বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিখোঁজ’ সংবাদটি গুজব  » «   আবারও সমুদ্রে ভাসতে চলেছে টাইটানিক  » «   সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  » «   নির্বাচনের আগে ওয়াজ মাহফিল নয়: ইসি  » «   আসন বন্টনের বিষয়ে সমঝোতা হয়ে গেছে: ওবায়দুল কাদের  » «   আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)  » «   ড. কামালের কাছে ক্ষমা চাইলেন ফখরুল  » «   জঙ্গিবিরোধী অভিযান: খেলনা বন্দুক-জিহাদি বইসহ যুবক আটক  » «   কাবুলে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৪৩  » «   তারেককে ঠেকাতে আদালতে যাবে আওয়ামী লীগ  » «   ইসি সচিব, ডিএমপি কমিশনারসহ ৪ জনের শাস্তি দাবি  » «   ভারতে অস্ত্র গুদামে বিস্ফোরণ : নিহত ৬, আহত ১৮  » «   ‘ছোলপোলের খোঁজ লেয় না, আবার এমপির ভোট করিচ্চে’  » «   হিরো আলমকে নিয়ে মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন  » «   এইডসের ঝুঁকিতে সিলেট, মৌলভীবাজার  » «  

বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল, ৪০ দিনে ১৭ জনের মৃত্যু!



নিউজ ডেস্ক::কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শুরু হয় ভয়ংকর বজ্রপাত। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন জেলাবাসী। সবশেষ বজ্রপাতের রেকর্ড অনুযায়ী, গত এপ্রিলেই কিশোরগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি মে মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত মৃত্যুর এই মিছিলে যোগ হয়েছে আরো ৬জন। এর আগে গত ৩০শে মার্চ মৃত্যু হয় একজনের। ফলে মাত্র ৪০দিনের ব্যবধানে জেলায় বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটেছে ১৭জনের। আর ২০১১ সাল থেকে এই আট বছরে কিশোরগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫জনে।

বছরওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে এ জেলায় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই বছরে ২২জন করে মোট ৪৪ জন নিহত হওয়া ছাড়াও অসংখ্য মানুষ বজ্রপাতের শিকার হয়ে আহত হন। এছাড়া ২০১৭ সালে ১৮জন, ২০১১ সালে ১৬জন, ২০১৫ সালে ১৩জন, ২০১২ সালে ১০ জন এবং ২০১৪ সালে ৭জন বজ্রপাতে নিহত হন।

উপজেলাওয়ারি হিসেবে দেখা গেছে, জেলার মধ্যে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ইটনা উপজেলায়। ২০১১ সাল থেকে এই পর্যন্ত ইটনায় উপজেলায় বজ্রপাতে মোট ২৪জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরপরে রয়েছে নিকলী উপজেলা। নিকলী উপজেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ২০জনের। এরপরে মিঠামইন উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১৭জন। অষ্টগ্রাম উপজেলায় ১৪জন। করিমগঞ্জ উপজেলায় নিহত হয়েছেন ১০জন, বাজিতপুর উপজেলায় নিহত হয়েছেন ১০জন, তাড়াইল উপজেলায় মারা গেছেন ৭জন। কটিয়াদী উপজেলায় প্রাণহানি হয়েছে ৬ জনের। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে মারা গেছেন ৫ জন। পাকুন্দিয়া উপজেলায় মারা গেছেন ৫ জন। হোসেনপুর উপজেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলায় ২ জন করে মোট ৪ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন।

অনুসন্ধান ও গবেষণা দেখা গেছে, জেলার সম্পূর্ণ হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলো হচ্ছে- ইটনা, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও নিকলী। বজ্রপাতের প্রাণহানির ঘটনা সেখানেই বেশি ঘটছে। এছাড়া করিমগঞ্জ, কটিয়াদী, বাজিতপুর, তাড়াইল, ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলার অংশবিশেষ হাওর এলাকায় অবস্থিত। সেসব স্থানেও বজ্রপাতে মানুষ হতাহত হচ্ছে। বজ্রপাতে হতাহতদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে, ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে, জমিতে কাজ করতে গিয়ে কিংবা মাছ ধরতে গিয়ে। ফলে বজ্রপাত ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে হাওরের কৃষক, কৃষি শ্রমিক এবং জেলেদের মাঝে। এবারের বোরো মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক সংকটের পেছনে বজ্রপাত ভীতি কাজ করেছে বলে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

সেভ দ্য সোসাইটি এন্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সেক্রেটারি রাশিম মোল্লা বলেন, বড় গাছগুলোকে আমরা কেটে ফেলছি, যে গাছগুলো মানুষকে রক্ষা করতো। তিনি আরো বলেন, শহরে ঘরবাড়ির সংখ্যা বেশি ও বজ্রনিরোধক থাকায়, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা কম হয়। কিন্তু গ্রামে এই নিরোধক হিসেবে কাজ করতো যেসব গাছ, তার সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানি বেশি ঘটছে।

গ্রামে বজ্রাঘাতে বেশি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে রাশিম মোল্লা বলেন, আগে কৃষিতে ধাতব যন্ত্রপাতির ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। কৃষকের কাছে বড়জোড় কাস্তে থাকতো। কিন্তু এখন ট্রাক্টরসহ নানা কৃষি যন্ত্রাংশ বা মুঠোফোনের মতো ধাতব যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে গেছে। এসব ধাতব বস্তুর ব্যবহার বজ্রপাতে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় নেই। কিন্তু কিছু পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপদ থাকা যেতে পারে। বজ্রপাতের বিষয়ে সতর্ক করা হলে ঘর থেকে বের না হওয়া, জুতা পরে বের হওয়া, বাড়িতে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবহার করা এবং বজ্রপাতের সময় সমান্তরালভাবে শুয়ে পড়ার মাধ্যমে নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: