রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লাগামহীনভাবে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য: রমজানপূর্ব মজুদদারিতে কারসাজি  » «   সন্ত্রাস ও হিংসা মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে পাকিস্তানকে আহ্বান মোদির  » «   সংসদে লুকিয়ে চকলেট খেয়ে ক্ষমা চাইলেন ট্রুডো!  » «   নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে অন্যরকম সম্মান দেখালো আরব আমিরাত  » «   ‘ইসলাম গ্রহণ করবেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট’  » «   শাহজালাল বিমানবন্দরে ময়লার ঝুড়ি থেকে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার  » «   ভারতে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রথম তালিকা ঘোষণা করলো বিজেপি  » «   সিলেটে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল সিলসিলার ম্যানেজারের  » «   নিজের চেয়ার ছেড়ে জহিরুলের পাশে এসে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী  » «   সিলেটে নির্মাণ হতে যাচ্ছে স্মৃতিসৌধ,পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার  » «   সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের ১০ ধাপ অবনতি  » «   জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু  » «   আইডিয়া’র ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে র‍্যালি, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  » «   উন্নয়ন করতে গিয়ে জীবন ও জীবিকার যেন ক্ষতি না হয় : প্রধানমন্ত্রী  » «   আজ দিন রাত সমান, আকাশে থাকবে সুপারমুন  » «  

বরিশালের জন্মভিটায় এসে কাঁদলেন পশ্চিমবঙ্গের স্পিকার



বরিশাল ব্যুরো: বরিশালে দিনভর ঘুরলেন, করলেন স্মৃতিচারণ। ৬৭ বছর পর বরিশালে এসে নিজের জন্মভিটায় ঘুরে গেলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিপিএ কনফারেন্সে যোগ দিতে তিনি বাংলাদেশে আসেন।

আজ সকালে তিনি শিশুকালের স্মৃতি খুঁজতে বরিশাল নগরের জীবনানন্দ দাশ সড়ক সংলগ্ন ডগলাস বোর্ডিং (সেন্ট অ্যানেস মেডিকেল সেন্টার) পরিদর্শনে যান। সেখানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

সেন্টারটি পরিদর্শনের পর সেখানকার সেবিকাদের সহযোগিতায় নিজের জন্ম রেজিস্টারটিও খুঁজে পান তিনি। পরিদর্শন-কালে রেজিস্টারে তার মায়ের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রেজিস্টার অনুযায়ী ১৯৪৫ সালের ৩০ আগস্ট এখানে জন্মগ্রহণ করেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ১৪৫০। ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশ থেকে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার ভারতে চলে যায়।

কিছুক্ষণ স্মৃতিচারণ করে সেখান থেকে চলে যান সরকারি বরিশাল কলেজে। কলেজটির দীর্ঘ বছরের পুরনো তমাল গাছের নিচেই কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি।

এরপরেই স্ত্রী নন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ছুটে যান নগরীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন কলেজ সংলগ্ন নিজের পৈতৃক ভিটায়। তার বড় বোনের কাছে এখানে তাদের বাড়ি থাকার কথা শুনেছেন। বড় বোনের কথা অনুযায়ী কলেজের শহিদ মিনার গেটের বিপরীতে তার বাড়িটি ঘুরে দেখেন। তবে সেই বাড়ি দেশ ত্যাগের সময় বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্মভিটা পরিদর্শনের সময় কেঁদেছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরবর্তীতে বিএম কলেজ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, নিজের জন্মভিটা পরিদর্শনের এ অনুভূতি বলে বোঝাতে পারবো না। একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে শিশুবয়সে পিতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল আমাদের পুরো পরিবারকে। কলকাতায় গিয়েও একটা করুন অবস্থার মধ্যে পরেছিলাম। অনেকদিন ধরেই বুকের ভেতর চাঁপা প্রত্যাশা ছিল জন্মভূমিতে আসার। আজ সে আশা পুরন হয়েছে। একইসাথে বরিশালের আতিথিয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সু-সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত সু-সম্পর্ক এবং সে সম্পর্কটা বজায় থাকবে এটা আমি বিশ্বাস করি। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের পারস্পারিক স্বার্থ বিষয়ে সেরকম কোন মতবিরোধ আছে বলে আমার মনে হয়না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চান বাংলাদেশের মানুষ সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক।

বরিশালে নিজ জন্মস্থান ও পূর্বপুরুষের বসত-ভিটা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্পীকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে। বিষয়টি দুদেশের ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলার বলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে নতুন করে বলার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশভাগের সময় জন্মস্থান ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিলো পুরো পরিবারকে।

তখনকার বরিশাল আর এই বরিশালের পার্থক্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখনকার বরিশাল এত উন্নত ছিল না। তখন রাস্তাঘাট ছিল না। গ্রাম্য পরিবেশ ছিল। তবে ডগলাস বোর্ডিংয়ের (যেখানে তিনি জন্মেছেন) চিকিৎসা ব্যবস্থাও উন্নত ছিল। ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশ থেকে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার ভারতে চলে যান।

সফরকালে তার সঙ্গে ছিলেন, স্ত্রী নন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রেস ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচার এটাচে রঞ্জন মণ্ডল।

শুক্রবার বেলা এগারোটায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতি মনসা মঙ্গলের কবি বিজয় গুপ্তের প্রতিষ্ঠিত আগৈলঝাড়ার গৈলার মনসা মন্দির পরিদর্শন করেন। বিকেলে বরিশাল মহাশ্মশান ও চারণ কবি মুকুন্দ দাশ প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দির দর্শন করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতি।

এবং সবশেষে শনিবার সকাল ১০টায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত, বেলা ১১টায় নগরীর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে সুধী জনদের সাথে মতবিনিময় ও কবি জীবনানন্দ দাশ লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে দুপুরে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করবেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: