শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ক্যালিফোর্নিয়া দাবানল: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯  » «   রোহিঙ্গারা স্লোগান দিচ্ছে ‘ন যাইয়ুম, ন যাইয়ুম’  » «   প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষায় থাকছে না এমসিকিউ  » «   ঐক্যফ্রন্টের সব দলের প্রতীক ধানের শীষ  » «   চিকিৎসা নিয়ে খালেদার রিটের আদেশ রোববার  » «   বিএনপি জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন খালেদা জিয়া  » «   নয়াপল্টনে সংঘর্ষ: ৩ মামলায় গ্রেফতার ৫০  » «   ভোটের ২-৩ দিন আগে মাঠে সেনাবাহিনী থাকবে: ইসি সচিব  » «   ওমরাহ শেষে বিমানেই মারা গেল চার বছরের শিশু  » «   শরিকদের সর্বোচ্চ ৬০ আসন ছাড়ার কথা ভাবছে বিএনপি  » «   বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা  » «   আজ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু: ফিরছেন ১৫০ রোহিঙ্গা  » «   সিলেট-২: বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ইলিয়াসপত্নী লুনা  » «   তফসিল পেছানোর দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট  » «   সংসদ নির্বাচন: হেভিওয়েট প্রার্থীরা কে লড়বেন কার বিপরীতে  » «  

‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো উন্নয়ন ঘটেনি’



babgladesh20160422052955নিউজ ডেস্ক: ‘২০১৫ সালে আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। দু’টি প্রধান বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার উত্তেজনা অমীমাংসিত রয়েছে’।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন কথাই বলা হয়েছে।

২০১৫ সাল নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সমস্যা হিসেবে অসাম্প্রদায়িক ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট হত্যা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, স্বাধীন মত প্রকাশে বাধার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তা আইনের খসড়ায় এনজিও’র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিচার বিভাগ নিয়ে দাবি করা হয়, বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশে সহিংসতার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। মানুষ নিজ হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। এনজিওগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, বিচার বহির্ভুত হত্যা এবং জোর করে গায়েব করে দেওয়ার ঘটনাগুলো ঘটছে। যদিও মৃত্যুদণ্ড এখনো বাংলাদেশে আইনসিদ্ধ। ২০১৫ সালেই পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দোষী প্রমাণিত হওয়া তিন জনসহ আরো দুই জন। এনজিওগুলো অব্যাহতভাবে আইসিটির স্বাধীনতা এবং এর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগ পুনর্গঠনে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো ৩৭ লাখ পাউন্ড সহায়তা করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের পুলিশের পুনর্গঠনের জন্যও ১২ লাখ পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নারীদের অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়টি তুলে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীরা বেশ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। প্রচুর নারীরা বর্তমানে সরকারি ও তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছেন। যদিও এখনো একজন পুরুষের সমান সামাজিক মর্যাদা একজন নারীর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এখনো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। আর বাল্যবিবাহও এখনো উল্ল্যেকযোগ্য চিন্তার কারণ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

গত বছরের শেষে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলকে দলীয় প্রতীকে হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ
করা হয়। ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনও সবার অংশগ্রহণে হওয়ার ওপর জোর দিয়ে এজন্য সব দলকে এগিয়ে আসার আহবান জানায় যুক্তরাজ্য।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা বাংলাদেশের সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতার কথাও বলেছে যুক্তরাজ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ৩০টি দেশ। এগুলোর মধ্যে মিসর, ইরাক, ইরান, কঙ্গো, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, সুদান, চীন ও মায়ানমারের নাম রয়েছে।

বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের আগে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম, ব্লগার হত্যা, সংবাদপত্র ও অনলাইনে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: