শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে দুই পুরস্কার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ডিজিটাল পাঠ্যবই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্য সহায়ক হবে: শিক্ষামন্ত্রী  » «   কাল পবিত্র আশুরা, তাজিয়া মিছিলে ছুরি-তলোয়ার নিষিদ্ধ  » «   জেল থেকে বাসায় ফিরলেন নওয়াজ-মরিয়ম  » «   রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৫ কোটি ডলার সহায়তা  » «   রান্নাঘরের গ্রিল কেটে শাবির ছাত্রী হলে চুরি,নিরাপত্তাহীনতায় ছাত্রীরা  » «   এখনও জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : যুক্তরাষ্ট্র  » «   মোদিকে ইমরানের চিঠি: পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরুর তাগিদ  » «   খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতেই বিচার চলবে: আদালত  » «   ফুটপাতের খাবার বিক্রেতা থেকে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি!  » «   বিএনপি নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ তারেক রহমান!  » «   পায়রা বন্দরের নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ আয়োজন  » «   সরকারের চাপের মুখে দেশত্যাগ করতে হয়েছে: এসকে সিনহা  » «   পুতিন আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে : রাশিয়ান মডেল  » «   বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ: ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত  » «  

জীবিত নয়, মৃত শিশুর প্রয়োজন



AA-1নিউজ ডেস্ক :: একটা ছবি। আলোকচিত্র। এই পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একটি শিশু। নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যেতে চেয়েছিল। বাধ্য হয়েছিল। যেভাবে যাওয়া বারণ, সেভাবে। ‘শরণার্থী’ হয়ে। বাবা-মা-দাদার সঙ্গে। সমুদ্র পেরিয়ে। যাতে করে সমুদ্র পার হওয়া, তা ভেঙে যাওয়া, ছোট মানুষটির ডুবে যাওয়া, মৃত্যু। এক আলোকচিত্রির তোলা ছবি – সমুদ্র বালিয়াড়িতে ভেসে এসে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা একটা শিশু। মৃত। সংবাদমাধ্যমে সেই ছবি প্রকাশ। পৃথিবীর জেনে যাওয়া। আলোড়িত হওয়া। অপামর মানুষের সোচ্চার হওয়া। ইউরোপ-সহ অন্যান্য দেশের এগিয়ে আসা। ‘শরণার্থী’-দের সেইসব দেশে অভিবাসন দেওয়ার ব্যবস্থা করা। প্রসঙ্গত মনে রাখতে হবে ‘আয়লান’ নামের শিশুর অমন মৃত্যুর ছবি সামনে আসার অনেক আগে সমুদ্র পার হতে গিয়ে মারা গিয়েছেন ২০০০-এরও বেশি মানুষ।
আরও একটি আলোকচিত্র সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে। হাঙ্গেরির পুলিশ আটকে দিয়েছে সিরিয়ার একটি শরণার্থী পরিবারকে। হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্ত। একটি শিশু অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে তার বাবা আর মাকে ধরে রেখেছে পুলিশ। বাবার মুখে আর্তি, নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা। অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে সে। আরও একটা ছবি। আলোকচিত্র ছাপা হয়েছে। গ্রিস ম্যাসিডনিয়া সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকের মধ্যে দিয়ে গলিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি শিশুকে। এই ২ টি ছবি আলোড়িত করেনি বিশ্বকে। নাড়া দেয়নি পৃথিবীকে। আমি অন্তত জানতে পারিনি। পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিতে গেলে বেঁচে থাকলে হবে না। পৃথিবীকে নাড়িয়ে
দিতে গেলে শিশুদের মৃত্যু প্রয়োজন।
শরণার্থীরা ‘মানুষ’ নন, তাঁরা নিজেদেরকে নিজেরা ‘মানুষ’ বলে ভাবেন না। আমরাও না। কেন যেখানে থাকা সেখান থেকে চলে আসা? সিরিয়া ও ইরাকে গৃহযুদ্ধ। সে যুদ্ধ থামছে না। অন্য অন্য জায়গায় রাজনীতি, অর্থনেতিক সমস্যা। ওই ছোট্ট শিশু আয়লানের মৃত্যুর পরে নড়েচড়ে বসেছে গোটা পৃথিবী। ওই ছবি দেখার পর শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। নানা সমস্যা নিয়েও এগিয়ে এসেছে ছোট ছোট দেশ। সারা পৃথিবী শ্যেন দৃষ্টিতে নজর রাখছে ঘটনার দিকে। আর কোনো আয়লান কুর্দি এভাবে মারা গেল কিনা সেই দিকে। যেসব দেশ প্রথমে অভিবাসন দিতে রাজি হয়নি তারাও এগিয়ে এসেছে। সবই কিন্ত একটি শিশুর মৃত্যুর ছবি সামনে আসার পর।
অভিবাসনকে অস্বীকার করা মানে মানবিক অধিকার অস্বীকার করা। অভিবাসন কোনো রাজনীতির বিষয় নয়, মানবিক বিষয়। অভিবাসন একটি মানবিক অধিকার।
এসব সবারই জানা। শুধু মাঝে মধ্যে মনে রাখার জন্যে সমুদ্র সেকতে ভেসে আসা একটি মৃত শিশুর প্রয়োজন পড়ে।
সূত্র : কৌশিক ভট্টাচার্য, বিডিনিউজ

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: