বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৭ জুলাই খালেদার মুক্তি দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ  » «   মৌসুমি বায়ু দুর্বল, বর্ষার বর্ষণ নেই  » «   সিলেটে দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু  » «   হরিণাকুণ্ডুতে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সদস্য নিহত  » «   পুলিশের সোর্স মামুন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও  » «   ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরি, সালিসে জরিমানার টাকা ভাগাভাগি!  » «   আইনমন্ত্রীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী  » «   ‘এদেরকে নিয়েই মান্না সাহেব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন’  » «   রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে পুলিশের জালে বাংলাদেশী যুবক  » «   বিদেশ ও জেল থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা  » «   বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত রবার্ট মিলার  » «   বেবী নাজনীন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি  » «   কোটা আন্দোলন: ছাত্রলীগের হুমকিতে ক্যাম্পাস ছাড়া চবি শিক্ষক  » «   ভেবেই ক্লাব বদল করেছেন রোনালদো  » «   ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি  » «  

পরকীয়া, স্বামীকে হত্যা, এবার হবে ফাঁসি



নিউজ ডেস্ক::প্রেম মানে না কোন বাধা। তাই মানুষ প্রেমে পড়ে, প্রেম করে। এজন্য তো সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না। পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে মানুষ হত্যা এটাতো কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

এমনই একটি প্রেমের ঘটনা- মুঠোফোনে পরকীয়া প্রেমের জেরে ধরে পাবনায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন।

পরকীয়া প্রেমে পড়ে পাবনা সদর উপজেলার টেকনিক্যাল মোড়ের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধাকে (৫০) শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় স্ত্রীকে এই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী পাবনা সদর উপজেলার গোপালপুর এলাকার কুলসুম নাহার বিউটি (৪৬), আতাইকুলা থানাধীন রাণীনগর গ্রামের রুহুল আমিন (৪৭) ও সোলেমান আলী (৪৫)।

জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধা কুষ্টিয়ার লালনের ভক্ত ছিলেন।

আদালতে রায় ঘোষণার সময় কুলসুম নাহার বিউটি উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেফতার হলেও পরে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। মোশাররফ হোসেন হত্যায় তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

জানা যায়, টাকার উপরে মোবাইল নাম্বার পেয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা কুলসুম নাহারের সাথে কথা বলা শুরু করেন রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি। এরপর রুহুল আমিন ও কুলসুম নাহারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এক বছর ধরে চলা এই সম্পর্কের জেরে তারা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাদের অবৈধ সম্পর্কে মোশাররফ হোসেনকে পথের কাটা মনে করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে কুলসুম নাহারের পরকীয়া প্রেমিক রুহুল আমিন তার বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাড়িতে যান। এরপর তারা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। মোশাররফ ঘরে ফিরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে ৩ জন মিলে মোশাররফ হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এ ঘটনার পর মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গুম করতে একটি বস্তার ভেতর ঢুকিয়ে ফেলেন। এর মাঝে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। তখন রুহুল আমিন ও সোলেমান আলী পালিয়ে যান। ওই রাতেই পাবনা সদর থানার পুলিশ গিয়ে মোশাররফের বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্ত্রী কুলসুম নাহারকে গ্রেফতার করে। এরপরের দিন পাবনা সদর থানায় মামলা হয়।

পরে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে মোশাররফ হত্যা মামলাটি পাবনা থেকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এ মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালতে ১৫ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া কুলসুম নাহারের এক মাসের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: