সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

টয়লেটে পালিয়েও রক্ষা হলো না শিক্ষিকার, আ’লীগ নেতা গ্রেফতার



30নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠ-বস করানোর পর ধামরাইয়ে লাঞ্চিত হলেন এক প্রধান শিক্ষিকা৷ শিক্ষিকাকে মারধর করায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তবে দু’জন শিক্ষকেরই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে৷-ডয়চে ভেলে।
পুলিশ ইতিমধ্যে ঐ আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করলেও, দলের লোকজন শিক্ষিকাকে নাকি অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে৷ নারায়ণগঞ্জেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা শ্যামল কান্তি ভক্তকে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে৷ ফলে আক্রান্ত হওয়া শিক্ষকরা নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তো আর চুপ করে থাকা যাবে না৷ আমাদের প্রতিবাদ করতেই হবে৷ তাদের বিচার চাইতে হবে৷ তবে বিচার হলেও পরবর্তীতে তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আবারও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে৷ আমাদের সমাজে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা প্রভাবশালীদের মধ্যে শিক্ষকদের সম্মান করার প্রবণতা একেবারেই নেই, যা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না৷ তারপরও আমি বলব, সব কিছু মাথায় রেখেই আমাদের প্রতিবাদ করে যেতে হবে৷”
জানা গেছে, ধামরাইয়ের ১১নং পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৌজিয়া ইয়াসমিন গত শনিবার স্কুলের অফিস কক্ষটি পরিবর্তন করেন এবং অন্য একটি কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন৷
এ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিজ নাসিমা ও আক্তার হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়৷ বিষয়টি নিয়ে দুই সহকারী শিক্ষিকা বুধবার স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহ-সভাপতি আবদুল মালেককে স্কুলে ডেকে আনেন৷ এ সময় আবদুল মালেক অফিস কক্ষ পরিবর্তন নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন৷ শুধু তাই নয়, এক পর্যায়ে শিক্ষিকাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন তিনি৷
প্রত্যক্ষদর্শী একজন শিক্ষক জানান, ফৌজিয়া ইয়াসমিন প্রতিবাদ করলে উত্তেজিত হয়ে তাঁকে মারতেও যান আবদুল মালেক৷ ভয়ে ফৌজিয়া ইয়াসমিন দৌড়ে স্কুলের টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেন৷ কিন্তু সেখান থেকেও দুই শিক্ষিকার সহযোগিতায় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়৷ তারপর তাঁকে মারধর শুরু করেন আবদুল মালেক৷ এতে শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন৷ পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে৷ এ ঘটনায় ফৌজিয়া ইয়াসমিন বুধবার ধামরাই থানায় সাধারণ ডায়েরি ও বৃহস্পতিবার মামলা করেন৷ পরে ঐ দিন বিকেলে সূত্রাপুরের নিজ বাড়ি থেকে আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করে ধামরাই থানা পুলিশ৷
ফৌজিয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘‘সহ-সভাপতির হাত থেকে বাঁচতে আমি ভয়ে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলাম৷ কিন্তু সেখান থেকে বের করে এনে মারধর করা হয় আমায়৷ আর এখন আবদুল মালেক গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ আমি এর বিচার চাই৷”
ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷”
এদিকে শ্যামল কান্তি ভক্ত জানান, তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছনার ঘটনার পর এমপি-র এপিএস বিশ্বজিৎ তাঁর কাছে হাসপাতালে এসে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানো, স্কুলে পুনর্বহাল করাসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়৷ তাতেও কাজ না হওয়ায় তাঁকে ভয় দেখানো হয়৷ এমপি নিজে তাঁকে হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ভয় দেখিয়ে বলেন যে, তাঁর কথা না শুনলে সাত খুনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে৷ এ সব ভয়ের মুখে তখন তিনি বিশ্বজিতের আনা একটা কম্পিউটারে কম্পোজ করা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন৷
শ্যামল কান্তি ভক্ত জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই এমপি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন৷ বৃহস্পতিবারও যোগাযোগ করেছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘এমপি আমাকে বলছেন, আপনি বাঁচেন আর যেন আমিও বাঁচি৷ আপনি সাধারণ শিক্ষক, গরিব মানুষ৷ আমার কথা শোনেন, আপনি বাঁচবেন৷”
শ্যামল কান্তি ভক্ত এমপি সেলিম ওসমানের পদত্যাগ দাবি করে জানান, এমপি-র প্রশাসনে প্রভাব খাটানোর সুযোগ না থাকলে তিনি হয়ত খানিকটা নিরাপদে থাকবেন৷

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: