শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শহীদদের স্মরণে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন  » «   ইসি সংবিধান লঙ্ঘণ  করছে : মোমিন মেহেদী  » «   সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ পাসের হার ৯৫.৩১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩৭ জন  » «   চিঠিতে হত্যার হুমকি‘আপনার মৃত্যু অনিবার্য, সাবধান হয়ে যান’  » «   তামিল অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  » «   রবিবার স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ  » «   স্বর্ণের দাম ভরিতে কমলো ১১৬৬ টাকা  » «   স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটার জন্য লোক ভাড়া করেন স্ত্রী, এরপর…  » «   ইসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মীদের অসন্তোষ  » «   এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন কবে থেকে শুরু?  » «   বিয়ে করতে না পেরে কিশোরের এ কেমন পাগলামি!  » «   বন্ধুর মুখে বন্ধুকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা!  » «   ব্রাজিল ছেড়ে পর্তুগালে যোগ দিবেন কুতিনহো?  » «   ‘মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি এদেশে রাজনীতি করতে পারবে না’  » «   ৯০ দিন বাড়ল কোটা পর্যালোচনা কমিটির মেয়াদ  » «  

‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো উন্নয়ন ঘটেনি’



babgladesh20160422052955নিউজ ডেস্ক: ‘২০১৫ সালে আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। দু’টি প্রধান বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার উত্তেজনা অমীমাংসিত রয়েছে’।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন কথাই বলা হয়েছে।

২০১৫ সাল নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সমস্যা হিসেবে অসাম্প্রদায়িক ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট হত্যা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, স্বাধীন মত প্রকাশে বাধার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তা আইনের খসড়ায় এনজিও’র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিচার বিভাগ নিয়ে দাবি করা হয়, বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশে সহিংসতার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। মানুষ নিজ হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। এনজিওগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, বিচার বহির্ভুত হত্যা এবং জোর করে গায়েব করে দেওয়ার ঘটনাগুলো ঘটছে। যদিও মৃত্যুদণ্ড এখনো বাংলাদেশে আইনসিদ্ধ। ২০১৫ সালেই পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দোষী প্রমাণিত হওয়া তিন জনসহ আরো দুই জন। এনজিওগুলো অব্যাহতভাবে আইসিটির স্বাধীনতা এবং এর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগ পুনর্গঠনে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো ৩৭ লাখ পাউন্ড সহায়তা করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের পুলিশের পুনর্গঠনের জন্যও ১২ লাখ পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নারীদের অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়টি তুলে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীরা বেশ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। প্রচুর নারীরা বর্তমানে সরকারি ও তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছেন। যদিও এখনো একজন পুরুষের সমান সামাজিক মর্যাদা একজন নারীর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এখনো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। আর বাল্যবিবাহও এখনো উল্ল্যেকযোগ্য চিন্তার কারণ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

গত বছরের শেষে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলকে দলীয় প্রতীকে হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ
করা হয়। ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনও সবার অংশগ্রহণে হওয়ার ওপর জোর দিয়ে এজন্য সব দলকে এগিয়ে আসার আহবান জানায় যুক্তরাজ্য।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা বাংলাদেশের সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতার কথাও বলেছে যুক্তরাজ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ৩০টি দেশ। এগুলোর মধ্যে মিসর, ইরাক, ইরান, কঙ্গো, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, সুদান, চীন ও মায়ানমারের নাম রয়েছে।

বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের আগে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম, ব্লগার হত্যা, সংবাদপত্র ও অনলাইনে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: