বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «   ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর  » «   ৪০ ঘণ্টা পর মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই নারী জঙ্গির আত্মসমর্পণ  » «   পূজায় বিজিবিকে মিষ্টি পাঠিয়েছে বিএসএফ  » «   উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ‘ট্রেনে কাটা’ পড়ে মৃত্যু  » «   আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না জঙ্গিরা  » «   শিশু জয়নাব ধর্ষণ-হত্যা : ইমরানের ফাঁসি কার্যকর  » «   ‘বেত ও বেলুন দিয়ে মারে,পরে নখে সুই ঢুকিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়’  » «   বউকে বৃষ্টিতে ফেলে ছাতা মাথায় ট্রাম্প!  » «   ঋণের পরিবর্তে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব ব্যাংক ম্যানেজারের,অতঃপর..  » «   খাশোগি নিখোঁজ, বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা পাচ্ছে সৌদি  » «   নিরাপদ খাদ্যে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি: ক্যাব সভাপতি  » «   শাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ  » «   আত্মসমর্পণ না করলে ‘নিলুফা ভিলায়’ অভিযান আজ  » «  

তাসপিয়া হত্যায় মুখ খুলল প্রেমিক আদনান



নিউজ ডেস্ক::চট্টগ্রামের আলোচিত সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসপিয়া হত্যা কাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন প্রেমিক আদনান। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আদনান তার সঙ্গে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে অনেক তথ্য দেন।

বর্তমানে স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিনের (১৫) মরদেহের পোশাক রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।

তাসপিয়া আমিন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভিকটিম তাসপিয়ার পরনে থাকা পোশাকগুলো ডিএনএ ম্যাচ (রাসায়নিক পরীক্ষা) করানোর জন্য রবিবার (১৩ মে) আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি আরো জানান, এছাড়া আদালত ‘পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’ কে এ মামলার আসামি ও তাসপিয়ার প্রেমিক আদনানের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন এবং তার সিমের সব তথ্য পাওয়ার ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে, তাসপিয়ার মরদেহের ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিআইডি ভিসেরার ভিত্তিতে কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। তা ছাড়া তাসপিয়াকে বহনকারী সেই সিএনজি অটোরিকশার নম্বরও শনাক্ত করা যায়নি।

রবিবার (১৩ মে) তাসপিয়া হত্যা মামলার আসামি আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর চট্টগ্রাম মহানগর শিশু আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরীর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। একইসঙ্গে তাকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত আগামী ৩১ মে শুনানির দিন ধার্য করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতিতে পুলিশ আদনানকে ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আদনান তার সঙ্গে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আদনান স্বীকার করেছে, তাসপিয়ার ফেসবুক তার বাবা বন্ধ করে দেন। এরপর তারা দু’জনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতেন।

সিএমপির তাসপিয়া মার্ডার মামলার তদন্ত টিমের ইনচার্জ এডিসি আরেফীন জুয়েল জানান, তাসপিয়ার জন্য ভাড়া করা অটোরিকশা চিহ্নিত করা গেলেও সেটির নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই অটোরিকশার স্ক্রিনশট ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়া তাসপিয়ার লাশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে বুধবার তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসপিয়ার পিঠজুড়ে পাওয়া গেছে নির্যাতনের ছাপ। কিশোরীটির পিঠ, বুক ও স্পর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ সোহেল।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: