শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ক্ষুব্ধ নগরবাসী  » «   শহীদের সঙ্গে প্রেম ভাঙলো কার দোষে? মুখ খুললেন কারিনা  » «   বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেল সখীপুরের ২ হাজারের বেশি মানুষ  » «   সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় অস্ত্রের চালান নিখোঁজ  » «   মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকালে আটক ৪  » «   হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিলেন লন্ডনের সেই মুয়াজ্জিন  » «   ঋণখেলাপিদের অর্থ কোথায় যায়  » «   ভাষা দিবসে কলাগাছের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা  » «   এক হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জিপি  » «   সেই জার্মান বন্দুকধারীর হিটলিস্টে বাংলাদেশিরা  » «   আরব আমিরাতে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশি আক্রান্ত  » «   আগুনে ১০ ঘর পুড়ে ছাই  » «   ঈশ্বরদীতে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২  » «   চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ সেনাসদস্য আটক  » «   ভারতে দুই স্বর্ণখনির সন্ধান, মজুত ৩৩৫০ টন  » «  

দাম্পত্য সম্পর্কে অবিশ্বাসের বলি শিশু! মা’র বক্তব্য বিভ্রান্তিকর



24নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরখানের মাস্টারপাড়া সোসাইটি এলাকায় দেড় বছরের শিশু নেহাল সাদিককে হত্যায় অভিযুক্ত ওই শিশুরই মা মীর ফাহমিদা মুক্তি এখন মানসিকভাবে অসুস্থ। ঘটনার চারদিন পর শুক্রবারও তিনি অসংলগ্ন কথা বলেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিকে মানসিক রোগের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মুক্তির বিরুদ্ধে নিজের শিশু সন্তানকে হত্যা এবং আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনায় দু’টি মামলা তদন্তাধীন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। তবে মানসিক অবস্থা ঠিক না হলে মুক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। এ কারণে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

গত সোমবার রাতে উত্তরখানের মাস্টারপাড়া সোসাইটি রোডের ৮৫৯ নম্বর বাড়ির চারতলার একটি ফ্ল্যাটে দেড় বছরের শিশু নেহালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মা মুক্তিকেও গলায় জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মুক্তির স্বামী ও তার স্বজনরা অভিযোগ করছেন, সন্দেহ থেকে চরম দাম্পত্য কলহের কারণে মুক্তি নিজে তার সন্তানকে হত্যা করেছেন। এরপর তিনিও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তারাও একই রকমের আলামত পেয়েছেন বলে দাবি করছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মুক্তির স্বামী সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মুরাদ বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মুক্তিকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনায় আরেকটি মামলা করে। তবে এখনো মুক্তির স্বীকারোক্তি মেলেনি। বরং তিনি বলছেন, সোমবারের কোনো ঘটনাই তার মনে নেই।

উত্তরখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় মুক্তির চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আরেফিন বলেন, মুক্তির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত জখম গুরুতর নয়। সেটি এখন অনেকটাই সেরে গেছে। তবে তার মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নেহাল হত্যা সম্পর্কে একেক সময় একেক কথা বলছেন মুক্তি। কখনও সরাসরি স্বীকার করছেন যে, তিনিই নেহালকে হত্যা করেছেন। পরে আবার দাবি করছেন, তিনি খুন করেননি, অন্য এক নারী তাকে খুন করেছে। আবার বলছেন, এক নারীকে দরজা খুলে দেয়ার পর তার আর কিছুই মনে নেই।

প্রতিবেশীরা জানান, মুক্তির স্বামী মুরাদ উত্তরার নর্থ টাওয়ারে লেডিস কর্নার নামে একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। মুক্তি ও মুরাদ দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তারা পরস্পরকে সন্দেহ করতেন। মুক্তির ধারণা, মুরাদের পরকীয়া সম্পর্ক আছে। অন্যদিকে মুরাদও ভাবেন, প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রয়েছে মুক্তির। এসব বিষয়ে দু’জনের প্রায়ই ঝগড়া হতো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: