মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আমার কিছু হলে দায়ী আপনারা মামা-ভাগ্নে: সিইসিকে গোলাম মাওলা রনি  » «   ভুলভ্রান্তি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন: শেখ হাসিনা  » «   মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য: সিইসি  » «   ভোটের ফলাফল প্রকাশে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মইনুলের জামিন  » «   বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে অবজ্ঞা শেহবাগের!  » «   সারাদেশে ১ হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন  » «   প্রার্থিতা নিয়ে রিট খারিজ, নির্বাচন করতে পারবেন না খালেদা জিয়া  » «   জামায়াতের ২২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে রুল  » «   সিলেটে প্রাধান্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার  » «   বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করছেন ফখরুল  » «   আপিলেও ভোটের পথ খুলল না ইলিয়াসপত্নী লুনার  » «   যেসব ‘বিশেষ’ অঙ্গীকার থাকছে আ. লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে  » «   আ.লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন শেখ হাসিনা  » «   সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর ও ধরপাকড়ের অভিযোগ  » «  

তাঁতশিল্প আধুনিকায়নে বিশেষ উদ্যোগ, বাড়ছে ঋণ



নিউজ ডেস্ক:: সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যেতে থাকা তাঁত ইউনিট রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার তাঁত আধুনিকায়নের জন্য দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করবে সরকার। তবে তাঁতিদের কোনো টাকা-পয়সা এজন্য ব্যয় করতে হবে না।এছাড়া মূলধনের অভাবে তাঁত ইউনিট বন্ধ রেখেছেন, এমন অস্বচ্ছল নির্বাচিত ৩৪ হাজার ৬৫০টি তাঁতের অনুকূলে চলতি মূলধন হিসেবে ১৪৫ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করবে সরকার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ দু’টি তাঁত শুমারি (১৯৯০ ও ২০০৩) অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে যেখানে দেশে মোট দুই লাখ ১২ হাজার ৪২১টি তাঁতকল ছিল, সেখানে ২০০৩ সালে কমে দাঁড়ায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৫১২টিতে। অর্থাৎ তাঁতকলের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। যদিও সবশেষ জরিপ অনুযায়ী, এ শিল্পের বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৮ দশমিক ৭৯ কোটি মিটার কাপড়।

জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের দিক দিয়ে অবদান ছিল এক হাজার ২২৭ কোটি টাকারও বেশি। তাঁতের সুদিন ফেরাতে তাঁত ইউনিটের আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাড়ছে ঋণ বিতরণের হারও।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড সূত্র জানায়, তাঁতিদের ঋণ বিতরণের হার বাড়ানো হচ্ছে। এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম। আগে কোমর তাঁতে ১০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হতো, এখন ৩০ হাজার করা হয়েছে। একজন তাঁতি সর্বোচ্চ পাঁচটি তাঁতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাবেন। একইভাবে জামদানি ও সিল্ক তাঁতে ১৮ হাজার টাকার পরিবর্তে ৬০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের সার্ভিস চার্জ পাঁচ শতাংশ। ঋণ দেওয়ার প্রথম তিন মাসে কোনো কিস্তি দিতে হবে না। তিন মাস পরে সার্ভিস চার্জসহ ৩৬ কিস্তিতে তাঁতিদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও ফ্রেম তাঁতে ১৮ হাজারের পরিবর্তে ৫০, পিট লোমে ১২ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকা ঋণ পাবেন তাঁতিরা।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পুনর্বাসনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নে ‘তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় এসব সুবিধা পেতে চলেছেন তাঁতিরা। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫৮ কোটি টাকা। চলতি সময় থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের প্রধান (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) আইয়ুব আলী বাংলানিউজকে বলেন, তাঁতের সুদিন ফেরাতে বাড়ছে ঋণহার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে ঋণ বিতরণ। যে সব তাঁতি অস্বচ্ছল শুধু তারাই পাবেন ঋণ। এছাড়া অনেক তাঁত ইউনিট জরাজীর্ণ। যেসব তাঁতি এগুলো মেরামত করতে পারছেন না, তাদের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নারী তাঁতিদের ক্ষমতায়ন করা হবে। তাঁতখাতের উন্নয়ন ও আয় বর্ধনের মাধ্যমে তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা হবে। যে কোনো মূল্য এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর সরকার।

১৯৯০ সালের আগেও হস্তচালিত তাঁতশিল্প ছিল দেশের সর্ববৃহৎ কুটির শিল্প। তাঁত শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ নিয়োজিত ছিল। কর্মসংস্থানের দিক থেকে কৃষি ও গার্মেন্টস শিল্পের পরেই তৃতীয় বৃহত্তম এবং গ্রামীণ কমর্সংস্থানের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত ছিল তাঁত। কিন্তু ভিনদেশি পোশাকের বাজার দখল এবং আধুনিকায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা-প্রশিক্ষণের অভাবে তাঁতশিল্প ছেড়ে দিচ্ছেন তাঁতিরা।

বিদেশি পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় অন্যান্য পোশাকেও আধুনিকায়নের ফলে নতুনত্ব এলেও তাঁত শিল্পে উন্নত প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ নেই। এরমধ্যে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও শ্রমের যথেষ্ট মূল্য না পাওয়ার কারণে এই শিল্প ছেড়ে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁতিরা।

ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, যশোর, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল এবং পাহাড়ি অঞ্চলের তাঁতকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর মিলছে সংবাদমাধ্যমে। তাঁতিদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এই শিল্পে ধরে রাখতেই সরকার এমন উদ্যোগ হাতে নিতে যাচ্ছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: