রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের  » «   নিজস্ব ভবন পেল আওয়ামী লীগ  » «   বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ : শুরু হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কাজ  » «   ‘রাতের অন্ধকারে বছরের পর বছর ধর্ষণ করেছে বাবা’  » «   প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি যথার্থ : রিজভী  » «   স্কুলের গেটে জলাবদ্ধতা, ছাত্রদের সড়ক অবরোধ  » «   তানোরে পুলিশের স্ত্রীর আত্মহত্যা  » «   কুমিল্লায় যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার  » «   সরিষাবাড়ীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু  » «   শ্রীপুরের বাড়িটিতে ৪টি বোমার বিস্ফোরণ  » «   প্রেমিকের খোঁজ নিতে গিয়ে প্রেমিকার করুণ পরিণতি!  » «   সমকামী বিয়ে ব্রিটিশ রাজ পরিবারে  » «   এবার বিমানেও ভিক্ষাবৃত্তি!  » «   প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সেনা প্রধানের সাক্ষাৎ  » «   মিয়ানমারকে আল্টিমেটাম  » «  

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে একটানা ৩৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট!



11বালাগঞ্জ সংবাদদাতা :: বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রকট আকার ধারন করেছে। দুই উপজেলার দুই অংশের গ্রাহকদেরকে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অন্তর্ভুক্ত কাশি কাপন জোনাল অফিসের ‘৩নং-ফিডার’ (সঞ্চালন লাইন) লাইন থেকে বিদ্যুৎ সবররাহ করা হয়।

শনিবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়। একটানা ৩৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থাকার পর রবিবার বেলা ৩টার দিকে গ্রাহকদের প্রতিক্ষায় অবসান ঘটে।

কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন-ঝড়ের কারনে সঞ্চালন লাইনে (৩নং-ফিডার) সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় তা মেরামত করার জন্য দির্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে, স্থানীয় গ্রাহকরা তা মানতে নারাজ। তারা বলছেন-গত এক সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ঝড়-তুফান হয়নী। তাহলে গ্রাহকদের আগাম না জানিয়ে কেন দির্ঘ সময় সংযোগ বন্ধ রাখা হল?।

অপর দিকে বালাগঞ্জ সদর সহ উপজেলার সিংহ ভাগ এলাকায় কখনও কাশিকাপন জোনাল অফিস আবারও কখনও ফেঞ্চুগঞ্জ (৯০ মেঘাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। শনিবার বেলা একটার পর থেকে রবিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত উপজেলার ঐ এলাকার এলাকার গ্রাহকরা একটানা প্রায় ১৪ ঘন্টা বিদ্যুতের আলোর দেখা পাননী। দির্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের জনজীবন নাকাল হয়ে পড়ে।

রবিবার রাতে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত উল্লেখিত এলাকা গুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন ত্রুটি গুলো মেরামতের জন্য লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকবে বলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। পুর্ব ঘোষনা ছাড়াই এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখায় অফিসের মোবাইল নাম্বারে কল দিলেও কল রিসিভ হয় না, মোবাইল বন্ধ থাকে এমনকি মোবাইল বিজি অপশনে (২৪ ঘন্টা নাম্বার বিজি) রাখারও অভিযোগ রয়েছে।

শনিবারে বালাগঞ্জ এরিয়া অফিসের মোবাইলে কয়েক দফা কল দিলেও বেলা একটা থেকে রাত পর্যন্ত কেউ রিসিভ করেনি। আর রবিবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তাছাড়া প্রতিনিয়তই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলাবাসী। দৃশ্যমান কোন কারন ছাড়াই দুই উপজেলায় দিন-রাত মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। আর দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সুবিধা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ বিদ্যুতের মজুদ কম, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি, এরিয়াগত জটিলতা এসব অজুহাত দেখিয়ে প্রতি দিন ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে বাড়ীতে কৃষকদের ধানের পরিচর্যা ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় সমস্যা, মসজিদ গুলোতে আযান দিতে সমস্যা ও মুসল্লিদের ওযুর পানির সমস্যা সহ ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি চালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক লোকসান গুনেতে হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন ব্যাংকসহ সরকারী প্রতিষ্টানগুলোও।

সাধারনত শুক্রবার কিংবা শনিবার বিদ্যুতের চাহিদা অন্য যেকোন দিনের তুলনায় কম থাকে। কিন্তু বিদ্যুতের ভেলকিবাজি আর লোডশেডিংয়ের কবল থেকে শুক্রবার ও শনিবার গ্রাহকরা রেহাই পাচ্ছেন না। অপর দিকে কয়েক দফা বিদ্যুতের মুল্য (ইউনিট) বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের এমন আসা-যাওয়ার খেলায় গ্রাহকদেরকে প্রতি মাসে ভুতড়ে বিল গুনতে হচ্ছে।

কৃষক ও কৃষানিরা অভিযোগ করে বলেন-অতি বৃষ্টির কারনে হাওরের কাচা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যে পরিমান ফসল বাড়ীতে আনা হয়েছে তাও এখ নষ্ট হয়ে যাবে। দিনের বেলা বিদ্যুতের সুবিধা না পাওয়ায় বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে ধান থেকে খড়ের করা গুলো আলাদা করা যাচ্ছেনা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: