সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রথমবার সিলেট-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে উড়বে ইউএস-বাংলা  » «   ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ইন্দোনেশিয়ায়-জাপান-অস্ট্রেলিয়া  » «   ভোটকেন্দ্রেই ঘুমিয়ে পড়লেন কর্মকর্তা  » «   ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় পিটিয়ে মুসলিম যুবককে হত্যা  » «   নয়াপল্টনে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ  » «   অফিসে বসে বসে শুধু কি চা খাইলে হবে? দেশপ্রেম থাকতে হবে: হাইকোর্ট  » «   বিকেলের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ হবে: রেলসচিব  » «   বাংলাদেশের নামে সড়কের নামকরন যুক্তরাষ্ট্রে  » «   সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমছে না : টিআইবি  » «   দেশসেরা প্রধান শিক্ষক হবিগঞ্জের শাহনাজ কবীর  » «   বাঘের খাবারও চুরি হয় ঢাকা চিড়িয়াখানায়, ফেসবুকে ভাইরাল  » «   দুই মাস ওমরাহ ভিসা স্থগিত করল সৌদি  » «   বীমার আওতায় যেসব সুবিধা পাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীরা  » «   কারাগারে সুনামগঞ্জের আ. লীগ নেতা শামীম আহমদ  » «   মুক্তি পেয়ে নতুন যে বাড়িতে থাকবেন খালেদা  » «  

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকালো সেতু কর্তৃপক্ষ



নিউজ ডেস্ক:: টোলের জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায়কারী কর্মীরা। শুক্রবার (৭ জুন) দুপুরে আগুনের খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যায় টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশনের একটি দল। কিন্তু টোল দিতে না পারায় ফেরত আসতে হয় তাদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশনে ফোন আসে। বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর একটি গাড়িতে আগুন লেগেছে বলে ফোনে জানানো হয়। এ খবর পেয়ে ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশন থেকে একটি দল বঙ্গবন্ধু সেতুর দিকে রওনা দেয়। সেতুতে পৌঁছানোর পর তাদের গাড়ি আটকে দেন টোল আদায়কারী কর্মীরা। সেতুর ওপর একটি গাড়িতে আগুন লাগার কথা জানালেও তাদের আটকে রাখা হয়। ৮৫০ টাকা টোল না দিলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া হবে না বলে জানান কর্মীরা।

তখন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন টোল প্লাজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ সময় পাভেল নামের একজন এসে বলেন, টোল না দিলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে দেওয়া হবে না। পরে তারা ফায়ার স্টেশনে ফেরত আসে। টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘তাদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আগুনের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ছুটে এসেছি; তাই টোল দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসা হয়নি। একপর্যায়ে পাভেল নামের এক ব্যক্তি এসে বলেন—তিনি সিসি ক্যামেরায় দেখেছেন সেতুতে কোনও গাড়িতে আগুন লাগেনি। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি—৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে এখানে এসেছি। তারপরও তারা যেতে দেননি। বাধ্য হয়ে আমাদের ফেরত আসতে হয়েছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘একমাত্র বঙ্গবন্ধু সেতুতেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির টোল চাওয়া হয়। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’ তিনি টোল আদায়কারীদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় করতো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড (সিএনএস) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টোল আদায় করছে। টোল আদায়ের জন্য সফটওয়্যার সহায়তা দিচ্ছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড।

এ প্রসঙ্গে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড (সিএনএস)-এর নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান সরওয়ার বলেন, ‘আমরা আগে টোল আদায় করতাম। বর্তমানে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করছে। তারা শুধু আমাদের সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন। এর আগে টোল আদায়ে আমাদের যে জনবল ছিল, এখন তারা সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন। এখন আর টোল আদায়ে আমাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।’

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির টোল আদায় প্রসঙ্গে জিয়াউল আহসান সরওয়ার বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন নীতিমালা দেখেছি। সেখানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতির ছাড়া সবার গাড়ির টোল দিতে হবে। নীতিমালায় অন্য কারও জন্য শিথিলতা নেই। সেটা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স যা-ই হোক।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: