শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দ্য হান্ড্রেডের ড্রাফটে আরও ৫ বাংলাদেশি ক্রিকেটার  » «   বাংলা একাডেমির সুপারিশে বদলে গেল বাংলা বর্ষপঞ্জি  » «   ওসমানীনগরে নামাজের সময় মাছ বিক্রি বন্ধ  » «   মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে হংকং ‘ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ পাস  » «   গুগল ম্যাপে আবরারের নামে হল, খুনিদের নামে শৌচাগার  » «   গণশপথ নিয়ে আন্দোলনের ইতি টানলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা  » «   দক্ষিণ আফ্রিকায় মসজিদে যাওয়ার পথে গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যু  » «   তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়তে কুর্দিদের ‘প্রশিক্ষণ দিয়েছিল’ যুক্তরাষ্ট্র  » «   অপরাধ প্রতিরোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন: পুলিশ সুপার  » «   আবরার হত্যা: ২০ জনকে আসামি করে চার্জশিট হচ্ছে  » «   কানাইঘাটে ১১টি ভারতীয় গরু আটক  » «   জাবির গণরুম: ম্যানার শেখানোর নামে নবীন শিক্ষার্থী নির্যাতন  » «   কতগুলো বাটপার আছে যারা জাতীয় নেতা: ভিপি নুর  » «   ১৫ দিনে পাসপোর্ট না হলে কারণ জানিয়ে দিতে হবে আবেদনকারীকে  » «   ভারতে পালানোর সময় আবরার হত্যার আসামি সাদাত গ্রেফতার  » «  

ঢাকার অতিথিশালা নিয়ে রাবি প্রশাসনের ব্যাখ্যা



ঢাকার অতিথিশালা নিয়ে রাবি প্রশাসনের ব্যাখ্যা

ঢাকার হাতিরপুলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অতিথি ভবন কেনা নিয়ে গণমাধ্যমে যে দুর্নীতি বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে তা নাকচ করে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ওই নিবাসের জমির মূল্য এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতা বিষয়ক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং ঢাকায় জমিসহ ফ্ল্যাট ক্রয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান জানান, ১৯৯০ সালে ঢাকায় ভাড়া বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিশালা চালু করা হয়। বর্তমান অতিথিশালায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় নিজস্ব অতিথিশালা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। অধিকতর সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ অতিথিশালা কেনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নেওয়া হয়।

পরে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রতি বর্গফুট ছয় হাজার সাতশত ৫০ টাকা দরে প্রয়োজনীয় ফ্লোর দিতে ব্যর্থ হলে দরপত্রটি বাতিল হয়। দ্বিতীয় দফা দরপত্রে এলডোরাডো ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড প্রতি বর্গফুট দরে সাতহাজার নয়শত টাকা দরে কাজ পায়। তবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি মালিকানার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত নেন বলে জানান উপ-উপাচার্য।

তিনি আরও জানান, এলডোরাডোর সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিক খালিদ মাহমুদের কোনো চুক্তি না থাকায় জমিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা বর্তায় না বলে আইন উপদেষ্টা মতামত দেন। এরইমধ্যে জমির মালিক খালিদ মাহমুদ এলডোরাডোর দরে জমিসহ নির্মাণাধীন ভবন বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ফ্ল্যাট ক্রয় কমিটি জমিসহ ফ্ল্যাট সরাসরি ক্রয়ের সুপারিশ করে। সেটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি, ফাইন্যান্স কমিটি এবং পরে সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়।

অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান দাবি করেন, গত ৩১ আগস্ট এলডোরাডোর দরপত্র বাতিল করে খালিদ মাহমুদের কাছ থেকে ভবনসহ জমি সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় জমিসহ ফ্ল্যাট ক্রয় কমিটি।

খালিদের সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যমে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ হয়। এর মধ্যে ১২ হাজার আটশ ৯৬ বর্গফুট স্পেসের দাম এবং নয়টি পার্কিং স্পেস ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, লিফটসহ ১৩টি ইউটিলিটি বিল বাবদ মোট ১০ কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার চারশ টাকা আছে।

এছাড়া ভবনের নিবন্ধন, বিভিন্ন ট্রান্সফার ফি, সীমানা প্রাচীরসহ যাবতীয় খরচ হিসেবে দুই কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ছয়শ টাকা আছে। এসব বিষয় ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে তিন ধাপে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণ শেষ হলে সর্বশেষ ধাপে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্য তার লিখিত বক্তব্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে আংশিক তথ্য নির্ভর ও সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি দাবি করেন। এসময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু এন্তাজুল হক, প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর ও হিসাব পরিচালক আশরাফ-উল-হুদা উপস্থিত ছিলেন।

তারা দাবি করেন, অতিথিশালা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় নীতিমালা ২০০৮ এর কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি। পিপিআর ২০০৮-এ জমি/ফ্ল্যাট ক্রয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকলেও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায়ের লক্ষে পণ্যের আওতায় ফেলে দুইবার উন্মুক্তদরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতেও ব্যর্থ হয়ে সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যাতে সরকারি ক্রয়নীতির সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসৃত হয়েছে।

এদিকে অতিথিশালা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেছে শিক্ষক সমিতি।

সোমবার বেলা ১১টায় সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানান।

পরে অধ্যাপক শাহ্ আজম বলেন, প্রশাসন যদি এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে জমি কেনা নিয়ে গণমাধ্যমে যে দুর্নীতি বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ তা তদন্তের মাধ্যমে তাকে বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নগরীর মতিহার থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: