শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

বাড়ছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড: রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও



প্রতি নিয়ত বাড়ছে সমাজে অবৈধ সম্পর্ক। সম্পর্কের জের ধরে পরিবার পরিজনকে ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেকেই। আবার এই অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর ফলে বাড়ছে হত্যার মতো নৃশংসতা। এধরনের সম্পর্কের ফলে সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।

যেখানে একটি মেয়ে তার পিতাকেই ভাবে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে, সেখানে সেই পিতার কাছেই ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন অনেক মেয়ে। রাজধানীর ভাসানটেক এলাকায় কিছু দিন আগে পিতা কর্তৃক সপ্তম শ্রেণির এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে তার মা। প্রতিনিয়ত যেন বাড়ছে এমন অনৈতিক সম্পর্ক। গেল সপ্তাহে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ফুফুকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকা তোলপার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এ কেমন অনৈতিক সম্পর্ক! ভালবাসার নামে এ কেমন অনৈতিক কর্মকান্ড। যেখানে কেউ মানছেনা সামাজিক রীতিনীতি।

ফুপুকে নিয়ে ভাতিজা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার ভাতিজার হাত ধরে উধাও হয়েছেন দুই সন্তানের জননী এক চাচি। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এই বিষয়ে বিডি২৪লাইভকে বলেন, সমাজে এইসব অনৈতিক সম্পর্কের জন্য কঠোর আইন করার দরকার। যে কোনো ছেলে মেয়ে চাইলেই ফোন ব্যাবহার করতে পারবেনা। তিনি আরো বলেন, বর্তমান ফেসবুকের কারণে এই ধরনের সম্পর্ক দিনে দিনে বেঁড়েই চলছে বলে আমি মনে করি।

মানুষের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয়, পর্নোগ্রাফি এবং মাদকের প্রভাকেই শিশু ধর্ষণ এবং সমাজে এইসব অনৈতিক সম্পর্কের পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে সহজে সবাই পর্নোগ্রাফি দেখতে পারছেন। এর ফলে জৈবিক ও মানসিক বিকারগ্রস্ততা থেকে অনেকে শিশুদের ধর্ষণ করছে। আবার অনেক সময় অপরাধের বিচারে দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে এ ধরনের ঘটনায় সাহস জোগাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, ‘শিশুরা যখন বাবা-মায়ের অনৈতিক সম্পর্কের বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাদের হত্যা করা হয়। এর বাইরে পারিবারিক কলহ, অর্থনেতিক দুরাবস্থাও এ ধরনের অপরাধের বড় কারণ।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৪১টি শিশু খুন হয়েছে। এর মধ্যে পিতা-মাতার হাতে হত্যার শিকার হয়েছে ৩৮টি শিশু। আর ২০১৬ সালে খুন হয়েছে মোট ১৭৩টি শিশু। একইভাবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা। এ বছর ২৯৫টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫৮টি ও ২০১৫ সালে ১৪১টি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: