সোমবার, ১ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Sex Cams
সর্বশেষ সংবাদ
পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «   সিঙ্গাপুরে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   মিশিগানের হাসপাতালে আর রোগী রাখার জায়গা নেই  » «   ৩ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু  » «  

‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় পিটিয়ে মুসলিম যুবককে হত্যা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানটি এখন আর রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রইলো না। কেড়ে নিল এক নিরীহ মুসলিম যুবকের প্রাণ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি হয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের খরসাবত জেলায়। চোর সন্দেহে তবরেজ আনসারি নামের ওই যুবককে বৈদ্যুতিক থামের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পাশাপাশি তাকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অত্যাচারের জেরে চব্বিশ বছর বয়সি ওই যুবক পরে মারা যান।

নিহত যুবক তবরেজ আনসারি পুণেতে দিনমজুরের কাজ করতেন। ইদের ছুটি কাটাতে গ্রামে এসেছিলেন। পরিবার তার বিয়ে ঠিক করেছিলো। গত ১৮ জুন অন্য দুই যুবকের সঙ্গে জামশেদপুরে যাচ্ছিলেন তবরেজ। ঝাড়খণ্ডের খারসাওয়ান দিয়ে যাওয়ার সময় চোর সন্দেহে বেশ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। সুযোগ বুঝে দুই সঙ্গী পালিয়ে যায়। উন্মত্ত জনতার ধর্মীয় রোষের শিকার হন তবরেজ।

তারা তাকে সমানে পেটাতে থাকে, কেউ লাঠি আবার কেউ বা হাত দিয়ে। আক্রমণকারীদের কাছে কাকুতি মিনতি করলেও কোনও লাভ হয়নি৷ একটানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে এভাবেই তবরেজের উপর চলে অকথ্য অত্যাচার। মারধরের পাশাপাশি তবরেজকে ‘জয় শ্রীরাম ’বলতেও বাধ্য করা হয়।

ইন্টারনেটে ছড়ানো বহু ভিডিয়োর একটিতে দেখা যায়, তবরেজকে পেটাতে পেটাতে লাঠিই ভেঙে যায় একজনের। বুকফাটা আর্তনাদ করছেন তবরেজ। অনেক পরে পুলিশ এসে তবরেজকে উদ্ধার করে চুরির দায়ে কোর্টে তোলে। কোর্ট পাঠায় জেল হেফাজতে। শনিবার অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবরেজকে। সেখানেই তিনি মারা যান। তবে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, হাজতে মৃত্যুর পরেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে।

তবরেজকে পেটানোর সময়ও তাকে না বাঁচিয়ে, অমানবিকভাবে তার উপর অত্যাচারের চিত্র মোবাইলে ভিডিও করতে দেখা যায় অনেককেই। সেইসব ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যা পুলিশের কাছেও এসে পৌঁছেছে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয় তাকে। গত শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তবরেজকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানেই প্রহৃত ওই মুসলমান যুবকের মৃত্যু হয়।

ভিডিওর সূত্র ধরে পুলিশ পাপ্পু মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মোদির দেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ওপর ধর্মান্ধ হিন্দুদের এ ধরনের নির্যাতন কোনো নতুন ঘটনা নয়। কখনও গোরক্ষার নামে, কখনও বা জঙ্গি দমনের নামে তারা মুসলিমদের ওপর চড়াও হয়ে থাকে। কেবল ঝাড়খণ্ড রাজ্যেই গত ৩ বছরে ১৩ মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: