মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

জীবন ও জীবিকা: ‘লিপিকার’ কৃষ্ণচন্দ্র



জীবন পাল:: কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ ১৬ বছর বয়সে শিক্ষানবিশ হিসেবে কুমিল্লার আর্ট এন্ড কোং প্রতিষ্ঠানে আর্ট এর কাজ শুরু করেন। শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় শুধুমাত্র খাবারের জন্য ৮ আনা দেওয়া হত তার হাতে। সেটা ছিল ১৯৬৭ সালের কথা। কাজ আয়ত্ত করে ১৯৭২ সালের মার্চে তিনি চলেন আসেন সিলেটে। কাজ শুরু করেন সাগর আর্ট প্রতিষ্ঠানে। তারপর বহুদিন সেই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেই আর্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করতে থাকেন। বর্তমানে কৃষ্ণ চন্দ্রের বয়স ৬৭ বছর।

রমনী মোহন দাশ ও বিনদা রানী দাশ এর ৩ ছেলে সন্তানের মধ্যে কৃষ্ণ ছিলেন প্রথম। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ার কারণে ৮ম শ্রেণীতে উঠেই পড়াশোনার ইতি টানতে হয় তাকে। তবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকায় একটা সময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার পর পুনরায় প্রাইভেটে পড়াশোনা শুরু করেন।সফলতার সাথে ১৯৭২ সালে প্রাইভেটেই এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৮১ সালে সাধনা কুন্ডুকে বিয়ে করেন তিনি। ২ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে বড় মেয়ে শিবানী রানী দাশ ও ছোট মেয়ে শিউলি রানী দাশ ইংরেজীতে অনার্স,মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। স্কুল জীবনে দুজনই সিলেটের স্বনামধন্য সরকারী অগ্রগামী গার্ল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে দুজনই শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। অন্যদিকে মেঝো ছেলে কেশব দাশ রাজা ম্যাথমেটিক্সে অনার্স সম্পন্ন করে কর্মরত আছেন ওয়ালটনের মদিনা মার্কেট শাখার ম্যানেজার হিসেবে।

৪২ বছর যাবত ব্যানার,ছবি আর্ট,সাইনবোর্ড,রংয়ের কাজ করা কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ ৭১ এর যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে ৭ দিনের জন্য ইন্ডিয়া গিয়ে আবার ফিরে এসেছিলেন । পরবর্তীতে ৩ মাস পর আবার ইন্ডিয়া চলে যান। সিলেট ফিরে এসেছিলেন ডিসেম্বরের ৭ তারিখ।

অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা-নির্বাহ করতে করতে একটা সময় কৃষ্ণ নিজেই দোকান কোঠা ভাড়া নিয়ে শুরু করে দেন ব্যানার,ছবি আর্ট,সাইনবোর্ড,রংয়ের কাজ। ১৯৮১ সালের দিকে সিলেটের তাঁতী পাড়ায় ১৭০ টাকা মাসিক ভাড়ায় নিজের প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। যার নাম দেন ‘লিপিকার’। প্রথম দিন দোকানের পুজোর বাজার করে এক রকম পকেট ফাঁকা অবস্থায় নিজের নতুন দোকানে বসে ছিলেন তিনি। দিয়েছিলেন প্রথম দিনের জন্য ৫০% ডিসকাউন্ট।

অথচ প্রথম দিনই তিনি ২৭০০ টাকার কাজের অর্ডার পেয়েছিলেন। যার মধ্যে প্রায় ৫-৬টি ব্যানারের কাজের অগ্রিম টাকাও পেয়েছিলেন । তৎকালিন সময়ে ব্যানার ৩ গজের দাম ছিল ২৫ টাকা। আর সাইনবোর্ড স্কয়ার ফুট ১.৫ টাকা। তবে ৭০ এর নির্বাচনের সময় ব্যবসা ভাল হয়েছিল। ৩ গজ ২৫ টাকা দরে শত শত ব্যানারের কাজ করেছেন কৃষ্ণ। আর ৭১ এ যুদ্ধের সময়ের প্রথম দিকে নাকি ৫ টাকার কাজ করেছিলেন ৫০ টাকায় ।

বর্তমানের ডিজিটাল ফ্লেক্সপ্রিন্ট এর কারণে ৫ বছর আগে রংতুলির এই ব্যানার এর কাজ বন্ধ করলেও ছবি বাঁধায়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই ব্যবসাটা এক রকম ভালই চলতো। ডিজিটাল প্রিন্ট আসার পর একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ’লিপিকার’ দোকানের ভাড়া দেন ২৩০০ টাকা। ১.৫ টাকা স্কয়ার ফুটে সাইনবোর্ড কাজ শুরু করলেও শেষ দিকে স্কয়ার ফুট হয়েছিল ২৫ টাকায়। ২৫ টাকায় ৩ গজের ব্যানার শেষ দিকে হয়েছিল ৩৫০-৪০০ টাকায়। সাইনবোর্ডেন শেষ কাজটি তিনি করেছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের জন্য। যে কাজের জন্য তিনি নিয়েছিলেন ৪০০০ টাকা।

তৎকালিন সময়ে সিলেটে আর্টের কাজ করার মত হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিল। যাদের মধ্যে- সাগর আর্ট,গ্রীণ আর্ট,হাবিব আর্ট,শিল্পী আর্ট ও আর্টিজেন এন্ড কোং ইত্যাদি উল্লেখ্যযোগ্য। এর মধ্যে কাজের দিক দিয়ে আর্টিজেন এন্ড কোং ছিল সিলেটে সেরা।

কৃষ্ণ চন্দ্র দাশের মতে, দেশ স্বাধীন হবার রাতটা ছিল তার ব্যবসা জীবনের সেরা একটি কাজের মুহুর্ত। যেদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন মাপের ১৩টি ব্যানার তৈরি করেছিলেন তিনি।যে কাজগুলো করেছিলেন একাই। ব্যানারের সুতা ধরার মতও তার সাথে সহকর্মী হিসেবে কেউ ছিলেন না।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: