শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
কাশ্মীর বিদ্রোহী নেতার নামে পাকিস্তানের ডাকটিকিটি প্রকাশ  » «   সংসদ নির্বাচনে হুমকি ‘সাইবার ক্রাইম’, গুজব ঠেকাতে সজাগ পুলিশ  » «   তাঞ্জানিয়ায় ফেরি ডুবি, নিহত বেড়ে ১৩৬  » «   আইনগত অনুমোদন পেলেই সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার: সিইসি  » «   সরকারি চাকরিজীবীদের কার জন্য কত টাকা গৃহঋণ  » «   গণেশের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন: হিন্দুদের কাছে ট্রাম্পের দলের দুঃখ প্রকাশ  » «   প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলো কোটা বাতিলের সুপারিশ  » «   রেলের আধুনিকায়নে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প  » «   কেন মুনকে বিশেষ সেই ‘পবিত্র পর্বতে’ নিয়ে গেলেন কিম?  » «   সুখোই কিনলে ভারতকেও নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হবে!  » «   প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের পথে লন্ডন পৌঁছেছেন  » «   তাঁতশিল্প আধুনিকায়নে বিশেষ উদ্যোগ, বাড়ছে ঋণ  » «   আফগানিস্তানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৫  » «   রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে দুই পুরস্কার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ডিজিটাল পাঠ্যবই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্য সহায়ক হবে: শিক্ষামন্ত্রী  » «  

বউ-শাশুড়ি হত্যা: রুমিকে ফোনে বিরক্ত করতো বখাটে শুভ



হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে আলোচিত বউ-শাশুড়িকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় রুমির ফেইসবুক একাউন্টের সূত্র ধরে আটককৃত শুভ রহমান রুমিকে প্রায়সময়ই ফোনে বিরক্ত করতো। এবিষয়টি রুমি আর কাউকে না জানালেও তার বড় ভাই এনামুলকে অবগত করেন। পরে রুমিকে যাতে আর বিরক্ত না করে সেজন্য শুভকে শাসিয়ে দেয় এনামুল । সবসময় আখলাক চৌধুরীর বাড়ির পাশপাশে চলাচল ছিল শুভ’র।

বুধবার সকালে রুমির নিকটতম এক আত্মীয়’র সঙ্গে আলাপকালে এমনটি জানান তিনি । এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,সাদুল্লাপুর গ্রামে নানার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে শুভ। শুভ’র চালচলন কথাবার্তা ছিল খারাপ। সে বখাটেপনা করে বেড়াতো । শুভ স্কুলে পড়ালেখা কালিন সময়ের এক সহপাঠী জানায়,শুভ স্কুলে পড়ালেখায় ও ছেলে হিসেবে ভালো ছিল। গত বছর তিনেক আগে শুভ পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে খারাপ রাস্তায় চলে যায়। বিভিন্ন ধরণের নেশা করতো,চলাফেরা ছিল একবারেই খারাপ ।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাযার নামাজ শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযার নামাজে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে । এর আগে দাফনে কাজে অংশ নিতে গত সোমবার রাতে দেশে আসেন নিহত রুমির স্বামী ও মালা বেগমের ছেলে আখলাক চৌধুরী ওরফে গুলজার ও গুলজারের বড় ভাই আলতা মিয়া চৌধুরী। জানাযার নামাজের পূর্বে বক্তৃতাকালে নিহত রুমি বেগমের স্বামী ও মালা বেগমের একমাত্র সন্তান লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরী ওরফে গুলজার এবং রুমির পিতা সুজন মিয়া চৌধুরীসহ শোকার্ত গ্রামবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মম এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনসহ প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানান। গত সোমবার রাতে নিহত রুমি বেগমের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন । এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নবীগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি, পিবিআই, ডিবি. ডিএসবি,র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েস্থা সংস্থার টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে বলে জানাগেছে ।

এঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রজুড়ে জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা যায়,নিহত রুমি ও আখলাক চৌধুরীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এর সূত্র ধরেই গত দুই বছর পূর্বে পারিবারকভাবে বিয়ে করেন তারা। বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ঘড়ির কাটা তখন বিকেল সকাল ৯টা নিস্তব্ধ সাদুল্লাপুর গ্রাম মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। রুমির স্বামী আখলাক চৌধুরী ওরফে গুলজারের বাড়ির আশাপাশে বিভিন্ন গুয়েন্দা সংস্থার অবস্থান ছিল লক্ষণীয়। এদিকে তদন্তসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে নারাজ পুলিশ ।

এদিকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা এক আদেশে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব গ্রহনের পরপরই ডিবির ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল সাদুল্লাপুর ও আশপাশ এলাকায় দিনবর তদন্তক্যৃক্রম পরিচালনা করে। ডিবি পুুলশ নিহত রুমি বেগমের পিত্রালয় আমতৈল গ্রামে গিয়ে খোজ খবর নেয়। পুলিশ মালা বেগম ও রুমী বেগম হত্যার মোটিভ বের করতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকার প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত ১১ টায় উপজেলার কুর্শি ইউনিয়মের সাদুল্লাপুর গ্রামে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন সাদুল্লাপুর গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী ও লন্ডন প্রবাসী পুত্র আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম, বউ রুমি বেগম। ওই রাতে আত্মচিৎকার শুনে গ্রামবাসী ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের বাহিরে উঠানে গৃহবধূ রুমি বেগম ও ঘরের ভিতরে তার শাশুড়ি মালা বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান। এসময় তাদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ হাসপাতাল গিয়ে লাশ দু‘টির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। এঘটনার পর ঘর থেকে ৪টি চায়ের কাপ,একটি হাতঘড়ি ও এক টি জুতা উদ্ধার করে বলে জানা গেছে । রবিবার রাত সোমবার সকালে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাদেরকে আদালতে সোর্পদ করার খবর পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশসুপার (নবীগঞ্জ-বাহুবল) সার্কেল পারভেজ আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই এই হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: