শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আফগানিস্তানে হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা, নিহত ২০  » «   রাজনীতিতে যোগ দেবেন নুর, জানালেন দলের নাম  » «   নারায়ণগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনকে গলা কেটে হত্যা  » «   মোদিকে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিলোনা পাকিস্তান  » «   ৮ ভোটে হেরে গেলেন ছাত্রদলের সেই শ্রাবণ  » «   সিলেটের ৬ জনসহ বদলি হলেন ৫৩ বিচারক  » «   ক্যাসিনোর টাকার ভাগ কে কে পেতেন, নাম বলছেন খালেদ  » «   অমর নায়ক সালমানের জন্মবার্ষিকী আজ  » «   ছাত্রদলের সভাপতি খোকন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল  » «   মাদরাসা ছাত্রীকে জিনে নিয়ে গেছে!  » «   রোহিঙ্গাদের এনআইডি বানিয়ে দিয়ে কোটিপতি!  » «   প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু!  » «   ৬০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে হতে হবে ছাত্রলীগ নেতা  » «   মিয়ানমার তাদের লোকদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   রাজশাহীতে মা-ছেলে হত্যায় আ.লীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড  » «  

পাঁচ টাকা ভিজিটে প্রতিদিন ২০০ রোগী দেখেন এই ডাক্তার



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: কালনা স্টেশনে নেমে তাঁর বাড়ি যাওয়ার কথা বললে ভাড়া নিতে চান না কোনো রিকশা চালক। পাড়ায় ঢুকে নাম বলে বাড়ি চিনতে চাইলে এলাকাবাসীর চোখে–মুখে ফুটে ওঠে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। ‘ডাক্তার বাবুর’ অতিথির যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তাই আগন্তুককে বাড়ি দেখিয়ে দিতে নিজের কাজ ফেলে উঠে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে, কেউ বলেন সাক্ষাৎ ঈশ্বর।

তিনি ডা. গৌরাঙ্গ গোস্বামী। কলকাতার কালনা এবং তার আশপাশের অঞ্চলে তিনি বিখ্যাত ‘পাঁচ টাকার ডাক্তার বাবু’ নামেও। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি যৎসামান্য পারিশ্রমিকে বা বিনা পারিশ্রমিকে রোগী দেখে চলেছেন এই অঞ্চলে।

পাশাপাশি বামপন্থী রাজনীতিতে এখনো সক্রিয় কর্মী তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা কোনো শ্রেণিগত বিভেদের কারণে এই চিকিৎসক কোনো দিন কোনো রোগীকে ফেরাননি বলে দরাজ ‘সার্টিফিকেট’ দিয়ে রাখছেন এলাকাবাসীরাও। বামপন্থী গৌরাঙ্গের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্থানীয় তৃণমূল কিংবা বিজেপি সমর্থকরাও। রাজনৈতিক হানাহানির এই সময়ে দাঁড়িয়ে তাই কালনার ভূমিপুত্র গৌরাঙ্গ এক বিরল চরিত্র।

১৯৭৮ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন গৌরাঙ্গ। তারপরে ভর্তি হন ‘এমএস’–এর পঠনপাঠনে। কিন্তু সেই পড়াশুনো শেষ করতে পারেননি। কারণটা রাজনৈতিক। ততদিনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাই পরে উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি পেয়েও কালনাতেই ফিরে আসেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু।

ন্যূনতম পারিশ্রমিকে রোগী দেখা শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় নানা জিনিসের দাম বাড়লেও গৌরাঙ্গের পারিশ্রমিক বেড়ে হয়েছে মাত্র পাঁচ টাকা! নিজের বাড়িতেই চেম্বার বানিয়ে রোগী দেখেন গৌরাঙ্গ।

রোগী দেখার ফাঁকে তিনি বলছিলেন, ‘ওই সরকারি চাকরিটায় যোগ দিলে বদলি হতেই হতো। কোথায় কখন থাকতে হতো কে জানে? কালনার মানুষের সেবা করার সুযোগ পেতাম কি না, সেটাও নিশ্চিত নয়। তাই ভাবলাম চাকরি ছেড়ে এখানেই প্র্যাক্টিস শুরু করা যাক।’

সকাল দশটা থেকে শুরু হয় গৌরাঙ্গের রোগী দেখা। দুপুর একটা পর্যন্ত রোগী দেখে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নেন তিনি। তারপরে দুপুর তিনটে থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় তার সময় কাটে রোগী–স্টেথোস্কোপ–প্রেসক্রিপশন নিয়ে। ফের এক ঘণ্টা বিশ্রাম। তারপরে সন্ধে ছ’টা রাত একটা–দেড়টা পর্যন্ত তার কাছে ভিড় জমান রোগীরা।

গৌরাঙ্গে জানালেন, অনেক সময়েই বিশ্রামের সময়েই কোনো ইমার্জেন্সি কল এসে গেল। তখন তো আর চুপ করে বসে থাকা যায় না।

বিশ্রামের সময় কাটছাঁট করেই নিজের মোটরবাইকে চড়ে রোগী দেখতে ছোটেন গৌরাঙ্গ। তিনি বলছিলেন, ‘রাত একটা পর্যন্ত রোগী দেখি মানে এমন নয় যে তারপরে রোগী এলে দেখব না। আমার বাড়ির দরজা রোগীদের জন্য সবসময়ই খোলা।’ দৈনিক দু’শো থেকে আড়াইশোজন রোগীর চিকিৎসা করতে হয় তাকে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: