শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আগামীতে শহীদুজ্জামান সরকারকে নৌকা মার্কায় ভোট দিলে নজিপুর জেলাসহ সব উন্নয়ন হবে :নাসিম  » «   মাহিরাকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা, ভাইরাল ভিডিও  » «   বরের বয়স ৮৩ কনে ৩০  » «   ‘তারেকের নেতৃত্বে বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী’  » «   চলন্ত বাসে ডাকাতি ও চালক খুন, গ্রেপ্তার ১৩  » «   প্রধানমন্ত্রী ভোট চাচ্ছেন, খালেদা জিয়া অন্ধকার প্রকোষ্ঠে : ফখরুল  » «   কিশোরের মৃত্যু, লাশ রেখে সঙ্গীদের পলায়ন  » «   এক সঙ্গে তারা  » «   অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত, ১১ প্রেমিক যুগলের জরিমানা!  » «   দুই ঘণ্টার জন্য বিমান আটকে দিলো মশা  » «   বিয়ের নামে চীনে বিক্রি হচ্ছে পাহাড়ি মেয়েরা  » «   ডেকে নিয়ে যুবকের গলাকেটে হত্যা  » «   বড়লেখার মেধাবী তোফায়েলের চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক লাভ  » «   পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে যুবলীগ নেতার ধর্ষণ  » «   সিলেটে হবে ভারতীয় হাইকমিশন অফিস  » «  

পানিফল চাষে স্বাবলম্বী সাইদুর



naogaon-sydur-rahman20161016082957নিজের জমিজমা বলতে কিছুই নেই। সারা বছর মৌসুমি ফলের ব্যবসা ও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। আর এ থেকে  টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে তিন সদস্যের ভরণপোষণ চলতো। পরে পানিফল চাষ করে ভাগ্য বদলে যায়।

স্বল্প সময় ও কম পরিশ্রমে পানিফল চাষে লাভবান হয়েছেন। সংসার থেকে অভাব দূর হয়েছে। ফলের ব্যবসা করে এখন স্বাবলম্বী সাইদুর রহমান (৪০)। তার বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের পারইল গ্রামে।

সাইদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা, ডোবা ও পুকুরে পানিতে বাণিজ্যিকভাবে পানিফল চাষ করা হয়। পানিফল বাজারের সবচেয়ে সস্তা ফল। স্বল্প সময়ে কম পরিশ্রমে অধিক ফলন হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ করে চাষ করেন পানিফল।

আষাঢ় মাসের বৃষ্টিতে যখন জলাশয়গুলোতে পানি জমে তখন সে পানিতে পানিফলের চারা ছেড়ে দেয়া হয়। পানিতে ছড়ানোর তিন মাস পর থেকেই পানিফল পাওয়া যায়। ভাদ্র মাস থেকে গাছে ফল আসা শুরু করে এবং কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত ফল বিক্রি শুরু হয়।

শুরুতে ফল কম আসায় মাসে দু’তিনবার ফল সংগ্রহ করা হয়। তবে গাছে বেশি ফল আসা শুরু হলে প্রতি সপ্তাহে ফল সংগ্রহ করা হয়। জলাশয়ে হাটু সমান পানি থাকলে নেমে পানিফল সংগ্রহ করি। আবার পানি বেশি থাকলে নৌকায় চড়ে পানিফল সংগ্রহ করা হয়।

সাইদুর রহমান বলেন, ২০ বছর আগে বিয়ে করি। বিয়ের পর থেকেই সংসারে অভাব লেগে আছে। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে বাড়ির পাশের ডোবায় অন্যের জমি বর্গা নিয়ে পানিফল চাষ করি। সে বছর ভাল লাভ পেয়েছিলাম। এরপর পরের বছর ধারদেনা করে বেশি পরিমাণ জমিতে পানিফল চাষ করা হয়। এবার ১৭ হাজার টাকায় ১৬ বিঘা জমি ১ বছরের জন্য লিজ নিয়ে দেশীয় জাতের পানিফলে চাষ করেছি।

Naogaon

তিনি বলেন, কীটনাশক, শ্রমিক, সার দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বীজ নিজের থাকায় খরচ কিছুটা কম হয়েছে। বীজ কিনতে হলে প্রায় ১০/১৫ হাজার টাকা বেশি লাগত। পানিফল গাছে একধরনের লতি হয়, সেই লতি তুলে রেখে পানিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

এছাড়া কাটিং থেকেও এর বংশবিস্তার হয়। এ মৌসুমে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। পাশাপাশি মৌসুমে আম, জলপাই ব্যবসা করা হয়। তবে স্বল্প পরিশ্রমে ও কম সময়ে পানিফলে একটি লাভজনক ব্যবসা।

সাইদুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত তিন বার পানিফল সংগ্রহ করেছেন এবং প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। বাজারে এখন প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা। ৬ জন শ্রমিক দিয়ে মাসে ২ বার ফল উঠানো হয়। প্রতিজনকে ২শ’ টাকা মজুরি দিতে হয়।

স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, আগে সংসারে অনেক অভাব ছিল। ধারদেনা করে চলতে হতো। ২০ বছর ধরে ফলের ব্যবসা করেই ১৮ কাঠা ফসলি জমি বন্ধক ও আড়াই বিঘা জমি বর্গা চাষ করছি। দিয়েছেন ইটের দুই ঘরে টিনের ছাউনি। মেয়ে সুমাইয়াকে এবার এসএসসি পাস করিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে দেখেছেন।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: