রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চরমভাবে অবহেলিত প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকরা  » «   এমপিও শিক্ষকদের বেতন দিচ্ছে না ব্যাংক!  » «   ইসরাইলের মরুভূমিতে ১২০০ বছরের পুরোনো মসজিদের খোঁজ  » «   জনসমাগম দেখলেই আতঙ্কে ভোগে আ’লীগ সরকার: ফখরুল  » «   ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে নিহত ২  » «   দুর্নীতি শব্দটি কীভাবে আসলো আই হ্যাভ নো আইডিয়া: ইকবাল মাহমুদ  » «   সেই প্রিয়া সাহাকে নিয়ে মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য  » «   লবণ সংকটে কোরবানির চামড়া নিয়ে উদ্বেগ  » «   দেশদ্রোহী হিসেবে প্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: সেতুমন্ত্রী  » «   মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে ঢাকা থেকে ৪০ আইনজীবী যাচ্ছেন বরগুনায়!  » «   আলো-পানি ছাড়াই রাত কাটল আটক প্রিয়াঙ্কার  » «   মক্কা-মদিনায় ফ্রি ইন্টারনেট ও সিম পাচ্ছেন হাজিরা!  » «   পানিতে সাপের কামড়ে মৃত্যু ,পানিতেই জানাজা-দাফন  » «   নেত্রকোনায় শিশুর কাটা মাথা কাণ্ডে যা জানলো পুলিশ  » «   লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, আজ দূত সম্মেলন  » «  

ফুসলিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন শিক্ষক!



d86f6beca00e8d0652329ac4f76632d8নিউজ ডেস্ক :: চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ৪৫ বছর বয়স্ক এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই শিক্ষকের নাম জাহাঙ্গীর বাদশাহ। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এই শিক্ষকের স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। এক মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ও আরেক মেয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ছে।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১২ সালে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন তিনি। এ জন্য তিনি মেয়েসহ তার মা-বাবাকে নানা প্রলোভন দেখান। কিন্তু বিয়ের ঘটনাটি এত দিন প্রতিবেশী কিংবা এলাকার কেউ জানতেন না।

মেয়েটির ভ্যানচালক বাবা বলেন, বাবা মুই গিরব মানুষ। ওর অনেক ধন। পোরতোম মুই বেটিক বিয়াও দিবার চাও নাই। কিন্তু অয় বেটির পাচ ছাড়ে না। বেটির নামে ৬৩ শতক জমি লেকি দিয়া কোটোত জায়া চুপ করি বিয়াও করচে। এই কথা কাকো জানবার দেয় নাই।

এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি মেয়ের বাড়িতে জাহাঙ্গীরের অবাধ যাতায়াত ও মেয়েটিকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতায়াত করায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। অবশেষে মেয়ের বাবা বিয়ের কথা প্রতিবেশীদের কাছে স্বীকার করেন।

জানতে চাইলে শিক্ষক জাহাঙ্গীর বাদশাহ ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভাই যা হওয়ার হয়েছে। দয়া করে পত্রিকায় এটা লিখবেন না। আমার চাকরির ক্ষতি হবে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েটির ক্লাসে রোল ছিল এক। তবে বিয়ের পর সে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। বিয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, সম্প্রতি জানতে পেরেছি মেয়েটিকে বিয়ে করেছেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু অভিযোগ না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি।

ওই বিয়ে নিবন্ধন করেছেন কালুপাড়া ইউনিয়নের নিকাহনিবন্ধক নজরুল ইসলাম। জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনেক আগের, এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না, খাতা দেখতে হবে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহেদুল হক বলেন, একজনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। তিনি একটি কেন, সাতটি বিয়ে করতে পারেন।

তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর বয়স ১০ বছর। কোনোভাবেই এ বয়সে ছাত্রীর বিয়ে হতে পারে না। তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই তদন্ত করতে শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও যাঁরা ওই বিয়ে পড়ানোর সাথে জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: