মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিরোধী দলীয় উপনেতা হলেন রওশন এরশাদ  » «   সিলেট যাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বিমানের  » «   ১ এপ্রিল থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ  » «   সুবর্ণচরে গণধর্ষণ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন  » «   ‘১১ বছর বয়সে বাবা আমাকে নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করে দেন’  » «   আকস্মিক ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ায় ২৪ ঘন্টার রেড অ্যালার্ট জারি  » «   নির্বাচনে রাশিয়া-ট্রাম্প আঁতাতের প্রমাণ মেলেনি মুলারের তদন্তে  » «   ১২ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   এবার ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে আগুন, চিরকুট উদ্ধার  » «   ফাঁকা বাসে ভয়ঙ্কর ফাঁদ, টার্গেট কম বয়সী নারী যাত্রী  » «   রিমান্ডে বিমানবালা: যেভাবে হয় সৌদি আরব থেকে স্বর্ণ আনার চুক্তি  » «   আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যার স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ  » «   সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান: দুই বছরেও আসেনি চার্জশিট  » «   বাড়ছে দূতাবাস, গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি  » «   একাত্তরের গণহত্যা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তুলবে জাতিসংঘ  » «  

নারী স্বাধীনতা ইস্যু: উল্টোপথে প্রিন্স সালমান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সম্প্রতি নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। এ উপলক্ষে গত ২৭ জুন নিজেদেরকেই অভিবাদন জানিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। সেখানে বলা হয়, নিজের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বহুদূর যেতে চান ক্রাউন প্রিন্স সালমান।

সালমানের ওই প্রকল্পে নারীদের অগ্রগতির বিষয়টিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, নারীদের বাকস্বাধীনতার বিষয়টি সালমানের পরিকল্পনায় নেই। বাকস্বাধীনতা দেয়ার বদলে নারীদের তিনি পাঠাচ্ছেন জেলে।সর্বশেষ সামার বাদায়ি এবং নাসসিমা আল-সাদাহ নামে দু’জন নারী অধিকারকর্মীকে কারাবন্দি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বাদায়িকে ‘উইমেন অব কারেজ’ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছিল দেশটির সরকার।

নারীদের দুর্দশা এবং অভিভাকত্ব নিয়মের বিরুদ্ধে ‘বলিষ্ঠ মত’ প্রকাশের জন্য এই পুরষ্কার দেয়া হয়।উল্লেখ্য, সামার বাদায়ির ভাই রাইফ বাদায়িও একজন অধিকারকর্মী এবং ব্লগার। রাইফের প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটের নাম ‘ফ্রি সৌদি লিবারেলস’। সেখানে তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রতিরোধ, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আরও সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে লেখালেখি করেন।

কিন্তু, ২০১৪ সালের মে মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে ১০ বছর কারাদণ্ড,এক হাজার বেত্রাঘাত এবং ১০ বছরের ভ্রমণ ও গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার সাজা দেয় সৌদি সরকার।সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতিকে বিবেচনা করা হচ্ছে প্রিন্স সালমানের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘অগ্রগামী সিদ্ধান্তের একটি মাত্র উদাহরণ’ হিসেবে।

তবে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক নিবন্ধতে বলা হয়, ‘নারীদের গাড়ি চালানোর পক্ষে প্রথমদিকে যারা কথা বলেছিলেন তাদের কারাবন্দি করা কি আসলেই অগ্রগামী কোনো সিদ্ধান্ত?’ চলতি বছর মে মাসেই অন্তত পাঁচ নারীসহ সাত অধিকারকর্মীকে কারাবন্দি করেন সালমান।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে বিনা বিচারে কারাবাসের সাজা ভোগ করা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় প্রিন্স সালমানের সমস্ত পদক্ষেপের লক্ষ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা। কিন্তু মানবাধিকারের প্রশ্নে তিনিও তার পূর্বসূরীদের মতোই গোঁড়া।বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বাস্তবতা এমন হলে তা সত্যিই উদ্বেগজনক।কারণ,আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে গাড়ি চালানোর স্বাধীনতার পাশাপাশি মানসিকতার স্বাধীনতাও প্রয়োজনীয়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: