শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তিন সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী যারা  » «   ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: চিদম্বরমের সময় অমিত, অমিতের সময় চিদম্বরম গ্রেপ্তার  » «   অক্টোবর থেকে মোবাইল অ্যাপে মিলবে বিমানের টিকিট  » «   আগামীকাল জুমার নামাজের পর গণবিক্ষোভের ডাক কাশ্মীরিদের  » «   হবিগঞ্জে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে নবজাতক চুরি, নারী আটক  » «   কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ  » «   ভীতি কাটাতে চা বিস্কুট খেতে খেতে ভাইভা দেবেন বিসিএস পরীক্ষার্থীরা  » «   তৃতীয় ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   রাস্তার পাশে চা বানাচ্ছেন মমতা! ভিডিও ভাইরাল  » «   ঋণের টাকায় ভারত থেকে অস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ  » «   কানাইঘাটে মৃত্যুর পাঁচ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন  » «   কাশ্মীরে ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান  » «   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে আজ  » «   পুলিশের ছেলে বিশ্বের এক নম্বর ডন  » «   জাহালম কাণ্ড: ১১ তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা  » «  

দুর্ঘটনা রোধ ও সড়ক ব্যবহারে নাগরিক সচেতনতা জরুরি



Mogbazer-flyover0220160330134733নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুর্ঘটনা রোধ ও সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই নাগরিক সচেতনতা গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও পুলিশ প্রশাসনকে গণসচেতনতা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (৩০ মার্চ) মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশের উদ্বোধন শেষে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর পরই ফ্লাইওভারটির হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত ২.১১ কিলোমিটার অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ পর্যন্ত এর সুবিধা পাচ্ছে। সমস্ত টেন্ডার কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেল কিনতে হলে তাকে ঢাকায় আসতে হচ্ছে না। সেখানে বসেই অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কিনতে পারছে, রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে কাজ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ফ্লাইওভার তৈরিসহ নেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের উদ্যোগ। যাতায়াতে রাজধানীর মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। এসব সমস্যা দূর করে যানজটমুক্ত রাজধানী গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বিআরটিসিকে লোকসানের কথা বলে বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ সরকার ক্ষমতায় এসে বিআরটিসিকে লাভের মুখ দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছর বিনামূল্যে যে বই বিতরণ করি, তাতে বিআরটিসি’র ট্রাক ব্যবহার করে থাকি। সেই সঙ্গে আমরা বিআরটিসিকে রেখেছি নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের কথা চিন্তা-ভাবনা করে। কারণ সব যদি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তারা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াবে।

এছাড়াও আমরা রেল যোগাযোগের ওপর গুরত্ব দিয়েছি। আলাদা রেল মন্ত্রণালয় করে দিয়ে রেলের যুগান্তকারী উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-টিকিটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঘরে বসেই একটি টিকিট কিনে যেকোনো স্থানে যাওয়া যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ পেয়েছি। এখন আমাদেরকে জাতির পিতার স্বপ্ন ও আদর্শের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে।

এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার সংগ্রামে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে বাংলাদেশের নিজস্ব কিছু অর্থের পাশাপাশি আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে সৌদি সরকার। এজন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, এলজিআরডি সচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি প্রমুখ।

সাতশ’ ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মগবাজার-মৌচাক পুরো ফ্লাইওভারটি তিন ধাপে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলামোটর থেকে মৌচাক অংশ জুনে খুলে দেওয়া হবে। বাকিটা ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে খুলে দেওয়া হতে পারে, যদিও আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।

মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি’, চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফোর মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি (এমসিসিসি) ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সব কাজ তত্ত্বাবধান করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।

প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে সরকার দিচ্ছে দুশ’ কোটি ৪৭ লাখ, সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট তিনশ’ ৭৫ কোটি ২৫ লাখ এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট দিচ্ছে একশ’ ৯৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: