বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বরখাস্তকৃত ন্যানগ্যাগওয়াই হচ্ছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট  » «   খালেদার গাড়িবহরে হামলা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনার অংশ  » «   এক মোটরসাইকেলেই বিশ্ব রেকর্ড  » «   কাঁদলেন ঐশ্বরিয়া, ১শ শিশুর ঠোঁটের অস্ত্রোপচারে খরচ দিবেন  » «   কাল থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে চুয়েট বাস  » «   বলি একটা লেখেন আরেকটা: সাংবাদিকদের রোনালদো  » «   এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি  » «   মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হবে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি  » «   এগিয়ে থাকুন সৃজনশীলতায়  » «   সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ১ বছরে সাড়ে ৩ কোটি ইয়াবা জব্দ  » «   শ্রীমঙ্গলে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন  » «   দখলমুক্ত হচ্ছে খাল ও নদী  » «   কুমিল্লায় হানিফ‘আ’লীগকে হুংকার দিয়ে লাভ নেই’  » «   কমলগঞ্জে প্রতিহিংসায় বিনষ্ট কৃষকের শিম বাগান  » «   অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ  » «  

প্রবাসী নির্বাচনী ভাবনা 



ভূইয়াঁ এন জামান
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মূলত সাতটি কর্মপরিকল্পনা সামনে রেখে বই আকারে এই রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ইসি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর আগে এ রোডম্যাপ প্রকাশের পর তা সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছে কমিশন। দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইসির রোডম্যাপে যে সাতটি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো হচ্ছে- আইনি কাঠামোগুলো পর্যালোচনা ও সংস্কার। নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ। সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ। নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ। বিধি অনুসারে ভোট কেন্দ্র স্থাপন। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংলাপ শেষ আওয়ামীলীগের সাথে আলোচনার মধ্যে দিয়ে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে চলে এ ধারাবাহিক সংলাপ। এছাড়া ৩০০ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের কার্যক্রম শেষ হবে ডিসেম্বরে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন আরপিও ও অন্যান্য আইন এবং বিধিমালা সংশোধন কার্যক্রম চলমান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া প্রস্তুত করা হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা করবে ইসির আইন অনুবিভাগ ও নির্বাচনী সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা। নতুন দল নিবন্ধন কার্যক্রম অক্টোবরে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। আগামী বছরের মার্চে নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন শর্তাদি প্রতিপালন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম ২৫ জুলাই থেকে শুরু হয় যা চলবে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বাড়াতে চলছে বিভিন্ন স্তরের  প্রশিক্ষণ কায্যক্রম।
রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে জন-আকাঙ্খা পূরণের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসহ ছয় ধরনের অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া, রাজধানীর মতো বড় শহরের আসন সীমিত করে নির্দিষ্ট করে দেয়া, আরপিও-সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ বাংলায় রূপান্তরের প্রস্তাবও থাকছে কর্মপরিকল্পনায়।
আইন সংস্কারের বিষয়ে এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় বিদ্যমান আইন-বিধি প্রয়োগ করে অতীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে। এখন আইনি কাঠামোর আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে ইসি বিবেচনা করে না। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে এগুলো আরও যুগোপযোগী করার সুযোগ রয়েছে। যাতে ভোট প্রক্রিয়া আরও সহজতর ও অর্থবহ হয়।
নির্বাচন কমিশনের নানাবিধ উদ্যোগ ও বিভিন্ন দলের আলোচনা ও প্রস্তাবনা সমূহ বিবেচনায় আপাতদৃষ্টিতে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতি আশা করতেই পারে।  কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় বলে নির্বাচনে হেরে যাওয়া দল কখনোই নির্বাচন বৈধ বা অবাধ নিরপেক্ষ হয়েছে এই ধরণের সনদ দেয়না। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন আলাপ আলোচনা ও তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে একটা নিরপেক্ষ অবস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করে চলেছে যদিও তা বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রস্তাবনা বিশেষ করে সীমানা নির্ধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া তার উপর প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি বিশেষ করে বিএনপি ও আওমীলীগের পক্ষ হতে আপত্তি জানানো হয়েছে। তাছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি অচল অবস্থার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা।
তবে নির্বাচনকে সকলের নিকট গ্রহণ যোগ্য করতে সকলের মতামতকে বিবেচনার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন বহির্বিশ্বের নির্বাচন পক্রিয়া নিয়েও ভাবতে পারে বিশেষ করে ফিনল্যান্ডের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আদর্শ হিসেবে মেনে পুরো নির্বাচন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ডেলে সাজাতে পারে।
এখন বিবেচনার বিষয় হলো ফিনল্যান্ডকেই কেন বাছাই করতে হবে। আমরা যদি ফিনল্যান্ডের নির্বাচন পক্রিয়ার দিকে একটু নজর দি তাহলে দেখতে পাবো এই রকম স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি পৃথিবীর বুকে সত্যি বিরল। এখন পর্যালোচনা করা যাক ফিনিশ নির্বাচন পদ্ধতির নানাবিধ দিক।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন
পৃথিবীর সকল দেশের মতো ফিনল্যান্ডেও রয়েছে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন যারা স্থানীয় হতে জাতীয় সকল নির্বাচন পরিচালনা করে। নির্বাচন গুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
নির্বাচন পদ্ধতি
নির্বাচনে আগ্রহী সকল দল অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত হতে হবে তবে ব্যক্তিগত ভাবে চাইলে যেকেউই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে তবে তাকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের সমর্থন জমা দিতে হবে। জনসংখ্যার আনুপাতিক হরে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারিত হয়। নির্বাচনের কয়েকমাস আগেই নির্বাচনের স্থান ও নানাবিধ তথ্য সম্বলিত খাম সবার কাছে পৌঁছে দে। নির্বাচন বেদে এখানে টানা  বেশ কয়েকদিন ধরে নির্বাচন হয় যাকে বলা হয় আগাম ভোট গ্রহণ পক্রিয়া। ভোটাররা স্থানীয় পোস্টঅফিসে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে আর ভোটার নির্দিষ্ট দিনে এলাকার স্কুল গুলোতে ভোটাররা ভোট কেন্দ্র উপস্থিত হয়ে ভোট দিয়ে থাকে। শুধু মাত্র পরিচয় নিশ্চত হয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটারের হাতে ব্যালট কাগজ প্রদান করে যাতে প্রার্থীর নাম আর নাম্বার থাকে কোনো প্রতীক থাকেনা। ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে নির্ধারিত সীলমোহরের মাধ্যমে ভোট দিয়ে থাকে। ভোট ডিএনএ শেষে ব্যালট কাগজ নির্ধারিত বাক্সে ফেলে দিলেই ভোট সম্পর্ণ। আরেকটা সব চেয়ে মজার ব্যাপার তা হলো হলো ভোট শেষে কোনো প্রকার অমোচনীয় কালির ব্যবহার নাই।
প্রতিনিধি নির্বাচন পদ্ধতি
নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী প্রতিটি দল তাদের নিবন্ধিত সদস্যদের আনুপাতিক হরে নির্বাচনে প্রাথী দিতে পার। নির্বাচনী এলাকাবেদে এই সংখ্যা বিভিন্ন হয়। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেও দিন শেষে তা দলের ভোট ব্যাংকে জমা হয়। নির্বাচন শেষে প্রাপ্ত ভোটার আনুপাতিক হারে দল  সমূহ প্রাপ্ত ভোট হিসেবে শীর্ষ প্রার্থীদেরকে তাদের প্রতিনিধি বলে ঘোষণা করে এবং  নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচিত বলে ঘোষণা করে।
নির্বাচন প্রচার পদ্ধতি
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সকল প্রার্থীর সবরকমের প্রচারের দায়িত্বে থাকে তবে কেউ চাইলে নির্বাচন কমিশনের অনুমুতি সাপেক্ষে সীমিত করে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে তবে তার আয় ব্যায়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। প্রচার মাধ্যম গুলো শীর্ষ রাজনৌতিক দল বিশেষ করে সংসদে প্রতিনীতিদ্ধ আছে সকল দলের প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে উম্মুক্ত বিতর্কের ব্যবস্থা  করে।
নির্বাচনে ভোটার ও প্রাথী হওয়ার যোগ্যতা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার যোগ্য যে কেউ নির্বাচনে ভোটার এবং নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। এইদেশে যারা যে কোনো একটি নির্বাচনী এলাকায় দুই বছর স্থায়ী ভাবে অবস্থান করে তবে সেই ব্যক্তি ওই এলাকার স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। প্রবাসী যে কোনো ব্যক্তি চাইলেই নির্বাচন বিধি স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই দেশের অরিজিন হওয়া বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন স্থায়িত্ত্বকাল
স্থানীয় সরকার, সংসদ আর রাষ্ট্রপতি সকল নির্বাচনের স্থায়িত্ত্বকাল সমান অর্থাৎ চার বছর।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার
ফিনল্যান্ডের জনগণ যারা প্রবাসে থাকে তারা ইলেক্ট্রনিক অথবা পোস্ট খামের মাধ্যমে আগাম ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে।
বাস্তবতার নিরিখে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রবাসীদের দাবি
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে প্রবাসীদের অগ্রণী ভূমিকার কথা বলছিনা, নির্বাচন প্রক্রিয়া ডেলে সাজানোর পাশা পাশি সকল দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠ ও সুন্দর নির্বাচন আশা করার সাথে সাথে একজন নাগরিক হিসেবে মনে করি তা হলো বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর এবং উন্নীত দেশের তালিকায় নিতে বদ্ধপরিকর তারই ধারাবাহিকতায়  নির্বাচন কমিশন তাদের মেধা আর যোগ্যতায় নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করবে এটাই বাস্তবতা। সাথে সাথে প্রবাসীদের দাবির প্রতি নজর দিয়ে তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেই ভোটদানের ব্যবস্থা করবে অথবা বিকল্প উপায়ে ভোট প্রধানের ব্যবস্থা করবে এটাই সময়ের দাবি।
লেখক: সম্পাদক সাংবাদ ২১ ডটকম, আইএফজে স্বীকৃত ফ্রীলান্স সাংবাদিক, ফিনিশ সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান সাংবাদিক নেটওয়ার্কের সদস্য।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: