বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর-৩ উপনির্বাচন: লাঙ্গলের ঘাঁটিতে আসিফের দিকেই ভোটের হাওয়া  » «   রিফাত হত্যা: যা বললেন সেই রিকশাচালক  » «   চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   সুনামগঞ্জে অজ্ঞাতনামা যুবকের মরদেহ উদ্ধার  » «   বন্দরবাজার থেকে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আফগান প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা, নিহত ২৪  » «   বিভাগীয় শহরে হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র  » «   মৌলভীবাজার থেকে হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার  » «   হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ১৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার  » «   উপজেলা নির্বাচন: হবিগঞ্জ আ.লীগের ১০ বিদ্রোহী প্রার্থীকে শোকজের চিঠি  » «   রোমে যে কারণে আলোচিত প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ  » «   বিকেলে ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   বিতর্কিত আইনে কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গ্রেপ্তার  » «   অপমানজনক বিতাড়ণের আগে সিনেট ও ডাকসু ছাড়ুন: শোভন-রাব্বানীকে ভিপি নুর  » «   পেঁয়াজ নেই, তবুও বিক্রির ঘোষণা টিসিবির!  » «  

বাবা-মায়ের লাশ নিতেও আসে না সন্তানরা!



নিউজ ডেস্ক:: জীবন সায়াহ্নে এসে নানা কারণেই ভাগ্যাহত কিছু মানুষের আশ্রয় জোটে বৃদ্ধাশ্রমে। এরপর পরিজনহীন নিঃসঙ্গ অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। কিন্তু সন্তানরা তাদের লাশ নিতেও আসে না।

এমনই একজন আব্দুল হালিম। মিরপুর এলাকার এই বয়স্ক ব্যক্তির ঠাঁই হয়েছিল কল্যাণপুরের ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ নামে একটি বৃদ্ধাশ্রমে। বৃদ্ধাশ্রমে আসার ছয় মাস পরেই মারা যান তিনি। খবর দেয়া হয়েছিল তার সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের। তবে বাবা মারা যাওয়ার খবর শুনে ৭ ঘণ্টা পার হলেও মিরপুর থেকে কল্যাণপুরে দেখতে আসেনি তার কোনো সন্তান। অবশেষে বৃদ্ধাশ্রমের নিজ খরচে সেই বাবার লাশটি দাফন করা হয়।

এমন অনেক বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে মারা যাওয়ার পর তাদের সন্তানরা লাশটি পর্যন্ত নিতে আসে না বলে জানিয়েছেন ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ নামে ওই বৃদ্ধাশ্রমের মালিক মিল্টন সমাদ্দার।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র মিরপুরের এই আব্দুল আলিমই না ভাই, আরও অনেকের এমন সন্তান দেখেছি। কী বলবো, বলার ভাষা খুঁজে পাই না। ১৪ মাস আমাদের এই বৃদ্ধাশ্রমে থাকার পরে এক বাবা মারা গিয়েছিলেন। এরপর তার পরিবারের লোকদের খবর দিয়েছিলাম। খবর পেয়ে তার পরিবার থেকে ৩টা গাড়ি নিয়ে লাশ দেখতে এসেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তারা কেউই সেই বাবার লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করতে রাজি নয়। পরে আমরাই তার ব্যবস্থা করি।

মিল্টন সমাদ্দার আরও বলেন, আমাদের এখানে গত ৪ বছরে ২৭ জন বাবা-মা মারা গেছেন। যাদের বেশির ভাগকেই আমরা নিজেরা কবর দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা বেশিরভাগ লাশ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করি। তবে একটি স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা থাকলে আমাদের এবং মারা যাওয়া বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্য একটা উপকার হবে। কারণ অনেক বাবা-মা মারা যাওয়ার পরে আমরা তাদের দাফন করে ফেলি। কিন্তু যদি আমাদের নিজস্ব কবরস্থানে দাফন করতে পারতাম, তাহলে কোনো দিন তাদের সন্তানরা আসলে অন্ততপক্ষে দেখাতাম এই যে এটাই তোমার বাবা-মায়ের কবর।

‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ এর এই পরিচালক বলেন, যদি স্থায়ীভাবে আমরা কবর দিতে পারতাম। তাহলে সবগুলো মানুষের একটা করে ছবি তুলে, তাতে একটা করে সিরিয়াল নম্বর দেয়া যেত। আর সেই সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী কবরেরও একটা সিরিয়াল নম্বর থাকতো। তবে অনেক বছর পরেও যদি কোনো সন্তান তাদের ভুল বুঝতে পেরে বাবা-মায়ের কবর খুঁজতে আসেন। তাহলে সেই সিরিয়াল নম্বর ধরে আমরা দেখাতে পারতাম তাদের কবর কোনটি।

অসহায় ও আশ্রয়হীন বৃদ্ধদের খুঁজে খুঁজে নিজের গড়ে তোলা ‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে’ আশ্রয় দেন বৃদ্ধাশ্রমের মালিক মিল্টন সমাদ্দার। মূলত নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনেই ৩২ বছর বয়সী এই যুবক চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটি। নিজের ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সকল বৃদ্ধাদের ভরণপোষণ করান তিনি। আর তার এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী মিঠু হালদার। শুধু বৃদ্ধ নয় মানসিক ভারসাম্যহীন ও প্রতিবন্ধীদেরও আশ্রয় দেন তারা। এমনকি মৃত্যৃর পর তাদের দাফন-কাফনের দায়িত্বও পালন করেছেন এই দম্পতি।

বৃদ্ধ ও ভারসাম্যহীনদের জন্য রাজধানী কল্যাণপুর এলাকায় একটি বাড়ির ছয় তলার নিচ তলার দুই ইউনিট ও আরেকটি দোতলা বাড়ির নিচ তলার পুরোটা নিয়ে তৈরি করছেন চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার নামক ওই বৃদ্ধাশ্রমটি। তার প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন কর্মী রয়েছেন। যারা এসব বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা করেন। বর্তমানে মোট ২৩ জন বাবা ও ৩২ জন মা মিলে মোট ৫৫ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রয়েছেন এখানে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: