সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
৩০০ আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ ইসির  » «   পাকিস্তানি স্নাইপারের গুলিতে ৩ ভারতীয় সেনা নিহত  » «   সংসদ নির্বাচনে মাশরাফি : কী বলছে ক্রিকেটীয় আইন?  » «   তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনঃতফসিল: ৩০ ডিসেম্বর ভোট  » «   আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর  » «   রামমন্দির নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান মুসলিমরা: আব্বাস নাকভি  » «   জ্বলছে ক্যালিফোর্নিয়া! আতঙ্কে বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড তারকারা  » «   বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, খালেদার জন্য ৩ আসনের ফরম  » «   গাজায় ইসরাইলি সেনাদের কমান্ডো হামলায় ৭ ফিলিস্তিনি নিহত  » «   খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজ দেখা করবেন বিএনপি নেতারা  » «   বিএনপির কাছে যেসব আসন দাবি করেছে শরিকরা  » «   নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে- প্রধানমন্ত্রী  » «   রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে ট্রানজিট ক্যাম্প প্রস্তুত  » «   সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন কিনলেন কামরান  » «  

বাংলাদেশের দিকে কেউ আর করুণার চোখে তাকাবে না: প্রধানমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক::প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতির সুখবর পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যারা করুণার চোখে আমাদের দিকে তাকাতো, ঋণ নিতে গেলে হাজার রকম শর্ত জুড়ে দিতো দুর্নীতি না করলেও অপবাদ দিয়ে প্রজেক্টের টাকা বন্ধ করতো, এখন আর এটা করতে পারবে না। সেই সাহস আর পাবে না।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবাষির্কী ও জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের ঋণ পেতে অসুবিধা হবে না। হয়তো একটু সুদ বেশি দিতে হবে। তাতে কিছু আসে-যায় না। ওইটুকু আমরা দিতে পারি।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার জন্ম হয়েছিল বলেই আমরা দেশ পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি। মর্যাদা পেয়েছি। আজকে তার জন্মদিনে আমাদের জন্য সুখবর এসেছে আমরা উন্নয়নশীল দেশের। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আমাদের জন্য আর কিছু হতে পারে না। এবারের স্বাধীনতা দিবসও আমরা ভিন্ন আকারে করবো। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবো।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা একসময় বলতো বাংলাদেশ বটমলেস বাক্সেট হবে, আজ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে তাদের জবাব দিয়ে দিয়েছি। জাতির পিতার জন্মদিনের প্রতিজ্ঞা হবে, এই দেশকে নিজেদের জীবনের সব কিছু ত্যাগের বিনিময়ও আমরা উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবো।

বাংলার মানুষকে স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সেই পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। এক শ্রেণির মানুষকে ‘আ তু’ করে ডাক দিলেই ছুটে যেতেন একটু মন্ত্রী হওয়ার লোভে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে কখনও লোভ দেখিয়েও নিতে পারেনি, শত প্রলোভন দিয়েও তাকে কিনতে পারেনি। তিনি মানুষের অধিকারের কথা বলে গেছেন। অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।

সত্তরের নির্বাচনটা ছিল আন্দোলনের অংশ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আব্বার মাঝে দূরদৃষ্টি ছিল। কী হবে, তা জানতেন। তিনি জানতে পেরেছিলেন ৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করবে কিন্তু পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে দেবে না। আল্টিমেটলি যুদ্ধ করে আমাদের দেশ স্বাধীন করতে হবে। এজন্য তিনি জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও বাংলাদেশের নামও ঠিক করে রেখেছিলেন। সব কিছু তিনি পরিকল্পিতভাবেই করেছিলেন। এ জন্যই আমাদের সফলতা এসেছিল।

সত্তরের নির্বাচন বানচাল ও ৬ দফা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় অনেকে অনেক নাটক করেছেন। অনেক খেলাও খেলেছেন। আওয়ামী লীগের বোধ হয় একটা দুর্ভাগ্য আছে যে, দল যখন খুব ক্রাইসিসে পড়ে, তখন বড় নেতারা মাথা ঠিক রাখতে পারেন না। কোনও মতে ওখন থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। আমাদের অনেক নামিদামি নেতারা নেমে পড়লেন। ছয় দফা না আট দফা, তা নিয়ে বিরাট বিতর্ক। পাকিস্তান থেকে আসা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আট দফা হলে কী কী হবে, তার পক্ষে যুক্তি দিতে থাকছেন। আট দফার লাভ লোকসান নিক্তির ওজনে মাপা হলো।

ওই সময় আমাকেও তর্ক করতে হয়েছে। আমি নিজেও প্রতিবাদ করেছিলাম ছয় দফা ছাড়া কিছু চলবে না। আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হলো। সেখানে মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই ৬ দফার পক্ষে ছিলেন।

সাত মার্চের ভাষণেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার কথা বলে গেছেন, তা পাকিস্তানিরা ধরতে না পারলেও বঙ্গবন্ধু যাদের নির্দেশনা দিয়ে যান, তারা ঠিকই বুঝতে পারেন। তিনি এত কায়দা করে স্বাধীনতার কথা বলতেন, যেন তিনি দেশদ্রোহী না হন। কারণ তিনি জানতেন দেশদ্রোহীর অভিযোগ উঠলে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পাবেন না।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে, একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করা, মাত্র নয় মাসের মাথায় সংবিধান দেয়া আর একবছরের মধ্যে নির্বাচন দেয়া সহজ কাজ ছিল না। আজ যখন যে কাজে হাত দিতে যাই, দেখি তিনি (বঙ্গবন্ধু) তা করে দিয়ে গেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ স্বল্পোন্নত দেশে পরিচিত পায়।

আজ সেখান থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেলাম। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের মতে কালো দিবস চলে না এলে এই অর্জন আরও অনেক আগেই হতো। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আর ৫টি বছর হাতে পেলে স্বাধীনতার দশ বছরে দেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতো।

বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতি করতে গিয়ে নানা বাধার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে এসে যখন রাজনীতি শুরু করি, তখন পদে পদে বাধার সম্মুখীন হই। তবে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমর্থন পেয়েছি সবসময়। হয়তো ওপরে কিছু কিছু মাঝে মধ্যে একটু টালমাটাল হয়েছে কিন্তু আমার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কখনো আমার থেকে দূরে যাননি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে মানুষের জন্য কিছু করা যায়, আমরা তা প্রমাণ করেছি। আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছি বলেই আজকে উন্নয়ন মানুষ পাচ্ছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: