বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
যে কারণে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান লড়াই  » «   প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরেই সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মোদির কোলাকুলি  » «   বাবার জানাজায় আসার জন্য টাকা ছিল না: ব্যারিস্টার সুমন  » «   পরিচয় গোপন রেখে কৃষিমন্ত্রীর ফোন, জানতে চাইলেন তথ্য  » «   আজ শপথ নেবেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ সংসদ সদস্য  » «   সিলেটের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: আরিফ  » «   সৌদি আরবকে হুঁশিয়ারি, হামলার বদলা নিতে প্রস্তুত ইরান  » «   জার্মানি ও আরব আমিরাত সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   অগ্নিঝুঁকিতে ঢাকার ৪১৬ হাসপাতাল-ক্লিনিক  » «   ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ফেসবুক ‘ডিজিটাল গ্যাংস্টার’: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট  » «   মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর  » «   পাকিস্তান থেকে ভারতে না গিয়ে দেশে ফিরলেন সৌদি যুবরাজ  » «   দুই বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হবে বিএনপি!  » «   মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিকী আত্মহুতি  » «  

দুর্ঘটনার দিন ঢাকাতেই ছিলাম না’



নিউজ ডেস্ক::‘বেপরোয়া গতিতে আসা গাড়িটি প্রথমে রাজধানীর মহাখালি ফ্লাইওভারে এক পথচারীর পায়ের ওপর তুলে দেয়। তিনি (পথচারী) ওই গাড়ির বাম্পার ধরে ফেলেন। গাড়িটি ব্যাক গিয়ারে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। গতি বাড়িয়ে তিনি আবারও সামনের দিকে এগিয়ে যান। ওই পথচারী ছিটকে ফ্লাইওভারের গার্ডারে গিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তার। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পথচারীর।’

মঙ্গলবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় নিহত হয় সেলিম ব্যাপারী (৪৮) নামে এক পথচারী। পেশায় তিনি একজন গাড়িচালক। এ ঘটনায় এমপি পুত্র সাবাব চৌধুরীর জড়িত থাকার সংবাদ আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। পরে গাড়ি নম্বরের সূত্র ধরে জানা গেছে, গাড়ির মালিক নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলী’র। তার স্বামী নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্পপতি একরামুল করিম চৌধুরী।

এদিকে ওই দুর্ঘটনার জন্য এমপি পুত্রকে দায়ী করা হলেও ওই দিন তিনি নাকি ঢাকাতেই ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, ‘এ ঘটনায় আমাকে এবং আমার পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ফাঁসাতে চাচ্ছে। সেদিন আমি ঢাকাতেই ছিলাম না।’

দুর্ঘটনার পর থেকেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি সাবাব চৌধুরী। অবশেষে আজ শুক্রবার (২২ জুন) নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করীম চৌধুরীর ছেলে সাবাব চৌধুরী বলেন, ‘১০ জুন থেকে আমি নোয়াখালীতে। ঘটনার দিন ১৯ জুন রাত ৯টা পর্যন্ত আমি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আমার নামে উদ্বোধন করা একটি ঘাট পরিদর্শনে ছিলাম। সেখানে হাজার হাজার মানুষ ছিল। তারা আমাকে দেখেছে। হাজার হাজার মানুষ সাক্ষী আছে আমি তখন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ছিলাম। এখানে লুকোচুরির কিছুই নাই। আমি বাবার একমাত্র ছেলে। আমি রাজনীতিতে সময় দিচ্ছি। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধংস করার জন্য এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

সাবাব আরও বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেও কেউই আমার সাথে যোগাযোগ করেনি, আমার বক্তব্য ছাড়াই সংবাদ পরিবেশন করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যে প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি আমাকে চেনেন এবং আমাকে প্রায়ই গুলশান বনানীতে গাড়িসহ আড্ডা দিতে দেখেছেন, তা অবিশ্বাস্য।’

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, ‘সাবাবকে প্রায়ই গুলশান বনানীতে গাড়িসহ আড্ডা দিতে দেখা যায়।’ এ বিষয়ে এমপি পুত্র বলেন, ‘আমি গত তিন বছর নিউজিল্যান্ডে ছিলাম। বছরে এক দুই বার সপ্তাহখানেকের জন্য দেশে আসি। এবার ৭ জুন দেশে এসেছি, ১০ জুন থেকে আমি নোয়াখালীতে। তাহলে তিনি কিভাবে আমাকে গুলশান বনানীতে গাড়িসহ আড্ডা দিতে দেখেন? ঘটনার দিন ১৯ জুন রাত ৯টা পর্যন্ত আমি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আমার নামে উদ্বোধন করা একটি ঘাট পরিদর্শনে ছিলাম। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথাগুলো ছড়ানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে একটি ভিডিও চিত্র এবং কিছু স্থির চিত্রের প্রমাণও উপস্থাপন করেন সাবাব।

আমি সবকিছু সত্য বলছি। আমার ক্যারিয়ার এবং পার্সোনালিটি আছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, তারা সব সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করুক যোগ করেন সাবাব।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার পরিবারের গাড়ি দিয়েই এই দুর্ঘটনা হয়েছে। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় আমি নিহত ব্যক্তির পরিবারের পাশে দাঁড়াবো। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সব দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা আমার আছে।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: