বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি



নিউজ ডেস্ক:: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কমিশন নিজেও এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।ইসির সংলাপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগের পরামর্শ ছিল নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের। অবস্থাদৃষ্টে নির্বাচন কমিশনও এ ব্যাপারে এখন সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে।

সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে, নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন আছে। অন্যদিকে ভিন্নমত পোষণ করে সংসদের ভেতরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে, দেশের পরিস্থিতি ভালো, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ বাহিনীই যথেষ্ট। তবে দলটি এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।

তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে নিবন্ধিত ৩৮ দলের বেশির ভাগই চাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হোক। তবে নির্বাচন কমিশন এখন ভাবনায় পড়েছে কোনো ফরমেটে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যেতে পারে। তাদের ভাষ্য মতে, পার্বত্য ৩ এলাকায় নির্বাচনের সব সামগ্রী সেনাবাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়। বাকি ২৯৭ সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

এদিকে, আগামী নির্বাচনে পাঁচ দিনের জন্য মাঠে নামানো হবে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের। এবার প্রায় ৪২ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১২ জন করে সদস্য বিবেচনায় ৬ লাখ সদস্যকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও ভাতাসহ এর জন্য কমিশনের ব্যয় হবে প্রায় ৫৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ টাকা। আর অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা ভোটের আগে-পরে চার দিনেরে জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছিল। সে সময় এ বাহিনীকে নির্বাচনে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়।

এরপর ২৯ ডিসেম্বর ২০০৯ সালের নির্বাচন পরিচালনা করে সেনা সমর্থিত সরকার। সে সময় নির্বাচনের মাঠে ছিল এ বাহিনী। আর সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ দিন মাঠে ছিল সেনাবাহিনী।

এর আগে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৯৭৩ সাল) সেনা সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তারা পুলিশের মতো পরোয়ানা ছাড়াই অপরাধীকে আটক করে থানায় সোপর্দ করার সুযোগ পেয়েছেন। আর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯/১৩০ ধারা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু সিভিল পাওয়ার’ অনুসারে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তারা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত শুধু ‘শো অব ফোর্স’ হিসেবে এবং নির্বাচনের দিন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করে। এক্ষেত্রে তাদের কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের সুযোগ ছিল না।

তবে ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। ওই সময় দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থাকায় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অবশ্য ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের সময় সামরিক আইন বলবৎ থাকায় নির্বাচনের দায়িত্বে না থাকলেও সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিল।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন চান সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, দেশের জনগণের চাহিদা এবং সুষ্ঠু ভোটের জন্য অপরাধী গ্রেফতারের ক্ষমতা দিয়ে দেশ রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনের মাঠে নামানো উচিত।আর সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচনের সংস্কৃতিতে যে সহিংসতা ফিরে এসেছে, এতে সব প্রার্থীর সমান সুযোগের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা সময়ের দাবি।

অন্যদের দাবির প্রতিও সমর্থন রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো নুরুল হুদারও। তিনি সম্প্রতি এক নির্বাচনে বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে। নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য ৩ সংসদীয় আসনে সেনাবাহিনীর সহায়তায় মালামালসহ সবকিছু কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়। এই তিনটি বাদে বাকি সংসদীয় আসনগুলোতে ‘পরিস্থিতি’ অনুযায়ী এ বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে। তবে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, যোগ করেন সাবেক আমলা এই নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, অতীতে কীভাবে কোনো পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন হয়েছে তা নিয়ে বলতে চাই না। আসন্ন নির্বাচনের সময় হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিই বলে দেবে, কীভাবে সেনা মোতায়েন হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মত দেব সংসদ নির্বাচনে ভালোভাবে সেনা রাখার জন্য। আর নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: