সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জি কে শামীম ও খালেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ  » «   ‘মোদি হলেন সন্ত্রাসী,’ হাউসটনে বিক্ষোভে শিখ-কাশ্মীরিরা (ভিডিও)  » «   সাপের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে চা বাগানে স্বর্পভাস্কর্য  » «   মাছ উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম বাংলাদেশ  » «   কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে চমকে দিলেন পুতিন  » «   নবীগঞ্জে ভুয়া সাংবাদিক মনি গ্রেপ্তার  » «   ফতুল্লার ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান শুরু  » «   সৌদিতে শূলে চড়িয়ে শিরশ্ছেদ করে ১৩৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর  » «   কৃষিতে স্বাবলম্বী কামালবাজারের অনেক কৃষক  » «   মোহামেডানসহ মতিঝিলে চার ক্লাবে অভিযান  » «   তাহিরপুরে ১০টি গাঁজার বালিশ উদ্ধার  » «   ফ্রান্সে মসজিদে গাড়ি হামলা  » «   সদলবলে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি-সম্পাদক  » «   মুসলিম যাত্রী থাকায় ফ্লাইট বাতিল করল আমেরিকান এয়ারলাইনস  » «   মধ্যরাতে বনানীতে শাবি ভিসিপুত্রের কাণ্ড!  » «  

বাবা খুন : প্রেমিকের শাস্তি চেয়ে প্রেমিকার মানববন্ধন



full_447713623_1465618757নিউজ ডেস্ক:: ফতুল্লায় আলোচিত মনিন্দ্র অধিকারী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি প্রেমিক তুহিনকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার প্রেমিকা ঝর্ণা রাণী। তাকে অপহরণ করে তুলে নিতে ব্যর্থ হয়েই তার বাবা মনিন্দ্র অধিকারীকে হত্যা করে তুহিনসহ বন্ধুরা।

গতকাল শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে পুরোহিত গোপাল গাঙ্গুলী, সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডেসহ ধর্মযাজক, বৌদ্ধভিক্ষু, মুয়াজ্জিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে অংশ নেয় ঝর্ণা। ওই সময় বক্তারা মনিন্দ্র অধিকারী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি তুহিন আটক না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় ঝর্ণাও তুহিনকে দ্রুত আটকের ও শাস্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। যেখানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। মানববন্ধনে ছিলেন মনিন্দ্র অধিকারীর স্ত্রী প্রজাপতি রায়ও।

প্রসঙ্গত, ফতুল্লার রগুনাথপুর এলাকায় গত ১৬ মার্চ ভোরে প্রেমের সূত্র ধরে স্কুল পড়ুয়া তরুণীকে তুলে নেয়ার সময় বাধা দেন তার বাবা মনিন্দ্র অধিকারী (৪৫)। তখন তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে প্রেমিক তুহিন ও তার সহযোগীরা। প্রেমিক দ্রুত পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধারালো ছুরি ও দু’টি মাইক্রোবাসসহ সাতজন এবং পরে আরো একজনকে আটক করে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী প্রজাপতি রায় বাদী হয়ে আটক আটজনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। কিন্তু মনিন্দ্র অধিকারী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি প্রেমিক তুহিনকে এখনো পুলিশ আটক করতে পারেনি। তুহিন রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতো। যার কারণে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশের দাবি।

ঝর্ণা রানী বলেন, ‘গত বছর রগুনাথপুর এলাকাতে কালীপূজার অনুষ্ঠানে ডিজে পার্টির আয়োজন করে স্থানীয়রা। ওই অনুষ্ঠানেই ডিজে পার্টিতে সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে আসে ঢাকার শ্যামপুর এলাকার জনৈক তুহিনের মালিকানাধীন ‘তুহিন সাউন্ড সিস্টেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানেই তুহিনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তখন ‘তুহিন আমাকে প্রস্তাব দিলেও সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। কারণ তুহিন মুসলমান আর আমি হিন্দু।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায়শই তুহিন আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। আর সে কারণে চাপে পড়ে আমি গত বছর সোনারগাঁয়ে বাংলার তাজমহলে ঘুরতে গিয়েছিলাম। পরে ঢাকার শ্যামপুর ইকোপার্কে ও সবশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি পাগলা মেরি এন্ডারসনে তুহিনের সঙ্গে দেখা করি। এরপর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখি। পরে তুহিন তার বন্ধু তানভীরকে আমাদের বাসায় পাঠায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মারধর করে। ওই সময় তানভীরের পরিবারের লোকজন পুলিশ নিয়ে আমাদের এলাকায়ও গিয়েছিলেন।’

ঝর্ণা বলেন, ‘একদিন ভোর ৪টায় আমাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে তুহিন ও তার বন্ধুরা। তখন বাধা দিতে গেলে আমার বাবাকে তারা ছুরি মেরে হত্যা করে। পরে এলাকার লোকজন ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করে পুলিশে দেয়। ওই সময় পালিয়ে যায় তুহিন ও তার বন্ধু সবুজ।’

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে পাঁচজন। ১০ জন আসামির মধ্যে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন প্রধান আসামি তুহিন ও তার বন্ধু সবুজ পলাতক রয়েছে। তাদের আটকের জন্য চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: