শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
যমুনা নদীতে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি, দেখার কেউ নেই!  » «   নতুন চলচ্চিত্রের জন্য ইরানে অনন্ত  » «   নেইমারের জার্সি গায়ে অপু ও জয়  » «   সিসিক নির্বাচন: আ.লীগ মেয়র প্রার্থী হলেন কামরান  » «   বাসায় ঢুকে অভিনেত্রীকে শ্লীলতাহানি!  » «   আর্জেন্টিনার হার, বেরিয়ে এলো বিস্ফোরক তথ্য!  » «   দুর্ঘটনা সড়কে মৃত্যুর মিছিল, নিহত ৩০, আহত ৪৭  » «   ‘নির্বাচনে জয়ী হতে গিয়ে যেন দলের বদনাম না হয়’  » «   হাসপাতালে পরীমনি  » «   আর্জেন্টিনার হার, ‘সুইসাইড নোট’ লিখে নিখোঁজ মেসি ভক্ত  » «   সাপাহারে ট্রাক ও ভ্যানের মুখো-মুখি সংঘর্ষে নিহত-২  » «   দুর্ঘটনার দিন ঢাকাতেই ছিলাম না’  » «   ভক্তদের হতাশ করেনি ব্রাজিল : অতিরিক্ত সময়ই বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখল নেইমারদের  » «   হাসপাতালের এক্সরে রুমে রোগীর মাকে ধর্ষণের চেষ্টা!  » «   গজারী বনে যুবতীর অর্ধগলিত লাশ  » «  

নয়াপল্টনে খন্দকার মোশাররফ খালেদার চিকিৎসার ব্যয়ভার নেবে বিএনপি



নিউজ ডেস্ক::বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা দেশনেত্রীর উপযুক্ত চিকিৎসা চাই বলেই আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই যে, প্রয়োজনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমুদয় ব্যয় আমাদের দল বহন করবে। কাজেই বিলম্ব না করে তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হোক।’

এ সময় চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১২ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনবারের নির্বাচিত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর স্বাস্থ্যের যে অবস্থা তাতে তাঁকে সর্বক্ষণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা একান্তই জরুরি বলে মতামত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সার্জনগণ। গতকাল থেকে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ-তে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু দেশনেত্রীকে এর আগে সেখানে নেয়া হলে সেখানকার ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং চিকিৎসা সেবার বিষয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আইজি প্রিজন গণমাধ্যমে বলেছেন যে, কারাবিধি অনুযায়ী প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এমন কোন সিদ্ধান্ত না থাকায় দেশনেত্রীকে ঐ হাসপাতালেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার চিকিৎসা ব্যয়কে বহন করবে সে সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তার এই বক্তব্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত এবং আমাদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ইউনাইটেড হাসপাতালে দেশনেত্রীকে ভর্তির ব্যাপারে সরকারের অনীহার কারণ বোঝা গেল।

বিএনপির এ নেতা বলেন, তথাকথিত ১/১১ এর সরকারের সময়েও একবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছিল। আর ৩ বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক সেনাবাহিনী প্রধানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারি অনুমোদন ও অর্থ সংস্থানের বিষয়ে এতদিনেও সিদ্ধান্ত না হওয়া রহস্যজনক এবং নিন্দনীয়।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৫ জুন তারিখে সংঘটিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে সরকারের মন্ত্রীবর্গ, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইজি প্রিজন প্রায় ১ সপ্তাহ পরে ১১ জুন মুখ খুললেন কেন? কেন এতদিন ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা হলো? কেন ইতোমধ্যে তাঁর হঠাৎ এত বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন যে, ৯ জুন তারিখে ডাক্তারগণ বেগম খালেদা জিয়ার অজ্ঞান হওয়ার কথা বলে নাকি আদালতের সহানুভূতি লাভের চেষ্টা করেছেন। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, ডাক্তারদের সাক্ষাতের দিনক্ষণ স্থির করে সরকার। তারা ৯ তারিখে সাক্ষাতের দিন স্থির করেছে বলেই ঐ দিন ডাক্তারগণ প্রেস ব্রিফিং করেছেন। মামলার দিন তারিখ সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষের জানার কথা-ডাক্তারদের নয়।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে রাজনৈতিক কারণে অবহেলা কিংবা বিলম্ব করা হলে তার পরিণাম সরকারের জন্য শুভ হবে না। দেশবাসী বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা সরকারের অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ। আমরা দাবি করছি যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের পরামর্শ অনুযায়ী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হোক। একই সাথে আমরা দাবি করছি যে, মূল মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার পরেও সরকার নানা অপকৌশলে দেশনেত্রীর মুক্তির পথে যেসব বাধার সৃষ্টি করছে তা বন্ধ করা হোক, যাতে জামিনে মুক্ত হয়ে দেশনেত্রী তাঁর পছন্দের হাসপাতালে নির্ভরযোগ্য ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: