বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
মাদরাসা ছাত্রীকে জিনে নিয়ে গেছে!  » «   রোহিঙ্গাদের এনআইডি বানিয়ে দিয়ে কোটিপতি!  » «   প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু!  » «   ৬০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে হতে হবে ছাত্রলীগ নেতা  » «   মিয়ানমার তাদের লোকদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   রাজশাহীতে মা-ছেলে হত্যায় আ.লীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড  » «   অবশেষে সেই বাংলাদেশি যুবকের লাশ ফেরত দিল বিএসএফ  » «   নিউইয়র্কে হবে শেখ হাসিনা-বিল গেটস বৈঠক  » «   ‘এবার এক দেশ, এক দলের’ ইঙ্গিত বিজেপি সভাপতির  » «   রাতে আটক, ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত  » «   জগন্নাথপুরে র‌্যাবের জালে আটকা পড়লেন ভূয়া ডাক্তার  » «   এবার ভিসি ফারজানার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ  » «   রংপুর-৩ উপনির্বাচন: লাঙ্গলের ঘাঁটিতে আসিফের দিকেই ভোটের হাওয়া  » «   রিফাত হত্যা: যা বললেন সেই রিকশাচালক  » «   চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «  

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভিনিং প্রোগ্রামে জমজমাট শিক্ষা বাণিজ্য



নিউজ ডেস্ক:: ইভিনিং মাস্টার্স ও ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের নামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিগ্রি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। নামমাত্র পরীক্ষা কিংবা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এসব কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

এরপর মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে একটা সময় পর শেষ করা হয় তাদের শিক্ষাজীবন। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নকলের সুযোগ দেয়া হয় বলেও অভিযোগ আছে। ক্লাস না করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও আছে।

এ প্রক্রিয়ায় ‘বিকল্প পথে’ নিম্নমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে এক একটি বিশ্ববিদ্যালয়। সুবিধাভোগী বাদে বেশিরভাগ শিক্ষক এ কোর্সের বিপক্ষে। নানা অভিযোগে এ ধরনের প্রোগ্রাম বাতিল করার পরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় সুবিধাভোগী শিক্ষকদের চাপে ফের চালু করতে বাধ্য হয়েছে।

অভিযোগ আছে, ইভিনিং মাস্টার্স কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় অংশই নিয়মিত কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদনেরই যোগ্যতা রাখেন না। কিন্তু এক শ্রেণির শিক্ষকের অর্থের লোভের কারণে এ ধরনের ছাত্রছাত্রীরাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনে যাচ্ছেন। ওই শ্রেণির শিক্ষকরা নিয়মিত কোর্সের ব্যাপারে উদাসীন। কেউ ক্লাস ফাঁকি দেন।

আবার কেউ পরীক্ষার খাতা নিয়ে দিনের পর দিন ফেলে রাখেন। অথচ এ ধরনের শিক্ষকরাই ইভিনিং মাস্টার্স কোর্সে বেশি সক্রিয়। এতে শিক্ষকের ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ও গবেষণাও হচ্ছে বিঘ্নিত। যার সার্বিক প্রভাব পড়ছে দেশের উচ্চশিক্ষার মানে।

সরকারের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিনে ‘সরকারি’ আর রাতে ‘বেসরকারি’ চরিত্রে রূপান্তরের কারণে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইভিনিং মাস্টার্স প্রোগ্রাম নিয়ে খোদ চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উদ্বিগ্ন।

গত ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে তিনি ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোর্স নিয়ে ভাবার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান। এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাতে গেলে রাষ্ট্রপতি তাদেরও ইভিনিং কোর্সের ব্যাপারে নিজের অবস্থানের কথা জানান।

অক্টোবরের সমাবর্তনে ইভিনিং কোর্সের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না, ভাবতে হবে। আমি মনে করি, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র-শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ভেবে দেখবেন। মনে রাখতে হবে, জনগণের অর্থেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই ইভিনিং কোর্স চালুর ব্যাপারে ইউজিসির কোনো অনুমোদন আছে বলে আমার জানা নেই। চ্যান্সেলর এ কোর্সের ব্যাপারে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। সেটার ব্যাপারে সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াই কাম্য। তিনি বলেন, একটা সময়ে দু-একটি বিভাগ এ কোর্স চালু করেছিল; কিন্তু এখন যথেচ্ছভাবে খোলা হচ্ছে।

অভিযোগ আছে, ইভিনিং প্রোগ্রামের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস পরিণত হয় বাজারে। এ কোর্সে প্রাপ্ত অর্থের অপব্যবহার করে কোনো কোনো অনুষদের ডিন অনৈতিকতা চর্চা করেন বলেও অভিযোগ আছে।

নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও ইভিনিং প্রোগ্রাম বাতিলের দাবি উঠেছে। প্রোভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ইভিনিং মাস্টার্স ও ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের সমালোচকদের একজন। তিনি সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষাকে বাঁচাতে হলে সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এভাবে চলতে পারে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামালউদ্দিন ২০১৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে নিজের বক্তৃতায় ইভিনিং কোর্স নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়া সান্ধ্যকালীন কোর্সে নিম্নমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাহানি ঘটছে।

সর্বশেষ গত জুনে অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনেও সদস্যরা এই কোর্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু এত কিছুর পরও রহস্যজনক কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং কোর্সের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

জানা গেছে, নানা মহল থেকে সমালোচনা আর চাপ সৃষ্টির পর ইভিনিং মাস্টার্স প্রোগ্রামের সার্বিক চিত্র তুলে আনতে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিতে আরও চারজন ডিন সদস্য হিসেবে আছেন। যদিও কমিটির কাজ রহস্যজনক কারণে তেমন এগোচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, কমিটি গঠনের পর আমরা একটি বৈঠক করেছি। কার্যপরিধি অনুযায়ী কমিটির কাজ চলছে। এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে। ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে কমিটির কাজ তেমন এগোনো যায়নি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: