বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দুই প্রকৌশলীকে পেটালেন আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা  » «   সিলেটে বিদেশী মদসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  » «   রেল লাইন সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে সিলেটি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধবন  » «   আসামে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়লেন আরও এক লাখ  » «   বিশ্বনাথে ডাকাতের সঙ্গে গোলাগুলি, ৫ পুলিশ গুলিবিদ্ধ  » «   প্রাথমিকে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর  » «   স্বাস্থ্যসনদ পেলেন সাড়ে ৬২ হাজার হজ গমনেচ্ছু  » «   হবিগঞ্জে পিস্তল ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই  » «   সাংবাদিকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি, ক্ষমা চাইতে হবে দুদককে  » «   যুক্তরাষ্ট্রে যাবার সময় নদীতে ডুবলো শরণার্থী বাবা-মেয়ে  » «   দেশে ফিরছেন সাগরে ভাসা আরও ২৪ বাংলাদেশি  » «   অস্ট্রেলিয়ায় আগুনে পুড়ে ৩ ভাই-বোন নিহত  » «   অবশেষে বরখাস্ত ডিআইজি মিজান  » «   সরকারি চাকরিতে ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ঘুষ নেয়ার ভিডিও করায় সাংবাদিককে পেটাল পুলিশ, ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড  » «  

পীরের পানি পড়া খেয়েই মৃত্যুর কোলে কলেজছাত্রী!



নিউজ ডেস্ক:: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সরকারি কলেজের এইএইচসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নানা জায়গায় তার চিকিৎসা চলছিল। নান্দাইলের তারেরঘাট এলাকার কথিত পীর লিয়াকত আলী খানের আস্তানায়ও যাওয়া-আসা করত।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ওই পীরের আস্তানায় গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পানি পড়া খেয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। এর পরপরই পরিবারকে না জানিয়ে পীরের নির্দেশে সেখানেই তানিয়ার জানাজা পড়ানো হয়। এরপর লাশ নেওয়ার জন্য পরিবারকে খবর পাঠানো হয়। বিকেলে পরিবারের লোকজন এসে কাফন পরানো অবস্থায় তার লাশ নিয়ে যায়।

তানিয়া গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের বড়বাড়ীর মো. বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। তার চাচা মো. মহসিন আলী আকন্দ জানান, তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তিন বছর ধরে তানিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা চলছিল। একপর্যায়ে তারেরঘাট এলাকার ওই পীরের বাড়িতেও চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয়। ওই পীরের কাছে যেকোনো রোগের চিকিৎসা চলে পানি পড়া ও লাঠির আঘাতে। সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে যাচ্ছিল তানিয়া। পীরের নির্দেশে সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেয়।

চাচা মহসিন আরো জানান, দুই মাস তানিয়ার ওই পীরের বাড়িতে যাওয়া বন্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার সে হঠাৎ তার মাকে জানায় ঈদের আগে শেষ শুক্রবার আবারও পীরের বাড়িতে যাবে। সকালে সে ওই পীরের বাড়িতে যায়। এরপর তার মোবাইল থেকেই তাদের কাছে তার মৃত্যুর খবর পাঠানো হয়। বিকেল ৩টার দিকে তিনিসহ তানিয়ার আরেক চাচা ও চাচি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাফন পরানো অবস্থায় লাশ নিয়ে যান।

এ সময় তাঁরা জানতে পারেন, তানিয়া প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অন্য রোগীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পীরের ফুঁ দিয়ে রাখা পানি মাথায় ছিটিয়ে ও খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। পীরের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গোসল শেষে কাফন পরিয়ে জানাজা সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে জানতে পীর মো. লিয়াকত আলী খানের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এই পীরের কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘মারলে ডাণ্ডা রোগ হয় ঠাণ্ডা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে শত শত লোক ওই পীরের আস্তনায় ভিড় জমায়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: