রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে আপত্তি ঐশ্বরিয়ার  » «   কুলাউড়ায় ‘পাগলা হাতির’ আক্রমণে প্রাণ গেল মাহুতের  » «   রোহিঙ্গা সংকটফের বসছে নিরাপত্তা পরিষদ, আসতে পারে কঠোর চাপ  » «   আজ থেকে ত্রাণ বিতরণ করবে সেনাবাহিনী  » «   স্বামীর পরকীয়া দেখে ফেলায় স্ত্রীর সঙ্গে অদ্ভুত কান্ড!  » «   চীনের পাতা ফাঁদে মিয়ানমার  » «   আইটেম গানে নাচবেন শাকিব-মিম  » «   মডেল থেকে জঙ্গি : ল্যাপটপে চাঞ্চল্যকর তথ্য!  » «   ‘উত্তর কোরিয়ার পাগলকে শিক্ষা দিতে যাচ্ছি’  » «   বাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১, দগ্ধ ২  » «   সাপাহারে দূর্গা পূজার প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ: বাঁকী প্রতিমার সাজ সজ্জা  » «   দিনাজপুরে বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু  » «   এবার ধর্ষণের অভিযোগে ফলপ্রিয় ‘ফলাহারি বাবা’ গ্রেফতার  » «   ‘হালে পানি না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিখুঁত প্রচেষ্টায় খুঁত ধরার অপচেষ্টা বিএনপির’  » «   মেক্সিকোয় ভূমিকম্পে ৮ বিদেশি নাগরিক নিহত  » «  

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭০ হাজার



নিউজ ডেস্ক:: মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এবার ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ। অব্যাহত সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্রোত কোনোমতেই থামছে না।
২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার হয়ে তারা ধাপে ধাপে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান।
গত বেশ কয়েক দশক ধরে প্রায় ৫ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বাংলাদেশে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সহিংসতার পর লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। কিন্তু এবার সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে জাতিসংঘ ধারণা করেছিল সংঘর্ষের জেরে এবার তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু ইতিমধ্যেই সংস্থাটির ধারণারও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এমনকি শরণার্থীর ঢল থামার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
এ দিকে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমরা সু-সম্পর্ক চাই। কিন্তু কোনো অন্যায় আমরা মেনে নিতে পারি না। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তাণ্ডব বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘর পোড়ানোর যন্ত্রণা অনুধাবন করতে পারি বলেই মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। যতটুকু পারি আশ্রিতাদের সহযোগিতা দেব। তবে বিশ্ববাসীকেও আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে।’
পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা আপনাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা আপনাদের পাশে থাকব।’
শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গুলিতে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নাফ নদীতে নারী-শিশুর লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এই বর্বর হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।
১১ সেপ্টেম্বর সোমবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যাইদ বিন রাআদ আল হুসাইন বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সেনা অভিযান রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার জন্যই চালানো হচ্ছে।’
রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংস সেনা অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যাইদ বিন রাআদ আল হুসাইন বলেন, রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে যেভাবে সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে, সেটি মনে হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের জন্য ‘জাতিগত নিধনের’ উদাহরণ হয়ে থাকবে।
অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারকে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে না দেয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ণয় করা যাচ্ছে না। গত মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে বিদ্রোহীদের হামলার পাল্টায় যে অভিযান চলছে তা ‘স্পষ্টতই বাড়াবাড়ি’।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে ৩০ টির মতো পুলিশ ফাঁড়ি এবং একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার জের ধরে সহিসংতার শুরু। এরপর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হামলায় প্রায় তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি। কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: