শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ  » «   কমতে শুরু করেছে চালের দাম  » «   কনডমের বিজ্ঞাপনে সানি লিওন, চটেছেন ভারতীয়রা  » «   সাতক্ষীরায় ১৩ রোহিঙ্গা উদ্ধার করেছে পুলিশ  » «   পরিচালক এফআই মানিকের পাশে দাঁড়ালেন অনন্ত জলিল  » «   ‘মেসির কারণেই নেইমার বার্সা ছেড়েছেন’  » «   রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন কাভানি!  » «   কাশিমপুরে পাঁচ কারারক্ষী বরখাস্ত  » «   নাটোর থেকে তিন’শ মণ পাট বোঝাই ট্রাক উধাও  » «   সাপাহারে কারিতাসের ভেলিডেশন এট ওয়ার্ড লেভেল অনুষ্ঠিত  » «   ঢামেক হাসপাতাল‘সরকারী কাজ এমনই হয়!’  » «   সাপাহারে বিদ্যুৎস্পৃৃষ্টে রাজমিস্ত্রী নিহত!  » «   যে নয়টি কারণে প্রতিদিন খেতে পারেন দই  » «   লড়াই করতে চান রোহিঙ্গারা  » «   সীতাকুণ্ডে মাইক্রোবাস চাপায় নিহত ১  » «  

নিজ হাতে মেয়েকে জবাই করেছেন এই বাবা!



নিউজ ডেস্ক::মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কুলাউড়ায় তরুণীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়টি চাউর থাকলেও ১০ই জুলাই রাতে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে রেহানার পিতা আছকর আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেই বেরিয়ে এসেছে এ হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী।

ঘাতক পিতা তাদের কাছে স্বীকার করেছেন কিভাবে তিনি নিজ হাতে রেহানাকে হত্যা করেছেন। তিনি জানান, কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয় গ্রামের লাল মিয়ার সঙ্গে আমার মেয়ে রেহানার দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা আমি মেনে নিতে পারিনি। মেয়েকে বারবার বারণ করেছি। কিন্তু আমার কথায় কর্ণপাত করেনি সে। শেষমেষ রাগে, ক্ষোভে ছুরি দিয়ে নিজ হাতে গলা কেটে রেহানাকে…। এভাবে লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন পাষণ্ড পিতা আছকর আলী। তখন তার এমন বক্তব্য শুনে বিস্মিত হন অনেকেই। ধিক্কার জানান পিতা নামের এই পাষণ্ডকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কানাই লাল চক্রবর্তী জানান, টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয় গ্রামের লাল মিয়ার সঙ্গে প্রেম করার অপরাধে আছকর আলী পরিকল্পিতভাবে গলাকেটে (জবাই) হত্যা করে নিজ মেয়ে রেহানা বেগমকে। এই হত্যার দায় প্রেমিক লাল মিয়া ও তার শুভাকাঙ্ক্ষী বৈদ্যশাসনসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পৃথিমপাশা এলাকার কয়েকজনের উপর চাপানোর অপচেষ্টা চালান তিনি।

এরই স্বপক্ষে যুক্তি হিসাবে সে নিজ হাতে, কপালে ও বামপিঠে ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করে। পিতার স্বীকারোক্তিনুযায়ী নিজ বাড়িতে জ্বালানিকাঠের ঘরের ভেতরে বালতির মধ্যে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করে। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার আগেই পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছোরা (ছুরি), ব্লেড ও পরনে থাকা রক্তমাখা লুঙ্গি নিহত রেহানার পিতা আছকর আলীর কাছ থেকে উদ্ধার করে এবং ঘাতক পাষণ্ড পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত রেহানার পিতা মো. আছকর আলীর মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ভার অন্যের উপর চাপাতে চাইলেও পুলিশি নজর ছিল তার উপর। ১০ই জুলাই রাতে পুলিশ স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুল মালিকসহ ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় রেহানার পিতাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আছকর আলী নিজের মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। নিহত রেহানা বেগমের মা শাহানা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক পিতা আছকর আলীকে গতকাল ১০ই জুলাই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ই জুলাই রোববার ভোরে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাগৃহাল গ্রামে মো. আছকর আলীর মেয়ে রেহানা বেগম বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একই ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রাম এলাকার রকিব আলীর ছেলে লাল মিয়া ভোরে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে রেহানাকে মারধর শুরু করলে তার বাবা আছকর আলী বাধা দেন। এতে তাকেও ছুরিকাঘাত করে। একপর্যায়ে সে রেহানাকে গলা কেটে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন রেহানার পিতা আছকর আলী।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: