সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নিলামে উঠছে টাইটানিকের সাড়ে পাঁচ হাজার নিদর্শন  » «   নতুন সরকার এলেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে না  » «   গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে স্থান পেলো ‘ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’  » «   ফিলিপাইনে ভূমিধস : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৫৯  » «   গোপন বৈঠক চলাকালে বিশ্বনাথে লোকমানসহ জামায়াতের ১৭ নেতাকর্মী আটক  » «   ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে নাক গলানোর অধিকার নেই জাতিসংঘের’–মিয়ানমার সেনাপ্রধান  » «   খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি স্পর্শকাতর: হাইকোর্ট  » «   মুসলিম বিশ্ব বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জর মুখে: সৌদি বাদশাহকে এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি  » «   ‘জগাখিচুড়ি মার্কা ঐক্য টিকবে না’–কাদের  » «   ইমরানের এক টুইটেই দরজা বন্ধ!  » «   কুচকাওয়াজে হামলার প্রতিশোধে ইরানকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ৩ উৎকণ্ঠা ৩ দাবি  » «   টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে মূল পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই  » «   সরকার উৎখাতে দুর্নীতিবাজরা জোট বেঁধেছে: প্রধানমন্ত্রী  » «   জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ না হওয়ার কারণ দেখছি না: বনমন্ত্রী  » «  

জেহাদুলের মুখে মা বাবা ভাই হারানোর লোমহর্ষক বর্ণনা



মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহরতলির মুসলিমবাগ এলাকা থেকে ১১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। শিশুটির নাম জেহাদুল ইসলাম। মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু গ্রামের বাসিন্দা বলে শিশুটি জানায়। তার বাবার নাম জসিম উদ্দিন ও মায়ের নাম শাহিনা আক্তার।

শিশুটি জানায়, গত ৯ দিন আগে সে তার ৩ বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে মিয়ানমার বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় তার ভাই স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত ও পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে নাফ নদ পার হয়ে দেশে প্রবেশ করে। এর আগে মিয়ানমারের সেনারা তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় সেনাবাহিনীর সহযোগী মগরা তার বাবাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গুলি করে এবং মাকে জবাই করে হত্যা করে। চকলেট কালারের পাজামা পাঞ্জাবি মাথায় সাদা টুপি পরিহিত জেহাদুল পুলিশকে জানায়, তার ইচ্ছে ছিল কোরআনে হাফেজ হওয়ার। মংডুর এক মাদরাসায় সে ৩য় শ্রেণিতে পড়ত। মগরা সেই মাদরাসাটাও আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

জেহাদুল ইসলাম বলে, আমরা সবাই ঘরে ছিলাম। হঠাৎ মগরা এসে বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। তখন আম্মা আমি ও আমার ছোট ভাইকে নিয়ে পালিয়ে যাবার সময় আম্মাকেও তারা ধরে নিয়ে ছুরি দিয়ে জবাই করে মেরে ফেলে। আমি আমার ভাইকে নিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি আসামাত্র বোমার আঘাতে আমার ভাই আমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর আর ভাইকে খুঁজে পাইনি। আমি সীমান্ত পার হয়ে নদী পথে এ দেশে চলে আসি। রোববার বিকালে শ্রীমঙ্গল থানায় এ প্রতিবেদককে মিয়ানমার থেকে আসা ১১ বছরের শিশু জেহাদুল ইসলাম এভাবেই নির্মমতার বর্ণনা দেয়।

জেহাদুল জানায়, সে ৮/৯ দিন আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। চট্টগ্রামে মানুষের মুখে শুনেছে সিলেটে হজরত শাহ জালাল (রহঃ) এর বড় মাজার আছে। সেই মাজারে গেলে খাবার পাওয়া যায়। এ কথা শুনে তারা ২০ জন ট্রেনযোগে সিলেট রওয়ানা দেয়। কিন্তু ওই ট্রেন ফেনীতে আসার পর পুলিশ তার সঙ্গের সবাইকে নামিয়ে দেয়। সে একা একা শ্রীমঙ্গলে চলে এলে স্থানীয় এক মুরব্বি তাকে পেয়ে বাসায় নিয়ে যান। ওখানে ৪/৫ দিন থাকার পর গতকাল তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। শহরের মুসলিমবাগ এলাকার বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, তিনি তাকে থানায় নিয়ে এসেছেন। গত মঙ্গলবার থেকে সে ওই এলাকায় আছে।

জেহাদুল বলে, ‘মায়ের বড় আশা ছিল আমি কোরআনে হাফিজ হবো। ওরা (মগরা) আমাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। বাবাকে গুলি করে মেরে ফেলে। মাকে গলা কেটে হত্যা করে মেরে ফেলে। আমি ছোট ভাইকে নিয়ে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসার জন্য রওনা দিলে হঠাৎ বোম ফেটে কালো ধোঁয়ায় ভাই হাত থেকে ছুটে যায়। আমি বাংলাদেশে ৮/৯দিন আগে আসি। আমাকে একজন লোক বলে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রঃ) মাজারে গেলে খাওন পাওয়া যাইবো। তাই ২০ জনের দলের সঙ্গে ট্রেনযোগে রওয়ানা দিই। ফেনীতে ওরা ধরা খায়। আখাউড়া আসিয়া ড্যামু ট্রেনে উঠি। দুইদিন আগে আমাকে ট্রেনে এক বৃদ্ধ কাঁদতে দেখলে আমাকে নিয়ে তিনি বাসায় যান।’

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি নজরুল বলেন, গত মঙ্গলবার শিশুটিসহ আরো ২০/২২ জন রোহিঙ্গা সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ওঠে। ফেনী রেল স্টেশনে পুলিশ বাকিদের নামিয়ে নিলেও ট্রেনের আসনে বসে থাকায় তাকে কেউ কিছু বলেনি। এ সময় শহীদ মিয়া নামে শ্রীমঙ্গলের এক যাত্রী তাকে শ্রীমঙ্গল নামিয়ে তার বাসায় নিয়ে যায়। গতকাল দুপুরে বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ জিহাদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। উদ্ধারকৃত জিহাদকে কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে ওসি কেএম নজরুল জানিয়েছেন। সূত্র: মানবজমিন

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: