বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «   ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর  » «   ৪০ ঘণ্টা পর মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই নারী জঙ্গির আত্মসমর্পণ  » «   পূজায় বিজিবিকে মিষ্টি পাঠিয়েছে বিএসএফ  » «   উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ‘ট্রেনে কাটা’ পড়ে মৃত্যু  » «   আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না জঙ্গিরা  » «   শিশু জয়নাব ধর্ষণ-হত্যা : ইমরানের ফাঁসি কার্যকর  » «   ‘বেত ও বেলুন দিয়ে মারে,পরে নখে সুই ঢুকিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়’  » «   বউকে বৃষ্টিতে ফেলে ছাতা মাথায় ট্রাম্প!  » «   ঋণের পরিবর্তে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব ব্যাংক ম্যানেজারের,অতঃপর..  » «   খাশোগি নিখোঁজ, বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা পাচ্ছে সৌদি  » «   নিরাপদ খাদ্যে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি: ক্যাব সভাপতি  » «   শাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ  » «   আত্মসমর্পণ না করলে ‘নিলুফা ভিলায়’ অভিযান আজ  » «  

বাপ-ছেলে মিলে তরুনীকে যৌন নির্যাতন



নিউজ ডেস্ক::পালাক্রমে নির্যাতন। নিষ্ঠুর পাশবিকতা! বাবার পর ছেলে। ছেলের পর ফের বাবা। একই বাড়িতে বাপ-ছেলে মিলে যৌন নির্যাতন। আর সে নির্যাতন থেকে বাঁচতে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা। এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের বেডে শুয়ে দিন পার করছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশের নারী শ্রমিক তানিয়া।

অভাবের সংসারে আলো জ্বালাতে গত ১৭ এপ্রিল সৌদি আরব যান তানিয়া। দেশ ছেড়ে প্রবাসে গেলেও সে আলো আর জ্বালানো হয়নি। এখন প্রায় নিভু নিভু জীবন প্রদীপও।

সূত্র জানায়, এক আদম ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তানিয়া। রিয়াদে গিয়ে এক স্কুল অধ্যক্ষের দুই শিশু সন্তানকে দেখভাল করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সে চাকরি আর ভাগ্যে জোটেনি। তাকে রাখা হয় এক নির্জন বাড়িতে। সেখানেই নেমে আসে জীবনের অন্ধকার অধ্যায়।

যে বাড়িতে তানিয়াকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখা হয় সে বাড়িতে অন্য কোনো নারী ছিলেন না। বাবা আর তিন ছেলের ওই বাড়িতে তানিয়া একাই নারী। যাওয়ার পর থেকেই নির্যাতনের খড়ক নেমে আসে তানিয়ার ওপর। প্রবাস জীবন। ভিনদেশি ভাষা। আপনজনকে না পাওয়া। এমনকি নালিশের জায়গাও না মেলা। এক বর্বর অন্ধকার যুগের অভিজ্ঞতা যেন। বাপ এবং ছেলেরা মিলে পালাক্রমে নির্যাতন। আট দিনের অসভ্য অভিজ্ঞতায় মুক্তির কোনো নিশানা ছিল না এই অসহায় নারীর।

বাপ-ছেলেদের টানা-হেচড়ার সময় একদিন আত্মরক্ষার্থে বাসার ছাদ থেকে লাফ দেন তানিয়া। মুক্তির ঠিকানা পেতে লাফ দিলেও ঠিকানা হয় হাসপাতালে। মারাত্মক আহত অবস্থায় দারোয়ানের সহায়তায় ভর্তি করা হয় কিং খালেদ হসপিটালে।

ওই হাসপাতালের বাংলাদেশি নার্সের মোবাইল ফোন থেকে স্বামী রাসেলকে ফোনে সব ঘটনা খুলে বলেন তানিয়া। এরপর রাসেল আদম ব্যবসায়ী ইকবালের সূত্র ধরে ঘটনার নায়ক ও মূল আদম ব্যবসায়ী এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশাল (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং-আরএল১১৬৬) এর মালিক মকবুল হোসেনকে খুঁজে বের করেন। তানিয়ার সাথে মকবুল হোসেন ও ইকবালের লোকেরাও কথা বলেন।

কিন্তু ভরসা মেলেনি এখনও। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রাসেল সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির দুয়ারে ধর্না দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন দফতরেও ঘুরছেন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। তানিয়ার স্বামী রাসেল একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বিচার পরে, আগে আমার স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।’

এ বিষয়ে এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশালের মালিক মকবুল হোসেন বলেন, মেয়েটি আমার ব্যবসার সর্বনাশ করে দিয়েছে। দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে তাকে আমি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতেছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানিয়া সৌদি আরব যেতে কোনো টাকা না দিলেও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটি এজেন্সি মালিক তানিয়াকে পাঠানো বাবদ নিয়োগ কর্তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা পেয়েছেন।

সম্প্রতি স্রোতের মতো দেশে আসতে শুরু করেছেন সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারীরা। গত দু’দিনে শতাধিক নারী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: