বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বরখাস্তকৃত ন্যানগ্যাগওয়াই হচ্ছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট  » «   খালেদার গাড়িবহরে হামলা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনার অংশ  » «   এক মোটরসাইকেলেই বিশ্ব রেকর্ড  » «   কাঁদলেন ঐশ্বরিয়া, ১শ শিশুর ঠোঁটের অস্ত্রোপচারে খরচ দিবেন  » «   কাল থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে চুয়েট বাস  » «   বলি একটা লেখেন আরেকটা: সাংবাদিকদের রোনালদো  » «   এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি  » «   মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হবে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি  » «   এগিয়ে থাকুন সৃজনশীলতায়  » «   সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ১ বছরে সাড়ে ৩ কোটি ইয়াবা জব্দ  » «   শ্রীমঙ্গলে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন  » «   দখলমুক্ত হচ্ছে খাল ও নদী  » «   কুমিল্লায় হানিফ‘আ’লীগকে হুংকার দিয়ে লাভ নেই’  » «   কমলগঞ্জে প্রতিহিংসায় বিনষ্ট কৃষকের শিম বাগান  » «   অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ  » «  

প্রবাসী আয় কমার কারণ কী?



বাংলাদেশে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ কমে যাওয়া ঠেকাতে সরকারের ‘বহুমুখী’ আলোচনা কিংবা পরিকল্পনা কী তাহলে কাজে আসেছে না? গত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রবাসী আয় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ আসা কমেছে। গত দুবছর ধরে চলমান এমন সংকটের মুখে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ফি কমানো হতে পারে’।
কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ব্যাপক নজরদারি অন্যতম একটি কারণ। এই সংকট সমাধানের পথও সরকারকে বের করতে হবে।
বিভিন্ন দেশ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা কমেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) তাদের এক বিশ্লেষণে বলেছে, জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতন এবং খোলাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য বেশি হওয়াই এর মূল কারণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) নিয়ে এ মতামতে আরও বলা হয়, খোলাবাজারে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য বেশি হওয়ায় ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স পাঠানো নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ফলে বৈধ অনানুষ্ঠানিক বা হুন্ডির মাধ্যমে এসব দেশ থেকে বেশি অর্থ আসছে।
চলমান এমন সংকটের মুখে গত ৮ জুলাই রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) কম আসার ২টি কারণের কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেসময় তিনি বলেন, এই সংকট সমাধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ফি কমানো হতে পারে।
প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এন. কে. নোমান। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারের উপর রেমিট্যান্সের একটি প্রভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশের সরকারের ব্যাপক নজরদারির কারণে প্রবাসীরা টাকা পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে। সরকার দায়বদ্ধতা দেখাতে গিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। প্রবাসী টাকা আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের মানে ব্যাংগুলোর খরচ বেড়ে গেছে। মূল সমস্যা এখানেই।’
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে শর্ত বাড়ালে ম্যানেজমেন্ট খরচ বাড়বে এটা খুব স্বাভাবিক। নিরাপত্তা বা নজরদারির কারণে সময় বেশি লাগে। সিস্টেম ঠিক রেখে কাজ করতে হয়। যার ফলে খরচ বাড়ে। আর বাইরে (অনানুষ্ঠানিক) থেকে কেউ থেকে কেউ যদি এর চেয়ে বেশি সুবিধা সেটা গ্রহণ করেন। সবাই তো সব কিছু মানে না। অনেকে এটা দেখে না কোনটা হুন্ডি আর কোনটা ব্যাংক। দ্রুত এক কম খরচে যেখানে কাজ হয় সেখানেই করেন।’
সরকারের এই নজরদারির কারণে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশি টাকা আসা কমে গেছে জানিয়ে এই অধ্যাপক আরও বলেন, একটা সময় ইসলামী ব্যাংক বিদেশিদের কাছে মার্কেটিং করে টাকা আনা-নেওযার ব্যবস্থা করত। কিন্তু সেটাও কমে গেছে।’
কিছু অবৈধ অনলাইন মাধ্যমের কারণে দেশে প্রবাসীরা টাকা পাঠানোর কারণে প্রবাসী আয় কমেছে বলেও জানান তিনি। ড. নোমান বলেন, ‘অনেকে মনে করে অনলাইনেই সুবিধা। তখন আর বৈধ-অবৈধ দেখেন না তারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসী আয় কমে আসার আরেকটি কারণ হলো সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করা। কোনো ব্যক্তি যদি পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তাহলে তো তার আর দেশে টাকা পাঠানোর দরকার হয় না। হয়তো মাঝে মাঝে কাউকে গিফট পাঠায়।’
রাজনৈতিক অস্থিরতাকে একটি অন্যতম কারণ উল্লেখ করে অধ্যাপক নোমান বলেন, ‘যদি এমন হয় কোনো ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আছে দেশে ফিরবেন। তখন তিনি দেশে বড় বিনিয়োগ করেন। কিন্তু তিনি যদি মনে করেন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো নয় তাহলে তো তিনি আর টাকা পাঠাবে না। কেউই চায় না অস্থিরতার মধ্যে নিজেকে নিতে।’
এদিকে প্রবাসী আয় কমা চলমান এমন সংকটের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বাংলাদেশিরা স্থায়ী হওয়ায় রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) কম আসার ২টি কারণের কথা বলেছেন। প্রথমত, যারা বিদেশে থাকছেন, তাদের অনেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া করছেন। দ্বিতীয়ত, তাদের একটি অভিযোগ আছে, রেমিট্যান্স পাঠানোর ফি অনেক বেশি।
রেমিট্যান্স চার্জ কমাতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংককে অর্থমন্ত্রী একটি চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘প্রবাসী রেমিট্যান্সে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া যাবে না। কারণ, তাতে দ্বৈত মুদ্রাবিনিময় হার হয়ে যাবে। তাই কাজের উপায় হচ্ছে ব্যাংক, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, বিকাশের মাধ্যমে যা আসে, সেখানে খরচ কমাতে হবে।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: