সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নিলামে উঠছে টাইটানিকের সাড়ে পাঁচ হাজার নিদর্শন  » «   নতুন সরকার এলেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে না  » «   গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে স্থান পেলো ‘ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’  » «   ফিলিপাইনে ভূমিধস : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৫৯  » «   গোপন বৈঠক চলাকালে বিশ্বনাথে লোকমানসহ জামায়াতের ১৭ নেতাকর্মী আটক  » «   ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে নাক গলানোর অধিকার নেই জাতিসংঘের’–মিয়ানমার সেনাপ্রধান  » «   খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি স্পর্শকাতর: হাইকোর্ট  » «   মুসলিম বিশ্ব বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জর মুখে: সৌদি বাদশাহকে এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি  » «   ‘জগাখিচুড়ি মার্কা ঐক্য টিকবে না’–কাদের  » «   ইমরানের এক টুইটেই দরজা বন্ধ!  » «   কুচকাওয়াজে হামলার প্রতিশোধে ইরানকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ৩ উৎকণ্ঠা ৩ দাবি  » «   টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে মূল পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই  » «   সরকার উৎখাতে দুর্নীতিবাজরা জোট বেঁধেছে: প্রধানমন্ত্রী  » «   জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ না হওয়ার কারণ দেখছি না: বনমন্ত্রী  » «  

ডাক্তারকে আপু বলায় রোগীর স্বজনদের পিটিয়ে আহত : রোগীর মৃত্যু



নিউজ ডেস্ক::বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনদের পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মেডিসিন বিভাগের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর আহত ওই দুই স্বজনকে জোরপূর্বক জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুক্রবার রোগী মাহেলা বেওয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে তাকে জয়পুরহাটে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

এর আগেও এক সিরাজগঞ্জের রোগীর স্বজনদের মারপিটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরে রোগী আলাউদ্দিনও মারা গিয়েছিলেন।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টায় রোগীর ছেলে গাজিউর রহমান (৪৫) ও তার ছেলে রুম্মান হোসেন শান্ত (২৫) তাকে দেখতে আসেন। এসময় রোগীর চিকিৎসা নিয়ে নাতি রুম্মান হোসেন শান্ত এক মহিলা ইন্টার্নকে আপা বলে সম্বোধন করে চিকিৎসার জন্য ডাকেন।

এঘটনার পরই ওই মহিলা ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে থাকা পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীর স্বজন শান্তর শার্টের কলার চেপে ধরেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শান্তর বাবা গাজিউর রহমান এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একটু পরই ছুটে আসে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী। তারপর দু’জনকে ধরে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন।

জানা যায়, এসময় অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরা ভয়ে ছুটাছুটি করে বাহিরে চলে যেতে থাকেন। ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা রাতেই হাসপাতালে গেলে তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। রাত ১টায় গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতাল থেকে চলে এলে আহত ওই দু’জনকে হাসপাতাল থেকে জয়পুরহাটে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে তারা জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে রাতেই ভর্তি হন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওই ওয়ার্ডে একা যেতে দেয়া হয়নি। হাসপাতালের উপ-পরিচালক নির্মলেন্দু চৌধুরী একজন কর্মচারীকে সঙ্গে দিয়ে ওই ওয়ার্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেন। সেখানে কেউ কেউ মুখ খুললেও নাম-পরিচয় গোপন রাখার কথা বলেন। অন্যরা ভয়ে জানান, তারা কিছুই দেখেননি। এ সময় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালে নেই। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে চিকিৎসক দেখা গেছে।

ওই ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন রোগী জানান, রোগীর চিকিৎসা নিয়ে কথাকাটাকাটির পর হঠাৎ করেই একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে ওই রোগীর দুই আত্মীয়কে মারপিট করতে করতে একটি রুমে নিয়ে যায়। এসময় তারা চিৎকার করতে থাকেন। মারপিটের ঘটনার সময় আমরা ভয়ে ওয়ার্ড ছেড়ে বাইরে যাই। বেশ কিছুক্ষণ মারপিটের ঘটনা ঘটে। আমাদের বলা হয়, কেউ বাইরের কাউকে এসব বিষয় বললে বিপদ আছে। ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীদের আড়াল করতে রোগী মাহেলাকে সিসিইউতে সরিয়ে নেয়া হয়।

আহত রুম্মান হোসেন শান্ত জানান, তার দাদি মাহেলা বেওয়ার শরীরে রক্ত দেয়া হচ্ছিল। রক্ত শেষ হলেও তা খুলে দেয়া হয়নি। বিষয়টি একজন মহিলা ডাক্তারকে বলতে গিয়ে আপু বলে ডাক দিয়েছিলাম। এতে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা অন্য একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক মাইন্ড করেন। এ কারণেই আমার কলার চেপে ধরা হয়। তারপর মারপিট করেন। একটু পরই একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ছুটে আছেন। তারা আমাকে ও আমার বাবাকে বেঁধে কিলঘুষিসহ রড দিয়ে মারপিট করতে থাকেন। আমরা চিৎকার করলেও কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে অসুস্থ অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জোর করে আমাদের জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং বলা হয় বগুড়ার কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালে যেন চিকিৎসা নেয়া না হয়।

শান্ত আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল থেকে তার মুমূর্ষ দাদিকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। পরে জয়পুরহাটে নেবার পথে তিনি মারা যান।

রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও অ্যাটেনডেন্ট মারফত খবর পেয়ে বগুড়ার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকসহ কাউকেই হাসপাতালের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি।

ঘটনার পর ডাক্তার নেতারা ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইন্টার্নদের সাথে বৈঠক করে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেদের মত ব্যাখ্যা তৈরি করে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান হয় ইন্টার্নরা কাউকে মারধর করেনি , বরং দুজন অ্যাটেনডেন্ট নারী ইন্টার্নকে ইভ টিজ করায় সেখানে উপস্থিত অন্যান্য রোগীর অ্যাটেনডেন্টরা তাদেরকে মারধর করেছে। তারা আহত হলে তাদের যথাযথ চিকিৎসা করা হয়েছে ।

এসময় সাংবাদিকরা আহতদের দেখতে চাইলে তা সম্ভব নয় বলে সমাপ্ত করা হয় প্রেস ব্রিফিং। সাংবাদিকরা হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে যাওয়ার পরে আনুমানিক আড়াইটা তিনটার দিকে আহত গাজীউর ও তার ছেলে শান্তকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করলে পাশের ওয়ার্ডের রোগীর স্বজনরা তাদের ওপর চড়াও হয়।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক, ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, কিছু দুষ্কৃতিকারী হাসপাতালে প্রবেশ করেছে। তখন যে ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয় সে প্রতিবাদ করে তখন আশেপাশেরে লোকজন এ লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সে ইভটিজিং কারীকে মারধর করেছে।

বগুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, স্বজনদের সাথে ডাক্তারদের সাথে ভুলবোঝি হয়। আর এই বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে তারা নিজেরাই এই বিষয়টি সমাধান করে নেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: