রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিডরে নিখোঁজ শহিদুল বাড়ি ফিরলেন ১১ বছর পর!  » «   ভাওতাবাজির জন্য সরকারকে গোল্ড মেডেল দেওয়া উচিৎ: ড. কামাল  » «   দিল্লির লাল কেল্লা দখলের হুমকি পাকিস্তানের!  » «   সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে: মির্জা ফখরুল  » «   নির্বাচনী কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব করলে শাস্তি হবে: নির্বাচন কমিশনার  » «   গোলান মালভূমিতে সিরিয়ান মালিকানা জাতিসংঘে অনুমোদন  » «   শ্রীলংকার পার্লামেন্টে স্পিকারের চেয়ার দখল, সংঘর্ষে আহত একাধিক এমপি  » «   আজ মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী  » «   কে হবেন প্রধানমন্ত্রী: উত্তরে যা বললেন ড. কামাল  » «   ক্যালিফোর্নিয়া দাবানল: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯  » «   রোহিঙ্গারা স্লোগান দিচ্ছে ‘ন যাইয়ুম, ন যাইয়ুম’  » «   প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষায় থাকছে না এমসিকিউ  » «   ঐক্যফ্রন্টের সব দলের প্রতীক ধানের শীষ  » «   চিকিৎসা নিয়ে খালেদার রিটের আদেশ রোববার  » «   বিএনপি জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন খালেদা জিয়া  » «  

বিএনপির বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার প্রমাণ নেই : আমু



নিউজ ডেস্ক:: বিএনপির বিরুদ্ধে ‘গায়েবি মামলা’ দেয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন আমু এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে নির্বাচন সামনে রেখে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে, ব্যাপক আটক হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা সঠিক নয়। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তারা দেখাতে পারবে না, নতুন করে কারো বিরুদ্ধে কোনো গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে না।’তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনী প্রচার কাজের সুবিধার্থে এই ধরনের অপপ্রচার চালাতেই পারে।’

ইতোমধ্যে মৃত ব্যক্তি, বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে আমু বলেন, ‘এগুলোর বিষয়ে আমাদের কাছে সঠিকভাবে কোনো প্রমাণ আসেনি। তারা বক্তৃতায় বলছে। তারা স্পেসিফাই করলে এটা আমরা দেখবো।’

নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে তো আইনশৃঙ্খলা না, আইনশৃঙ্খলাটা জেনারেল। নির্বাচনের পরিবেশ সেটা আলাদা, নির্বাচনের সাথে আইনশৃঙ্খলার কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমরা মনে করি না। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো আসবে, তাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে বলে আমরা মনে করি না।’

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওই আশঙ্কার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এর কারণ যাদের নিয়ে আশঙ্কা তারা কিন্তু সেই ধরনের কথা বলছেন না। তারা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রশ্ন আছে বলে আমি মনে করি না।’

জাতীয় সংসদে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য চিরুনি অভিযানের কথা বলা হয়েছিল- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘অভিযান চলছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এটা চিরদিনের প্রথা। যেকোনো সরকারই যখনই ক্ষমতায় থাকেন অবৈধ অস্ত্র শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, এখানে যেহেতু জঙ্গিবাদের উৎপাত ছিল, বিভিন্নভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করা হচ্ছিল, সুতরাং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কাজ অব্যাহত আছে, অব্যাহত থাকবে।’

বৈঠকে গত কয়েক মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার চিত্র অত্যন্ত সন্তোষজনক। দেশে যে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল, সেটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। গোটা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক স্থিতিশীল, বিরোধী দল রাজনীতি করছে, মিছিল করছে, তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের মধ্যে যাতে অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গোলমাল সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী লক্ষ্য করছে। সব দিক থেকেই দেশের অবস্থা সামনের দিকে, নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সব দলগুলো নির্বাচনমুখী এবং তারা নির্বাচনের স্বপক্ষেই কথা বলছে। নির্বাচনে সুযোগ-সুবিধা নেয়ার জন্য কোনো দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, সেটা অন্য কথা। কিন্তু, সবাই নির্বাচনমুখী এবং নির্বাচনের পক্ষেই কথা বলছে। এটাই মূল কথা। সেই দিক থেকে জাতি, দেশ মানুষ সবাই মনে করে নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হবে। এছাড়া পূজা উৎসব চলছে। দেশে ৩০ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখছে। এই পূজা উৎসব নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ইনসিডেন্ট ঘটেনি।’

আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি আমু আরও বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় যানবাহনের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না রাখা এবং মাঝে মাঝে চেক পোস্ট দিয়ে চেক করা হয়। যারা গাড়ি চালাচ্ছেন তারা হেলপার নাকি প্রকৃত লাইসেন্সধারী ড্রাইভার- এগুলো চেক করা হচ্ছে, যাতে দুর্ঘটনা না হয়।’

শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: