মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাতে দেশ ছাড়ছেন মাহমুদউল্লাহ-মুস্তাফিজ  » «   পারিবারিক অশান্তির মূলে পরকীয়া  » «   ‘এই সুমি সেই সুমি’  » «   সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ প্রিয়া প্রকাশ  » «   খালেদার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার বিষয়ে যা বললেন আ’লীগ নেতারা  » «   পাবনায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বই পড়া ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   পাবনা জেলা বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির কমিটি গঠন শাহাদত সভাপতি রাসেল সম্পাদক  » «   কানাডায় বাংলাদেশি তরুণীর কৃতিত্ব  » «   মাথা না ধুলে ফরজ গোসল হবে?  » «   হোটেলে রুম ফাঁকা নেই, ফিরিয়ে দেয়া হলো মোদিকে  » «   ‘বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না’  » «   হবিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি,আহত ৩০  » «   পোশাক নিয়ে আলোচনায় সোহানা সাবা  » «   ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত শহীদ মিনার  » «   চুনারুঘাটে অগ্নিকান্ডে ২টি দোকান পুড়ে ছাই  » «  

তাইজুলের পর মোস্তাফিজের আঘাত



স্পোর্টস ডেস্ক:: তাইজুলের পর লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানলেন মোস্তাফিজ। গুনাথিলাকাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান বাঁহাতি এই পেসার। এর আগে আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে থাকা ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে বোল্ড করেন তাইজুল।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৭ রান। করুনারত্নে ২৯ রান নিয়ে বাট করছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেট এসেছেন দিনেশ চান্দিমাল। বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে আছে ১৯৯ রানে।

বাংলাদেশকে ১১০ রানে অলআউট করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দেখে শুনেই শুরু করে দুই ওপেনার। তবে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দেন রাজ্জাক। বাঁহাতি এই স্পিনারের বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মেন্ডিস। বলে-ব্যাটে করতে পারেননি। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর পর রিভিউ নিয়েছিলেন। তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।

মেন্ডিসের বিদায়ের পর উইকেটে এসেই আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। তবে ব্যক্তিগত ২৪ বলে ২৮ রান করে থামে এই ব্যাটসম্যান। তাইজুলের মিডল স্টাম্পে পিচ করা বল ডিফেন্স করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে বল লাগে স্টাম্পে।

এর আগে চাপ নিয়েই দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নামে প্রথম দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও মিরাজ। তবে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি লিটন। লাকমলের ছেড়ে দেওয়ার মতো বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে স্টাম্পে টেনে আনেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ফলে ২৫ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান এই তারকা।

লিটনের বিদায়ের পর মিরাজকে ভালোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দুইজনে মিলে গড়েন ৩৪ রানের জুটি। তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন। ধনঞ্জয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের স্পিন করা বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে গিয়ে লাগে স্টাম্পে। দুই বল ব্যবধানে ফিরে যান সাব্বির। এই স্পিনারের বল স্ট্রেট ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। তবে বল স্পিন করায় যেভাবে খেলতে চেয়েছিলেন পারেননি। মিডউইকেটে নিচু ক্যাচ চলে যায় দিনেশ চান্দিমালর হাতে। সাব্বিরের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের লিডের স্বপ্ন।

নিজের পরের ওভারেই রাজ্জাককেও ফিরিয়ে দেন ধনঞ্জয়া। ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। পরের ওভারেই রান আউট হন তাইজুল। আর পেরেরার বলে মোস্তাফিজ এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরলে ১১০ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। মিরাজ ৩৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে শ্রীলঙ্কাকে ২২২ রানে অল আউট করে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবাল ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই রিটার্ন ক্যাচ দেন লাকমালের হাতে। তামিমের বিদায়ের পর দ্রুত বিদায় নেন চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া মুমিনুল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই খামখেয়ালিপনা করতে গিয়েই বলতে গেলে রানআউট হন টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক।

কুশল পেরেরাকে মিড-অফে খেলেই এক রান নিতে গেলেন ইমরুল কায়েস। দৌড়ে আসলেন মুমিনুলও; কিন্তু ক্রিজে পৌঁছে গেছেন মনে করে কিংবা কাছাকাছি হওয়ার পর রানআউট থেকে বেঁচে গেছেন মনে করে তিনি কিছুটা স্লো হয়ে যান। এরই মধ্যে বল চলে আসল। মুমিনুল ব্যাট ক্রিজে ছোঁয়ানোর আগেই উইকেট ভেঙে দিলেন উইকেটরক্ষক ডিকভেলা। ৪ রানে পড়লো দ্বিতীয় উইকেট।

তামিম-মুমিনুলের পরপর বিদায় মানে বাংলাদেশের দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়। এই বিপর্যয় সামাল দিতে খুব সতর্কভাবে এগিয়ে চলা প্রয়োজন ছিল ইমরুল কায়েস আর মুশফিকুর রহীমকে। এ দু’জনকে সে চেষ্টা করেননি তা নয়। বিশেষ করে মুশফিকুর রহীম; কিন্তু অতি সতর্কতা এবং বোকামির দণ্ড দিতে হলো তাকে। সুরঙ্গা লাকমালের বল ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড হয়ে গেলেন মুশফিক।

৯ম ওভারের শেষ বলটি অফ স্ট্যাম্পের অনক বাইরে মনে করে ছেড়ে দেন মুশফিক। যদিও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন লেগ স্ট্যাম্পের ওপর। কিন্তু বল হালকা ইনসুইং করে ভেতরে ঢুকে যায় এবং উড়িয়ে দিয়ে যায় তার উইকেট। ১২ রানে পড়লো ৩য় উইকেট। মুশফিক বিদায় নিলেন মাত্র ১ রান করে।

মুশফিকের বিদায়ের পর ধরে খেলার চেষ্টা করেন ইমরুল কায়েস এবং লিটন কুমার দাস। এ দু’জনের ব্যাটে ৩৩ রানের জুটি গড়ে ওঠে। কিন্তু লঙ্কান স্পিনারদের চাপের মুখে টিকে থাকাই যেন কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য। সে কারণে, টিকতে পারলেন না ইমরুল কায়েসও। তিনিও আউট হয়ে গেলেন ঘূর্ণি তোপে পড়ে।

দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ইমরুল। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি; কিন্তু লাভ হলো না। উইকেট হারান তিনি। এ সময় তার ব্যক্তিগত রান ছিল ১৯। ৫৫ বলে খেলা ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩ বাউন্ডারিতে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: