রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ভাঙছে শরিক দল সঙ্কটে ঐক্যফ্রন্ট  » «   হলি আর্টিসান হামলা: রায় ২৭ নভেম্বর  » «   চাকা ফেটেছে নভোএয়ারের, ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলেন ৩৩ যাত্রী  » «   হাত-পা ছাড়াই মুখে ভর করে লিখে পিইসি দিচ্ছে লিতুন  » «   প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া বিএনপির চিঠিতে আবরার হত্যার বর্ণনা  » «   ১৫০ যাত্রী নিয়ে মাঝ আকাশে বিপাকে ভারতীয় বিমান, রক্ষা করল পাকিস্তান  » «   বিমান ছাড়াও ট্রেন, ট্রাক, বাসে করে আসছে পেঁয়াজ: সিলেটে পরিকল্পনামন্ত্রী  » «   চুক্তির তথ্য জানতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিল বিএনপি  » «   বোলডোজার দিয়ে সিসিকের অভিযান, উচ্ছেদ শতাধিক স্থাপনা  » «   রাজধানীতে দরজা ভেঙে সিলেটের সাংবাদিক মনসুর আলীর মরদেহ উদ্ধার  » «   স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল, সম্পাদক বাবু  » «   চার দিনের সফরে আজ আমিরাত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   শ্রীলঙ্কায় মুসলিম ভোটারদের বহনকারী বাসে বন্দুকধারীদের হামলা  » «   আজ পহেলা অগ্রহায়ণ: নানা আয়োজনে চলছে ‘নবান্ন উৎসব’  » «   মোরালেস সমর্থকদের ওপর পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৫  » «  

‘জুলহাজ-তনয় কিলিং মিশনে ৭ জন’



Dhulas-bg20160427170529নিউজ ডেস্ক :: ‘জুলহাজ ও তনয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি ৭ জন অংশ নেন। ভবনের দ্বিতীয় তলায় জুলহাজ স্যারের রুমে ঢোকেন ৪ জন, ভবনের মেইন গেটের ভেতরে ২ জন ঢুকে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। আর একজন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন’।

ওই ৭ জনকে নিজ চোখে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লা।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবনের ওপরে যাওয়া ৪ জন দুর্বৃত্তের মাথায় ক্যাপ ছিলো। নীল রঙের গেঞ্জি প্যান্টের সঙ্গে ইন করা এবং পায়ে কালো জুতো ছিলো। আর দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে ৪ থেকে ৫ মিনিট অবস্থান করেছিলেন’।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানের ৩৫ লেক সার্কাস রোডের আছিয়া নিবাস ভবনের নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লা সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। ওই ভবনের ভাড়া বাসায় সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

দুর্বৃত্তদের হামলায় ওই সময় ভবনের নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লাও আহত হন। তার মাথা, কাঁধ ও হাত চাপাতির কোপের আঘাতে জখম হয়।

পারভেজ মোল্লাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। তিনি বর্তমানে ওই বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বুধবার দুপুরে তার শরীরে ও মাথার ক্ষতস্থানের ড্রেসিং করানোর জন্য ওই বাসা থেকে বের হয়ে একটি স্থানীয় হাসপাতালে যাচ্ছিলেন পারভেজ। এ সময় তার সঙ্গে কথা হয় সাংবাদিকদের।

পারভেজ বলেন, ‘ঘটনার সময় আমাকে ভবনের দোতলায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। পরে আমি নিচে দৌড়ে চলে আসি। নিচে থাকা বাকি তিনজনের মধ্যে একজন মেইন গেটের বাইরে ছিলেন। আর বাকি দু’জন গেটের ভেতরে ঢুকে যান। তাদের হাতে চাপাতি ও পিস্তল ছিলো। তারা দু’জন আমার মামা আব্দুর রহিম ও অন্য নিরাপত্তাকর্মী সুমনের সঙ্গে আমাকেও বন্দি করে রাখেন’।

‘দুর্বৃত্তরা আমাদের হুমকি দেন, আমরা যদি চেচামেচি করি- তবে জানে মেরে ফেলবে। তাদের সবার হাতে চাপাতি ছিলো। আর একজনের কাছে পিস্তল ছিলো’।

ঘটনা প্রসঙ্গে পারভেজ মোল্লা জানান, ‘বিকেলে চারজন লোক আসেন। তাদের হাতে দু’টি কার্টন ছিল। তারা আমাকে বলেন, জুলহাজ স্যারের পার্সেল আছে, দিতে হবে। আমি বলেছি, ভাই আপনারা এখানে দাঁড়ান। আমি অনুমতি নিয়ে আসি। এরপর আমি গেটের সিটকানি লাগিয়ে দোতলায় যাই। জুলহাজ স্যারের বাসায় কলিং বেল চাপি। স্যার দরজা খুললে আমি তাকে বলি, স্যার আপনার পার্সেল আইছে। তাকে কি আসতে দেবো, নাকি আমি পাঠিয়ে দেবো? এর মধ্যেই তারা চারজন আমার পেছনে পেছনে ওপরে যান। তখন তাদের মধ্য থেকে একজন স্যারকে বলেন, আপনার একটি পার্সেল আসে। তখন জুলহাজ স্যার বলেন, আমার তো কোনো পার্সেল আসার কথা নাই, কে পাঠিয়েছে? তখন একজন স্যারকে কি যেন একটা নাম বলেন পার্সেলের। আরও বললেন, আপনার গেস্ট পাঠিয়েছে। যে নামটা বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই। স্যার তখন বলেন, আমারতো এই নামে কোনো পার্সেল আসার কথা না। আর পার্সেল যদি আসেও, তাহলে আমি দেখে নেবো’।

‘জুলহাজ স্যার আরও বলেছিলেন, আমি পার্সেল নেওয়ার আগে দেখতে হবে। কি আছে এটার ভেতরে?’

‘এ কথা বলতে বলতে ওরা চারজন দরজা দিয়ে স্যারের রুমের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এটা দেখে আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি। ঠিক তখন একজন আমার বাম হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। আমি বুঝতে পারিনি যে, আমার রক্ত বের হচ্ছে। তখন আমি দৌড়ে নিচে চলে আসি। আর ওই সময় আমি চিৎকারও করি। এ সময় আরেক দারোয়ান সুমন ঘুমায়ে আর আমার মামা ম্যানেজার আব্দুর রহিম বাথরুমে ছিলেন। ততোক্ষণে দুর্বৃত্তরা স্যারের রুমে ঢুকে যান’।

পারভেজ আরও বলেন, ‘ঘটনা ঘটানোর পরে দুর্বৃত্তরা যখন বের হয়ে যান, তখন তারা কি বলেছিলেন, সেটা আমার মনে নেই’।

সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সময় নেন ৫ মিনিট। আর এ কিলিং মিশনে অংশ নেন ৬ জন। আমরা ধারণা করছি, এটি টার্গেট কিলিং। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা কলাবাগানের ডলফিন গলি দিয়ে পালিয়ে যান’।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: