বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদ কার্যকর রাখতেই বিরোধী দলে জাপা : জিএম কাদের  » «   মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রবার্টকে ক্ষমা করে দিন: চীনকে কানাডা  » «   রাতের অন্ধকারে জিনে আগুন দিচ্ছে বাড়ি ও দোকানে!  » «   কেনিয়ায় জঙ্গি হামলা; মার্কিন নাগরিকসহ নিহত ১৫  » «   সিলেট সিটিতে থাকবে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে আমন্ত্রণ পাবে আ.লীগ-জাপা  » «   অসুস্থতার কারণে আদালতে যাননি খালেদা জিয়া  » «   টিআইবির প্রতিবেদন মনগড়া কল্পকাহিনি : তথ্যমন্ত্রী  » «   উদ্ধার হলো শাহনাজের বাইক, ধরা পড়ল চোর  » «   বিদ্যুতের ঋতুভিত্তিক চাহিদার অবসান ঘটাতে হবে: জ্বালানি উপদেষ্টা  » «   পদ্মা নদীর ওপারেই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে  » «   স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সুন্দরবনের ৪০ একর বন উধাও!  » «   রহস্য খোলাসা করলেন সৌদি থেকে পালিয়ে আসা সেই তরুণী  » «   সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম কিনলেন তৃতীয় লিঙ্গের ৮ জন  » «   শাস্তির বদলে পদোন্নতি! লেক দূষণ রোধের ৫০ কোটি টাকা নয়ছয়  » «  

দাম্পত্য সম্পর্কে অবিশ্বাসের বলি শিশু! মা’র বক্তব্য বিভ্রান্তিকর



24নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরখানের মাস্টারপাড়া সোসাইটি এলাকায় দেড় বছরের শিশু নেহাল সাদিককে হত্যায় অভিযুক্ত ওই শিশুরই মা মীর ফাহমিদা মুক্তি এখন মানসিকভাবে অসুস্থ। ঘটনার চারদিন পর শুক্রবারও তিনি অসংলগ্ন কথা বলেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিকে মানসিক রোগের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মুক্তির বিরুদ্ধে নিজের শিশু সন্তানকে হত্যা এবং আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনায় দু’টি মামলা তদন্তাধীন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। তবে মানসিক অবস্থা ঠিক না হলে মুক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। এ কারণে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

গত সোমবার রাতে উত্তরখানের মাস্টারপাড়া সোসাইটি রোডের ৮৫৯ নম্বর বাড়ির চারতলার একটি ফ্ল্যাটে দেড় বছরের শিশু নেহালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মা মুক্তিকেও গলায় জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মুক্তির স্বামী ও তার স্বজনরা অভিযোগ করছেন, সন্দেহ থেকে চরম দাম্পত্য কলহের কারণে মুক্তি নিজে তার সন্তানকে হত্যা করেছেন। এরপর তিনিও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তারাও একই রকমের আলামত পেয়েছেন বলে দাবি করছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মুক্তির স্বামী সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মুরাদ বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মুক্তিকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনায় আরেকটি মামলা করে। তবে এখনো মুক্তির স্বীকারোক্তি মেলেনি। বরং তিনি বলছেন, সোমবারের কোনো ঘটনাই তার মনে নেই।

উত্তরখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় মুক্তির চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আরেফিন বলেন, মুক্তির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত জখম গুরুতর নয়। সেটি এখন অনেকটাই সেরে গেছে। তবে তার মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নেহাল হত্যা সম্পর্কে একেক সময় একেক কথা বলছেন মুক্তি। কখনও সরাসরি স্বীকার করছেন যে, তিনিই নেহালকে হত্যা করেছেন। পরে আবার দাবি করছেন, তিনি খুন করেননি, অন্য এক নারী তাকে খুন করেছে। আবার বলছেন, এক নারীকে দরজা খুলে দেয়ার পর তার আর কিছুই মনে নেই।

প্রতিবেশীরা জানান, মুক্তির স্বামী মুরাদ উত্তরার নর্থ টাওয়ারে লেডিস কর্নার নামে একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। মুক্তি ও মুরাদ দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তারা পরস্পরকে সন্দেহ করতেন। মুক্তির ধারণা, মুরাদের পরকীয়া সম্পর্ক আছে। অন্যদিকে মুরাদও ভাবেন, প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রয়েছে মুক্তির। এসব বিষয়ে দু’জনের প্রায়ই ঝগড়া হতো।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: