সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

পরিবারের সচ্ছলতা ফিরাতে গিয়ে লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন সিলেটের জুবের



7নিউজ ডেস্ক ::

২৭শে এপ্রিল নিজের মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন সিলেট নগরীর শেখঘাটের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোশতাক আহমদ। এই ব্যস্ততার ফাঁকে বিকাল ৫টার দিকে তার মোবাইলে দুটো কল আসে সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ্লিকেশন ‘ইমো’তে। কল দুটো এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী তার ছোটভাই জুবায়ের আহমদ জুবেরের কাছ থেকে। ব্যস্ততার কারণে কলগুলো রিসিভ করতে পারেননি মোশতাক আহমদ। বাসায় ফিরে রাতে ছোটভাইকে কল করে সাড়া পাননি। ঘুণাক্ষরেও টের পাননি অন্য প্রান্তে ঘটে গেছে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা।

জুবায়ের আহমদ জুবেরের মনে সব সময় বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হওয়ার ভয় ছিল। বড় ভাই মোশতাক আহমদকে অনেকবার সে কথা বলেওছিলেন। ছোট ভাইয়ের ভয়ের কথা শুনে তাকে প্রবাসজীবনের ইতি ঘটিয়ে দেশে ফিরে আসতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন বড় ভাই। হাতে আর কিছু টাকা জমলে ফিরে আসবেন আশ্বস্ত করেছিলেন জুবের। যিনি সংসারে আরো একটু সুখ আনতে ২০১২ সালের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। যেদিক থেকে বিপদ আসার ভয় ছিল সেদিক থেকে নয় বিপদ এসেছে সড়ক পথে। ২৭শে এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় দক্ষিণ আফ্রিকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় জুবেরের। বিমানে উড়ে এসে তার মরদেহ আজ রাত ৮টায় বাংলাদেশের মাটি ছুঁবে। ঢাকা থেকে মরদেহ শেখঘাটে আসার পর আগামীকাল চিরশয্যায় শায়িত হবেন জুবের।

২৭শে এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় দক্ষিণ আফ্রিকার নর্দান কেপ অঙ্গরাজ্যের আপিংটন শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্থানীয় এক বাসিন্দার সঙ্গে নিহত হন দুই বাংলাদেশি। যাদের একজন সিলেটের শেখঘাটের বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ জুবের। শেখঘাটেরই বাসিন্দা দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী এহসানুল মাহবুব হাসান এ দুঃসংবাদটি প্রথম বাংলাদেশে জানান।

তিনি সরাসরি জুবেরের পরিবারকে দুর্ঘটনার খবর জানাতে সাহস পাননি। বিষয়টি জানান নিজের বড় ভাই মাওলানা আহমদ হোসেনকে। এলাকায় অনেকের কাছে বললেও আহমদ হোসেনের বুক কাঁপে এ মর্মান্তিক বার্তাটি সরাসরি জুবেরের পরিবারের কারো কানে পেঁৗঁছে দিতে। ফোন দেন জুবেরের মামা নগরীর নাইওরপুলের বাসিন্দা হারুন উর রশীদকে। হারুন উর রশীদ ফোনে জুবেরের বড় ভাই মোশতাক আহমদকে জানান, জুবেরের শরীর খারাপ। মোশতাক আহমদ ভেবে পান না দক্ষিণ আফ্রিকায় তার ভাইয়ের অসুস্থতার খবর তারা জানার আগে মামা জানলেন কি করে। অজানা আশঙ্কা ভর করে মোশতাক আহমদের মনে। তিনি ফোন দেন ছোট ভাই জুবেরের ফোনে। ফোনটি ধরেন, জুবেরের বন্ধু ও শেখঘাটেরই বাসিন্দা রুহুল। মোশতাক আহমদ আর কিছুই জানতে চান না সরাসরি প্রশ্ন করেন, তার ভাই বেঁচে আছে কি না। কিছুক্ষণ নীরবতার পর রুহুল জানান, জুবের আর বেঁচে নেই। মোশতাক আহমদের চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে আসে।

মা আছেন, বাবা নেই। ৪ বোন আর ৩ ভাই তারা। ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া জুবায়ের আহমদ জুবের ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। তার ছোট কেবল ১ বোন। তাদের সংসারে তেমন অসচ্ছলতা ছিল না। তবুও সংসারে আরো একটু সচ্ছলতা আনতে ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমিয়েছিলেন জুবের।

শেখঘাটের মরহুম জমির উদ্দিনের ছেলে জুবের দেশে থাকতে আইপিএসের কাজ করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ঠিকানা গাঁড়েন নর্দান কেপের অরেঞ্জ নদীর তীরে গড়ে উঠা আপিংটন শহরে। প্রথমে একটি গ্রোসারি শপে কাজ নেন। বছর খানেক আগে বন্ধু সালেহ আহমদের সঙ্গে মিলে নিজেই একটি গ্রোসারি শপ খুলেন। ব্যবসা ভালোই চলছিল তবে স্থানীয়দের উৎপাতও ছিল। বিষয়টি বড় ভাই মোশতাক আহমদকে জানিয়েছিলেন জুবের। তিনি দেশে ফিরে আসতে বলেছিলেন জুবেরকে। জুবের বলেছিলেন একটু গুছিয়ে নিলে দেশে আসবেন। কেউ ভাবেনি সবকিছু চিরদিনের মতো গুছিয়ে এভাবে নিথর দেহে দেশে ফিরবেন জুবের।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: