বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «   ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর  » «   ৪০ ঘণ্টা পর মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই নারী জঙ্গির আত্মসমর্পণ  » «   পূজায় বিজিবিকে মিষ্টি পাঠিয়েছে বিএসএফ  » «   উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ‘ট্রেনে কাটা’ পড়ে মৃত্যু  » «   আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না জঙ্গিরা  » «   শিশু জয়নাব ধর্ষণ-হত্যা : ইমরানের ফাঁসি কার্যকর  » «   ‘বেত ও বেলুন দিয়ে মারে,পরে নখে সুই ঢুকিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়’  » «   বউকে বৃষ্টিতে ফেলে ছাতা মাথায় ট্রাম্প!  » «   ঋণের পরিবর্তে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব ব্যাংক ম্যানেজারের,অতঃপর..  » «   খাশোগি নিখোঁজ, বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা পাচ্ছে সৌদি  » «   নিরাপদ খাদ্যে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি: ক্যাব সভাপতি  » «   শাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ  » «   আত্মসমর্পণ না করলে ‘নিলুফা ভিলায়’ অভিযান আজ  » «  

দেবরের সামনে কি পর্দা করতে হবে?



ইসলাম ডেস্ক::নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন : আমার বাসায় আমি, আমার স্বামী, আমার দুই দেবর (বয়স ২৮ ও ২৫ বছর) থাকি। আমার প্রশ্ন হলো, তাঁরা নামাজ পড়ে না এবং তাঁদের সামনে আমাকে যেতে হয়। এসব করলে আমার গুনাহ হবে কি?

উত্তর : নামাজ পড়েন না, এমনটা তাঁদের বড় ধরনের আপরাধ। তাঁরা বড় ধরনের গুনাহ করছেন। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সালাত ত্যাগ করা কুফরি কাজ। তাই এই কুফরির কারণে অপরাধী তাঁরা।

তাঁদের সামনে আপনি যাচ্ছেন, এটিও আপনার জন্য জায়েজ নেই। কারণ, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, দেবরের ব্যাপারে কী বক্তব্য? কারণ পরিবারের মধ্যে দেবরকে মূলত কাছাকাছি মনে করা হয়। আমাদের স্বাভাবিক সমাজের মধ্যে দেবরের সঙ্গে ওঠা-বসাটা একেবারেই স্বাভাবিক এবং আমরা অনেকেই মনে করে থাকি যে মনে হয় এখানে পর্দার কোনো বিধান নেই। এ জন্য বিশেষভাবে আল্লাহর নবীকে (সা.) প্রশ্ন করা হয়েছে যে, ‘দেবরের ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?’ যেহেতু দেবরের বিষয়টি তখনকার সময় থেকে আরম্ভ করে খুবই নিবিড় বিষয় ছিল। দেবরকে মনে করা হতো যে ছোট ভাই। স্বামীর ছোট ভাই, সে ক্ষেত্রে গুরুত্ব কম দেওয়া হতো। কিন্তু আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, ‘দেবরের কথা বলছ? দেবর হচ্ছে একেবারেই মৃত্যুর সমতুল্য।’ সুতরাং মৃত্যু থেকে মানুষ যেমন সব সময় আশঙ্কা করে এবং সব সময় দূরে থাকার চেষ্টা করে, মানুষের স্বাভাবিক স্বভাবজাত অভ্যাস হচ্ছে যে, মৃত্যুর কথা শুনলেই সেখানে যাবে না। অনুরূপভাবে আল্লাহর নবী (সা.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এটি মৃত্যুর সমতুল্য। তাই এটি ভয়ংকর বিষয়। এখানে তো পর্দা করতেই হবে; বরং আরো বেশি পর্দা করতে হবে, যেহেতু আল্লাহর নবী (সা.) বলে দিয়েছেন যে, এটি হলো মৃত্যুর বিষয়।

আসলেই তাই। আপনি যদি দেখেন, বেশির ভাগ পারিবারিক অপরাধগুলো হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ যে অনাচারগুলো হচ্ছে, সেগুলো অধিকাংশই দেখা গিয়েছে ভাবী-দেবর সম্পর্কের মধ্যে। তাই এটি ইসলামী বিধানে একেবারেই নিষিদ্ধ কাজ, হারাম কাজ, কোনোভাবেই আপনার জন্য জায়েজ নেই যে, আপনি দেবরদের সামনে যাবেন। কিন্তু যদি দেবররা আপনার বাসায় থাকে, তাহলে পরিপূর্ণ পর্দা বজায় রেখে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, পরিপূর্ণ পর্দা বজায় রেখে তাঁরাও আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারে, তাঁদের সহযোগিতা করতে পারেন বা তাঁরাও আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ইসলাম আপনাকে যেভাবে পর্দা দিয়েছে সেই পর্দার মধ্যে থেকে সেটা করতে হবে। অন্যথায় সব সময় এটি কবিরা গুনাহ হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: