বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ধাপে ধাপে জরিমানা নেবে ট্রাফিক পুলিশ  » «   আগামীকাল থেকে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে ওয়াজ মাহফিল শুরু  » «   ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে: ইনাম চৌধুরী প্রসঙ্গে মিসবাহ সিরাজ  » «   উল্টো আ’লীগ থেকে বিএনপিতে আসার অবস্থা: মির্জা ফখরুল  » «   এবার তাজমন্দিরে রূপান্তরিত হচ্ছে আগ্রার তাজমহল  » «   বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে : রাঙ্গাকে ফিরোজ রশীদ  » «   আবরার হত্যায় ২৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট জমা  » «   ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী  » «   সরকারবিরোধী হলে ৩০ ডিসেম্বরের পরই রাস্তায় নামতাম : ভিপি নুর  » «   আজ ৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   সিধুকে নিয়ে করা ইমরান খানের মন্তব্য ভাইরাল  » «   পায়ের ওপর দিয়ে বাস, মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সেই নারী  » «   পুরোনো বগিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছিল উদয়ন  » «   ট্রেন দুর্ঘটনা: লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন চাঁদপুরের দম্পতি  » «   ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে  » «  

ত্রাণ না পেয়ে হতাশ সিরাজগঞ্জের অনেক বানভাসী



নিউজ ডেস্ক::পানি কমতে শুরু করলেও এখনো নামেনি বসতবাড়ী থেকে। তাই গত নয়দিন ধরে পলিথিন-কাঁথা-কাপড় বা টিন দিয়ে খুপড়ি তুলে বন্যা কবলিতরা মানবেতরভাবে বসবাস ওয়াপদা বাঁধ বা উচুস্থানে। একটু বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। সারারাত গরু-ছাগলের সাথে নির্ঘুম রাত কাটে। আর এ কষ্টের সাথে যোগ হয়েছে পর্যাপ্ত টয়লেট-টিউবওয়েল ও রান্না করার সরঞ্জামাদির অভাব। অন্যদিকে, ত্রাণ সামগ্রী বিতরন শুরু হলেও অনেকে না পেয়ে চরম ক্ষোভ-হতাশা বিরাজের পাশাপাশি অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন।

পাহাড়ী ঢলের কারণে গত ১২ আগষ্ট থেকে ১৬ আগষ্ট পর্যন্ত মাত্র ছয়দিনে যমুনার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাকে ছাড়িয়ে বিপদসীমার ১৫২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

এ কারণে জেলায় প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। বসতবাড়ী তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রয় নেয় ওয়াপদা বাঁধে আর উচু স্থানে। সরঞ্জাম না থাকায় বাঁশের খুটির সাথে পলিথিন-প্লাষ্টিকের বস্তা ও কাঁথা দিয়ে তোলে ঝুপড়ি ঘর। আর ওই ঝুপড়ির মধ্যে ছোট ছোট শিশু, গরু-ছাগল আর কুকুর সাথে মানবেতরভাবে বসবাস করতে থাকে। বর্তমানে পানি কমে বিপদসীমার ৮৯ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও অনেক বসতবাড়ী থেকে পানি নামেনি।

ওয়াপদা বাঁধে খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খলিশাকুড়া খিচুরী পাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম জানান, বাড়ীতে একটু প্রায় গলা পানি। ৮দিন ওয়াপদা রয়েছি। এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান-মেম্বররা সাহায্য সহযোগীতা করেনি। একই স্থানে আশ্রয় নেয়া আরো ৫০-৬০টি পরিবারের একই অবস্থা। তাদের অভিযোগ চেয়ারম্যান-মেম্বর মুখ চিনে চিনে তাদের পছন্দের লোকজনদের রিলিফ দেয়। আর গরীবেরা রিলিফ পায় না।

এ অবস্থায় বঞ্চিতদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের চোখ-মুখে ফুটে ওঠে করুণ আকুতি। এদিকে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বন্যার পানিতে ডুবে আলভী খাতুন নামে দেড় বছরের এক শিশু মারা গেছে। সে মাধাইনগর ইউনিয়নের মালশিন গ্রামের আমীন প্রামানিকের মেয়ে। রবিবার (২০ আগষ্ট) বিকেলে মালশিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, ৭১৬ মে.টন চাল ও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার নগদ টাকা বিতরন করা হয়েছে। তারপরেও যদি কেউ না পেয়ে থাকে তবে সঙ্গে সঙ্গে বরাদ্দ দিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। তারপরেও চাহিদার শতভাগ পুরণ করতে না পারলেও বন্যা কবলিতদের পাশে থেকে যতটুকু সহায়তা করা সম্ভব তা সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: