সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
৩০০ আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ ইসির  » «   পাকিস্তানি স্নাইপারের গুলিতে ৩ ভারতীয় সেনা নিহত  » «   সংসদ নির্বাচনে মাশরাফি : কী বলছে ক্রিকেটীয় আইন?  » «   তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনঃতফসিল: ৩০ ডিসেম্বর ভোট  » «   আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর  » «   রামমন্দির নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান মুসলিমরা: আব্বাস নাকভি  » «   জ্বলছে ক্যালিফোর্নিয়া! আতঙ্কে বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড তারকারা  » «   বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, খালেদার জন্য ৩ আসনের ফরম  » «   গাজায় ইসরাইলি সেনাদের কমান্ডো হামলায় ৭ ফিলিস্তিনি নিহত  » «   খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজ দেখা করবেন বিএনপি নেতারা  » «   বিএনপির কাছে যেসব আসন দাবি করেছে শরিকরা  » «   নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে- প্রধানমন্ত্রী  » «   রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে ট্রানজিট ক্যাম্প প্রস্তুত  » «   সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন কিনলেন কামরান  » «  

দক্ষিণ এশিয়ায় নৌ-পরিবহন খাতের বিপুল সম্ভাবনা আছে: প্রধানমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক:: দক্ষিণ এশিয়া মেরিটাইম অ্যান্ড লজিস্টিক ফোরামের দ্বিতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে নৌ-পরিবহন খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে এই সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এই খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রভূত অবদান রাখা সম্ভব।“দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেগুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ রক্ষা করে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সকল মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর সব থেকে গুরুত্ব দিচ্ছি।”

দুইদিনের এই সম্মেলনে নৌপরিবহন খাতের শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীসহ ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন।সম্মেলনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মেরিটাইম ও লজিস্টিক্স খাতের বর্তমান অবস্থা ও ট্রেড নিয়ে অবহিতকরণ, নৌখাতের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ আকৃষ্ট এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হবে।

এছাড়া বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশে নৌ খাতের উন্নয়ন ও এতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করার পথ খোঁজার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দক্ষিণ এশীয় বন্দরগুলোর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হবে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের মুম্বাইতে ফোরামের প্রথম সম্মেলন হয়।বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বাজার সম্প্রসারণের ফলে দক্ষিণ এশিয়া আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে করে এ অঞ্চলের পণ্য সরবরাহ ও সামুদ্রিক পরিসেবা প্রসারিত করার একটি বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জলপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও দিন দিন বাড়ছে।

নৌপথে ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট আমদানি-রপ্তানি ছিল ৪৩ দশমিক ১৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৩ দশমিক ২১ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতায় জলপথের দীর্ঘমেয়াদী নাব্যতা বৃদ্ধি, নদীবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, নতুন বন্দর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপোগুলোতে জাহাজ ও যাত্রী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নৌযানের দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বেসরকারি খাতের জন্য ব্যাপক সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি।”

বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন খাতে যথোপযুক্ত কর্মপন্থা গ্রহণের বিষয়ে আশাপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ ক্ষেত্রে সীমিত কার্বন নির্গমণ কৌশলই হবে আমাদের মৌলিক বিবেচ্য বিষয়। যাতে জলবায়ুর পরিবর্তনে ফলে আমাদের বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি না হয়।”

তিনি বলেন,“বাংলাদেশর অপার সম্ভাবনার দেশ।নৌপরিবহন সেক্টরেও রয়েছে বিপুল ব্যবসায়িক সুযোগ।দেশ-বিদেশে কন্টেইনার পরিবহনের উন্নয়ন, ড্রেজিং কার্যক্রম ও ফেরি সার্ভিসের সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে আরো আসে সেজন্য নীতিমালা আমরা আরো উন্নত করেছি।”

প্রধানমন্ত্রী নাব্যতা সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, “নাব্যতা সঙ্কটের কারণে অনেক সময় জলপথের গৌরব কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। আমরা এই নদী ও জলাশয়গুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছি, যা আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

নৌপরিবহন ব্যবস্থা মূল্য ও জ্বালানিসাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে যৌক্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবহন মাধ্যম হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠা করতে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌরুটগুলো পুনরায় চালু করছি এবং নদীগুলো ড্রেজিং করছি।”

“ড্রেজিং বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একান্তভাবে অপরিহার্য বলে আমি মনে করি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কের পরিবর্তে নৌপথে কার্গো পরিবহনে প্রতিবছর ব্যয় সাশ্রয় হয় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। পক্ষান্তরে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও নিরাপদ নদীপথ উন্নয়নে প্রতিবছর ড্রেজিং বাবদ ব্যয় হয় মাত্র ৬০ কোটি টাকা।”

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের সড়ক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মানসুখ লক্ষণভাই মান্দাভিয়া, এবং শ্রীলংকার ন্যাশনাল পলিসিজ অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যাফেয়ার প্রতিমন্ত্রী হর্ষ ডি সিলভা বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নৌ-পরিবহন সচিব আবদুস সামাদ।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: