শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জুটি বাঁধছেন শাকিব-শ্রাবন্তী!  » «   দু’সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু  » «   অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন প্রতিমন্ত্রী  » «   লামায় অবৈধভাবে প্রবেশকালে ১৪ রোহিঙ্গা আটক  » «   দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রদল নেতার দাফন সম্পন্ন  » «   ফেসবুকের কবলে ‘নিঃস্ব’ যুবলীগ নেতা  » «   বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ২০  » «   প্রেসক্লাবে খাদ্যমন্ত্রী ‘খালেদার দীর্ঘ কারাবাস চায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ’  » «   কম সাজায় জামিন আছে তবে…  » «   সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে আগুনে নিহত ১  » «   জাতীয় নির্বাচনে ‌বিএনপির অংশগ্রহণ করতে হবে  » «   খালেদার অর্থদণ্ড স্থগিত, নথি তলব  » «   মাশরাফির মেয়ে কোরআনের ছাত্রী!  » «   কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, নারীর ফ্ল্যাটে সচিবের কাণ্ড  » «   যেভাবে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের ফাঁদে ফেলতো সুন্দরী জেরিন  » «  

ঢাকায় টাকার হাট



টাকা বেচা-বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর ঢাকায়। প্রায় ৫০ বছর ধরে গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের সিঁড়ির সামনের ফুটপাতে এ হাটটি চলে আসছে। কম দামে টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা, নতুন টাকার বিনিময়ে ছেঁড়া ও পুরান টাকা বিক্রি হচ্ছে এ ফুটপাতে।

গুলিস্তানের এ স্থানটি ঘিরেই অর্ধশতাধিক মানুষ টাকা বেচা-বিক্রির ব্যবসা করছেন। এই ব্যবসা দিয়ে ঘর-সংসার চলে সবার। দুই টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত সবধরনের নোটের নতুন বান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে গুলিস্তানের এই ‘টাকাওয়ালাদের’ কাছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ছেঁড়া টাকা নিয়ে অনেকেই বেকায়দায় পড়েন। যারা এই ছেঁড়া টাকা চালাতে পারে না তাদের কাছ থেকে টাকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম মূল্যে নোটগুলো কিনে নেন। এছাড়া নতুন নোটের বান্ডেলও তারা বিক্রি করেন। এক্ষেত্রে ১০০ টাকা একটি বান্ডেল ১০০ টাকা। ২০ টাকার ১০০টি নতুন নোট নিতে ৮০-১০০ টাকা, ৫০ টাকার ১০০টি নতুন নোট নিতে ১০০ টাকা, ১০০ টাকার ১০০টি নতুন নোট বিক্রি হয় ৭০-৮০ টাকা।
ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন দুইশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। কখনও কখনও আবার মোটেও হয় না। তবে কোনো কাস্টমার আসলে তাকে কেই ফিরে যেতে দেন না। খুব কম লাভ হলেও টাকার নোট বিক্রি করে দেন তারা।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, উৎসব মৌসুমে তাদের টাকা বেচা-বিক্রির ব্যবসা জমে ওঠে। বিশেষ করে দুই ঈদে এর চাহিদা থাকে বেশি। সে সময় একজন ব্যবসায়ী টাকা বিক্রি করে কমপক্ষে এক লাখ টাকা আয় করেন। বছরের অন্যসব দিনে যে টাকা আয় হয় তার অর্ধেক আয় হয় দুই ঈদের সময়ে।

তবে সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটপাতে হকার বসার বিষয়ে কড়াকড়ির কারণে পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছে এই টাকা ব্যবসায়ীদের। একটু ফাঁকা পেলে বসলেই পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা তাড়া ‍করেন। তখন টাকায় ব্যাগ নিয়ে পালাতে হয় তাদের। মাঝে মধ্যে দেখা দেয় ছিনতাইচক্র। তারা হঠাৎ করেই টাকার বান্ডেল নিয়ে দৌড় দেয়।
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে রাজধানীর গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটের সামনে টাকার ব্যবসা করেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নুর হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে জানান, প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার নতুন বান্ডেল নিয়ে আসেন। কোনো সময় সব টাকাই বিক্রি হয়ে যায়। আবার কখনও হয় না। গড়ে ৭ থেকে ৮শ টাকার মতো থাকে। এ দিয়েই তিন সদস্যের সংসার চলে যায়।

তিনি জানান, প্রতিদিন যে আয় হয় তার থেকে আবার ২০০ টাকা লাইনম্যানকে দিতে হয়। তারা পুলিশ ও ফুটপাতের জায়গা বিক্রি করে এ টাকা নেয়। টাকা না দিলে ফুটপাতে বসতে দেয়া হয় না।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: