



444নিউজ ডেস্ক:সিলেটের রাজনের পর খুলনার রাকিব । দুজনই শিশু, দুজনই প্রাণ হারিয়েছে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে। তবে রাজনকে হত্যা করা হয়েছিল যৌন নিপীড়নে ব্যর্থ হয়ে। আর শিশু রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে মলদ্বারে কমপ্রেসারের পাইপ দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে। রাজন ও রাকিবের প্রতি এ ধরনের নির্যাতনকে এক ধরনের ‘বিকৃত যৌন উল্লাস’ বলেই মনে করেন শিশু চিকিৎসকরা।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এটি হলো সেক্সুয়াল এবিউজের চূড়ান্ত পর্যায়।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘ইদানিং শিশুদের ক্ষেত্রে সেক্সুয়াল এবিউজটা খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং শিশুরা তারই আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের মানুষদের দ্বারা সবচেয়ে বেশি এর শিকার হচ্ছে’।
এদিকে, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ এর সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ারও শিশু রাজন ও রাকিবের ঘটনা বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘এগুলো এক ধরনের বিকৃত যৌন উল্লাস। এরকম হত্যা সমাজের মনোবৈকল্যেরই প্রমাণ দেয়’।
স্কুল শিক্ষকের শারীরিক নির্যাতন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে অশ্লীল জোকস বলা কিংবা যৌন হয়রানি এসব বিষয়কেও তিনি সমাজ মনোবৈকল্যের উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোট শিশুর ১৫ ভাগ থেকে ১৮ ভাগই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। আর যারা চল্লিশোর্ধ মানসিক রোগী তাদের প্রায় ৩৫ ভাগ থেকে ৪০ ভাগই শিশুকালে যৌন নিপীড়নের শিকার হন ।
ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশুরা নিরীহ এবং সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত থাকে। তারা প্রতিবাদ করতে পারবে না, এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চায় নিপীড়ক। আর শিশুর ক্ষেত্রে যা হয়, নিপীড়িত হলে সামাজিকতার কথা ভেবে সে কাউকে জানাতে চায় না।’ ফলে সে একাকী অনুভব করে এবং এক ধরনের মানসিক বিষন্নতায় ভোগে বলে জানান ডা. আব্দুল্লাহ।
শুধু রাজন কিংবা রাকিবের মতো শ্রমশিশুরাই নয়, যে কোন শিশুই এখন নিপীড়ন ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই চিকিৎসকরা জানান, ছেলে শিশু কিংবা মেয়ে শিশু কেউই এখন আর সুরক্ষিত নয়। বাসাবাড়িতে কাজের লোক, গাড়ির ড্রাইভারদের দ্বারা শিশুরা নিপীড়িত হয়। এছাড়া চাইল্ড কেয়ার সেন্টারগুলোও নিরাপদ নয় বলে মত তাদের।
রাজন কিংবা রাকিবের মতো আর কোন শিশুকে যাতে এ ধরনের ঘটনার শিকার না হতে হয় সেজন্য সামাজিক সচেনতার পাশাপাশি শিশুশ্রম বন্ধ, বাসায় সার্ভিং মনিটর এর ব্যবস্থা, চাইল্ড কেয়ার সেন্টারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনাসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ও এ ধরনের ঘটনায় সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহনের আহ্বান জানান চিকিৎসকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: