রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে হত্যার হুমকি  » «   স্কুলের ঘন্টা বাজালেন রুহানি!  » «   উল্টো পথে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি: অর্ধশত যানবাহনকে জরিমানা  » «   বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা  » «   সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: চেয়ারম্যানসহ আসামি ৭  » «   ‘আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান সম্ভব’  » «   রোহিঙ্গাদের গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ  » «   অবশেষে রিয়ালের স্বস্তির জয়  » «   সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে চায় অস্ট্রেলিয়া  » «   বালাগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন  » «   তখনও প্রসবকালীন রক্ত ঝরছে তার শরীর থেকে  » «   টাঙ্গাইলে চলছে ভোটগ্রহণ  » «   কিশোরী স্কুলছাত্রীদের যৌনদাসী বানিয়ে রাখেন কিম!  » «   বুদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে যে খাবার  » «   আইফোনের তুলনায় পাঁচ গুণ সস্তা টাইগাফোন  » «  

বাংলাদেশের রাজকোষ চুরি: অভিযুক্ত মায়া দিগুইতো



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বাংলাদেশের রাজকোষ চুরিতে অভিযুক্ত হয়েছেন ফিলিপাইনের সেই মায়া সান্তোস দিগুইতো। সঙ্গে আরো চারজন অভিযুক্ত
হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠন করেছে ফিলিপাইনের আইন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকা ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের জুপিটার শাখার বরখাস্তকৃত ম্যানেজার মায়া সান্তোস দিগুইতো। অভিযুক্ত অন্য চারজন হলেন মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার এম ল্যাগ্রোসাস, আলফ্রেড সান্তোস ভারগারা ও এনরিকো তিওডোর ভাসকুয়েজ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এবিএস-সিবিএন নিউজ। এতে বলা হয়, গত ৩০শে আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তিন পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী চারজনের ভুয়া ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করা হয় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে এবং ওই একাউন্টের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের রাজকোষ চুরির অর্থ নগদায়ন করা হয় বা স্থানান্তরিত করা হয়। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের অফিসার ইনচার্জ সিনিয়র ডেপুটি স্টেট প্রসিকিউটর এমিলি ফি ডেলোস সান্তোষ ওই অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন। এটা অনুমোদন করেছেন প্রসিকিউটর জেনারেল সেভারিনো গানা জুনিয়র। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের মাকাতি সিটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ষড়যন্ত্র করে, পারস্পরিক যোগসাজশে, একে অন্যের সহযোগিতায় ইচ্ছাকৃতভাবে, সজ্ঞানে ওই অর্থ পাচার করেছেন। এর মধ্যে সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং নামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক উইলিয়াম সো গো’র অনিয়মিত একাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে এক কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার এক শত ৮৫ দশমিক ৫৪ ডলার। এক্ষেত্রে কাস্টমার বিষয়ক যে রীতিনীতি তা অনুসরণ করা হয় নি। অনিয়ম জানা সত্ত্বেও তারা ওই অর্থ উইলিয়াম সো গো’র একাউন্টে আসা অনুমোদন করে। এছাড়া সংশ্লিষ্টরা জানতেন এই অর্থ বাংলাদেশে পাচার হওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের অংশ। অর্থাৎ তারা এর মধ্য দিয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। আইন মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে যে, অভিযুক্তরা জানতেন এই কর্মকাণ্ড অন্যায়। এক্ষেত্রে তারা যেসব অন্যায় করেছেন তা হলো: ইলেকট্রনিক কমার্স অ্যাক্ট বা ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছেন। বাংলাদেশের শাস্তিবিধির আইন লঙ্ঘন করেছেন। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ রাখা ছিল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। সেখানকার সুইফট কোড ভেঙে অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিয়েছিল আন-অথরাইজড কেউ। উপরে যে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের নামে আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখায় সঞ্চয়ী হিসাবে ওই অর্থ জমা করতে ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়েছিল। ওই চারজন হলেন ক্রুজ, ল্যাগ্রোসা, ভারগারা ও ভাসকুয়েজ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে আটটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে অর্থ পাচারের সেই পাচার হয়েছে ব্যাংকের মাকাতি সিটির ৪টি শাখার মাধ্যমে। এর মধ্যে ১৪৯ নম্বর শাখার মাধ্যমে ৩টি, ১৪৬ নম্বর শাখার মাধ্যমে ২টি, ১৪২ নম্বর শাখার মাধ্যমে একটি ও ৫৯ নম্বর শাখার মাধ্যমে ২টি পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিজনের অস্থায়ী জামিনের জন্য চাওয়া হয়েছে এক লাখ পেসো। ওদিকে মানি এক্সচেঞ্জ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের মালিক মাইকেল ও সালুদ বাউতিসস্তা, ফিলরেমের অর্থ পাচার বিরোধী কর্মকর্তা অ্যান্থনি সি পেলেজোকে এই অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ একাউন্ট হ্যাক করা হয় ২০১৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি। সেখান থেকে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চুরি করা অর্থ চলে যায় ফিলিপাইনের আর্থিক ব্যবস্থায়। এ মামলায় আরসিবিসি ব্যাংকের আরো কয়েকজন নির্বাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় আলাদা মামলায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন রিটেইল ব্যাংকিং গ্রুপের প্রধান রাউল ভিক্টর বি তান, ন্যাশনাল সেলস ডিরেক্টর ইসমায়েল আর রইস, রিজিওনাল সেলস ডিরেক্টর ব্রিজিত আর ক্যাপিনা, ডিস্ট্রিক্ট সেলস ডিরেক্টর নেস্তর ও পিনেডা, কাস্টমার সার্ভিস প্রধান রোমুয়ালডো এস আগারাডো, সিনিয়র কাস্টমার রিলেশন অফিসার অ্যাঞ্জেলা রুথ এস টোরেস। তবে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা এখনো জানা যায় নি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: