বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৭ জুলাই খালেদার মুক্তি দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ  » «   মৌসুমি বায়ু দুর্বল, বর্ষার বর্ষণ নেই  » «   সিলেটে দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু  » «   হরিণাকুণ্ডুতে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সদস্য নিহত  » «   পুলিশের সোর্স মামুন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও  » «   ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরি, সালিসে জরিমানার টাকা ভাগাভাগি!  » «   আইনমন্ত্রীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী  » «   ‘এদেরকে নিয়েই মান্না সাহেব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন’  » «   রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে পুলিশের জালে বাংলাদেশী যুবক  » «   বিদেশ ও জেল থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা  » «   বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত রবার্ট মিলার  » «   বেবী নাজনীন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি  » «   কোটা আন্দোলন: ছাত্রলীগের হুমকিতে ক্যাম্পাস ছাড়া চবি শিক্ষক  » «   ভেবেই ক্লাব বদল করেছেন রোনালদো  » «   ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি  » «  

তৃপ্তি নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসারে যেতে পারবো : মুহিত



নিউজ ডেস্ক ::অর্থমমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, যেভাবে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। এটা আমার জন্যও অনেক বড় তৃপ্তি। আমার তো এখন চলে যাওয়ার সময়। চলে যাওয়ার সময় এমন তৃপ্তি নিয়ে যাওয়া, এটা ২০০১ সালে যখন ঠিক করলাম (রাজনীতি থেকে) রিটার্ড করবো। তখন এমন তৃপ্তি ছিল না। এখন যে কোন মুহুর্তে রিটার্ড করতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ আমার বদ্ধমূল ধারণ দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যেতেই থাকবে।’

বুধবার (১১ জুলাই) বিকেলে সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের আয়োজনে ‘আগামীর সিলেট- উন্নয়ন প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা দশ বছরে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তা অসাধারণ। আর এই উন্নয়ন কয়েকটি বিষয়ের সমন্বয়ে হয়েছে। প্রথমত, শেখ হাসিনার অত্যন্ত উপযোগী ও গণমুখী প্রগতিশীল নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। এমনকি তিনি এখন বিশ্ব নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানে আরোহণ করছেন। এটিও আমাদের দেশের জন্য মঙ্গলকার।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, আমরা যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। যেমন ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসি, তখন সারা বিশ্বে রফতানি বাজারে সমস্যা। তখন আমরা কিভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারি এই চিন্তায় ছিলাম। তখন আমরা দেশের ডমেস্টিক ডিমান্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নিলাম। আমরা কৃষি প্রধান দেশ হলেও অন্য দেশের মুখপেক্ষি ছিলাম। তখন আমাদের ডমেস্টিক ডিমান্ড খুবই কার্যকারি হয়েছে।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যখন উড়োজাহাজে উঠি। তখন নিচ থেকে শুধু বাংলাদেশের বড় বড় বিল্ডিংয় দেখা যায়। অথচ আমার কৈশবে গ্রামের মধ্যে একটা বড় বিল্ডিংয় দেখাই যেত না। এটা একটা পরিবর্তন। দ্বিতীয়ত কৈশরে যখন বিদেশ থেকে বাংলাদেশ আসতাম। তখন অন্ধকার একটি দেশের মধ্যে ঢুকতাম। তখন সাড়ে ৭ কোটি ৮ কোটি মানুষের দেশে, কিন্তু আলো-টালো কোথাও নেই। আর এখন রাতের যদি দেশে ঘুরেন, তাহলে প্রত্যেক জায়গায় কোন না কোন আলো আছে। অথ্যৎ প্রত্যেক জায়গায় আলো পৌছে গেছে। আর বিদ্যুৎ হচ্ছে একটি দেশের উন্নয়নেরর অন্যতম সূত্র।

সিলেটের উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, আপনারা যদি ঢাকা থেকে সিলেট যান। তখন হবিগঞ্জের পর থেকে সিলেট সদর পযর্যন্ত দেখবেন পুরাটাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া। সেখানে যেমন সিলেটের উদ্যোক্তা আছে, একইভাবে অন্য জায়গার উদ্যোক্তারাও আছে। তবে সিলেটের মানুষ অন্য এলাকার মানুষকে টলারেট করে। এমনকি দেখেগেছে সিলেটের এমপি সিলেটের না। তারা সিলেটে থেকেছে, সিলেটকে গ্রহণ করেছে, তাদেরকে সিলেটবাসী গ্রহণ করেছে।

সিলেট অন্য এলাকার মানুষকে সহজেই গ্রহণ করে। যেটা অন্যরা করে না উল্লেখ সিলেটের এই প্রবীন রাজনীতিবিদ বলে, সিলেট শহরে যদি যান। সেখানে একটা রিকশাওয়ালাকেও সিলেটি পাবেন না। ঔ রংপুরের পাবেন, নোয়াখালির পাবেন, ময়মনসিংহের পাবেন, খুলনার পাবেন। কিন্তু সিলেটের কাউকে পাবেন না।

তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই। তবে এটা বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমরা বাংলাদেশের সরকার হিসেবে চেষ্টা করছি, যাতে বাংলাদেশের যথাযথ উন্নয়ন হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে সভা-সেমিনার করে থাকি। তরই ধারাবাহিকতায় আজকে এই আয়োজন।

তিনি বলেন, সিলেটকে বেছে নেওয়া কারণ হচ্ছে সিলেটের বাংলাদেশের জন্য অন্যতম পথ নির্দেশক। যেমন আমরা বাংলাদেশে যে ইসলামকে চিনতাম, সেটা হচ্ছে সুফি ইসলাম। যার সূচনা সিলেট থেকে। সিলেটে যে চা বাগান আছে, সেখানে যে শ্রমিকরা কাজ করে, তাদের সাথে মুসলিম কমিউনিটির যে ভালো সম্পর্ক বিরাজমান। সেটা দ্বারা বাংলাদেশের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নির্দশণ বহণ করে। এছাড়া সিলেট পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয়, সিলেটের বিপুল জনগোষ্ঠী দেশের বাহিরে অবস্থান করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। এসব বিবেচনায় আজকে আমরা বিষয়টাকে বেছে নিয়েছি আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে।

অনুষ্ঠানে ডা. নুজহাত চৌধুরী সম্পা বলেন, একটি সরকারের আমলে এত ব্যাপক উন্নয়ন সিলেটে হয়েছে সেটা কল্পনা করা যায়। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্যালুট দিতে চাই। আমি চাই সিলেটের এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত থাক।

তিনি বলেন, আমি শহীদ কন্যা হিসেবে আশা করি সিলেট হবে উন্নয়নের সিলেট, অসম্প্রদায়িকতার সিলেট।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের সভাপতি ড. এ কে আব্দুল মোমিন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: