শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপির বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার প্রমাণ নেই : আমু  » «   অংশ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইইউ  » «   কমলগঞ্জে ট্রাক চাপায় তরুণী নিহত,চালক পালাতক  » «   বি. চৌধুরীর চায়ের দাওয়াতে যাচ্ছে ন্যাপ–এনডিপি  » «   নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: ইসি সচিব  » «   ঈশ্বর, মৃত্যু-পরবর্তী জীবন ও স্বর্গ নিয়ে যা ভাবতেন স্টিফেন হকিং  » «   আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক  » «   সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দৃষ্টান্ত: এক উঠোনে মসজিদ-মন্দির  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা দিল সৌদি  » «   দুর্গাপূজা যেভাবে হলো হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব  » «   সিলেটে ফোনে কথা বলা অবস্থায় যুবকের হঠাৎ মৃত্যু  » «   ইরান কখনো পরমাণু বোমা বানাবে না: রুহানি  » «   সিলেটে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  » «   বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «  

বাবরের জন্মদিনের ‘উপহার’ মৃত্যুদণ্ড



নিউজ ডেস্ক:: বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় যে কয়েকজন খুব দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তারেক রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতাই ছিল তার ক্ষমতাবান হয়ে উঠার মূল ভিত্তি। ক্ষমতার দাপটে অল্পসময়েই সারাদেশ তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠা লুৎফুজ্জামান বাবর প্রায় ১১ বছর কারাগারে আছেন। ভাগ্যের এমনই পরিহাস যে, জন্মদিনে তাকে শুনতে হলো মৃত্যুদণ্ডের আদেশ।

এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করা লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্ম ১৯৫৮ সালের ১০ অক্টোবর নেত্রকোনা জেলায়। সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত ‘প্রামান্য সংসদ’ সংকলনে এটি উল্লেখ আছে। সেই হিসেবে আজ (বুধবার) ছিল সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর ৬০ তম জন্মদিন। ক্ষমতায় থাকাকালীন অপকর্ম তার জীবনের এমনই ট্র্যাজিডি নিয়ে এলো যে, জন্মদিনের উপহার হিসেবে পেলেন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিএনপির প্রভাভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তার সময়ের অনেক কিছুই ভুলে যাওয়ার কথা নয়। চলনে-বলনেও তিনি ছিলেন আলাদা। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠার পেছনে তার বিশেষ ভূমিকা ছিল। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েই র‌্যাব ‘ক্রসফায়ারের’ নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে। ১৯৯১ সালে নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও পরাজিত হন। ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হন।

ওই বছর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে বাবর প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী। কিন্তু ক্ষমতা প্রয়োগের মানদণ্ডে বাবর ছাপিয়ে যান মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীকে। মন্ত্রিসভায় হাওয়া ভবনের প্রতিনিধি হিসেব তিনি এতোটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন যে, একটা সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আর কোন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী নিয়োগ দেয়নি সরকার, ফলে বাবর অনেকটা একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি হয়ে যান। কিন্তু কথায় আছে ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। এটা প্রমানিত হলো, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বাবর মৃত্যুদণ্ড পাওয়ায়। এর আগে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

নেত্রকোনায় বাবরের গ্রামের বাড়ি হলেও তিনি বেড়ে উঠেছিলেন ঢাকার মগবাজারে। এইএসসিতে ভর্তি হলেও পাশ করতে পারেননি। তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অপকর্মে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এরশাদ সরকারের আমলের শেষভাগে ঢাকা বিমানবন্দর কেন্দ্রিক চোরাচালান ব্যবসায় জড়িত হয়ে তিনি বিত্তশালী হয়ে ওঠেন বলে বাবরের ঘণিষ্ঠজনরাই জানিয়েছেন।

১৯৯৯ সালে রাজধানীর বনানীতে বিএনপি চেয়ারপারসেনর রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ‘হাওয়া ভবন’ নামে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়। ওই ভবন থেকেই ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং এর পরবর্তী বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে সেটি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান নিজেই ব্যবহার করতে থাকেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই হাওয়া ভবন হয়ে ওঠে ক্ষমতার কেন্দ্র। শুরুতে হাওয়া ভবনে যে বিভিন্ন প্রোগ্রাম হতো সেগুলোর ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হতো লুৎফুজ্জামান বাবরকে। সেসব দায়িত্ব তিনি ঠিক মতো পালন করতেন। এভাবে তারেক রহমানের সাথে তার বিশেষ সখ্য গড়ে উঠে। একসময় বাবর হয়ে ওঠেন তৎকালীন মন্ত্রিসভায় হাওয়া ভবন তথা তারেক রহমানের প্রতিনিধি।

লুৎফুজ্জামান বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকাকালীন বাংলাদেশে বেশ কিছু বোমা হামলার ঘটনা ঘটে এবং জঙ্গি কার্যক্রমের উত্থান ঘটে।জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান এবং সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের উত্থান হয়েছিল ওই সময়েই।প্রতিমন্ত্রী হলেও এককভাবে তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্ব পালনকালেই।আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর সিলেটে গ্রেনেড হামলা, দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণ,সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা এবং সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হবার বাবর গ্রেফতার হন। এরপর আর তিনি মুক্ত হতে পারেননি।একের পর এক মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। গত প্রায় ১১ বছর ধরে লুৎফুজ্জামান বাবর কারাগারেই আছেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: