মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অগ্নিঝুঁকিতে ঢাকার ৪১৬ হাসপাতাল-ক্লিনিক  » «   ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ফেসবুক ‘ডিজিটাল গ্যাংস্টার’: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট  » «   মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর  » «   পাকিস্তান থেকে ভারতে না গিয়ে দেশে ফিরলেন সৌদি যুবরাজ  » «   দুই বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হবে বিএনপি!  » «   মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিকী আত্মহুতি  » «   আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে আজ শেষ হল বিশ্ব ইজতেমা  » «   আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক  » «   ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিরুদ্ধে ১৬ অঙ্গরাজ্যের মামলা  » «   মেডিকেলের ডাস্টবিনে শিশুসহ ২৬ মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ  » «   উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ থেকে ইভিএম: ইসি সচিব  » «   হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি হিজড়াদের  » «   সব বাধা উপেক্ষা করে গণশুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  » «   অভিজিৎ হত্যা: অব্যাহতি পাচ্ছেন সাতজন, আসামি ছয়  » «  

জাহাজ ভর্তি পচা চাল নিয়ে তোলপাড়!



নিউজ ডেস্ক ::

সরকার না নেয়ায় বেসরকারিভাবে হলেও চাল বিক্রি করে যাবেন বিদেশি দুটি জাহাজের সংশ্লিষ্টরা। আর এ নিয়ে দেন-দরবার করতে গিয়ে গত দুদিন আগে ফাঁস হয়ে যায় খাওয়ার অনুপযোগী পচা চালের গোমর। খাদ্য বিভাগ বলছে, চাল অত্যন্ত নিম্মমানের। তাই খাদ্য বিভাগ চালগুলো ফিরিয়ে নিতেও বলেছে থাইল্যান্ডের এ জাহাজ দুটিকে। কিন্তু, জাহাজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাল ফেরত না নিয়ে চালগুলো বেসরকারিভাবে হলেও বিক্রি করার চেষ্টা শুরু করেন। গত মঙ্গলবার থেকে তারা যোগাযোগ করেন চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি চাল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এরপর থেকে পঁচা চাল নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় চট্টগ্রামজুড়ে। দেশের স্বনামধন্য একটি গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকারিভাবে আমদানি করা চাল বেসরকারিভাবে বিক্রির চেষ্টা কেন? এখানেই খটকা। চট্টগ্রাম বন্দর ও খাদ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানলাম জাহাজ দুটির চাল পচা। ফলে এ নিয়ে যেন কোনো বুমেরাং না হয় তাই গত ২০ দিন ধরে সরকারের খাদ্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অনেকটা গোপনে করে গেছেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফেরত আদেশসহ সব প্রক্রিয়া। এমন মন্তব্য ব্যবসায়ীদের।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে খাদ্য বিভাগ চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম বলেন, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা প্রায় ৩২ হাজার ১৪০ টন চাল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরমধ্যে এমভি থাই বিন বে নামের একটি জাহাজ ১২ হাজার ২৯০ টন চাল নিয়ে ৩১শে আগষ্ট এবং এমভি ডায়মন্ড-এ নামের অপর চালবাহী জাহাজ আসে ১লা সেপ্টেম্বর। এতে ১৯ হাজার ৮৫০ টন চাল রয়েছে।

কিন্তু চালগুলো খালাসের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, দরপত্রের শর্তের চেয়ে বেশি পরিমান মরা, বিনষ্ট ও বিবর্ণ দানা রয়েছে। ফলে চালগুলো গ্রহণ করা হয়নি। সেগুলো ফেরত নিতে বলা হয়। তিনি বলেন, জাহাজে থাকা চালের মধ্যে মরা, বিনষ্ট ও বিবর্ণ দানার পরিমাণ ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্য জাহাজের চালের দানায় এর পরিমাণ পাওয়া যায় ১৭ শতাংশ। সরকারের আমদানির দরপত্র চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মরা, বিনষ্ট ও বিবর্ণ দানার গ্রহণযোগ্য সীমা ৩ শতাংশ।

সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে খাদ্য বিভাগের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, একটি জাহাজে যত চাল আনা হবে, তার মধ্যে নমুনায় যদি ৪ শতাংশ পর্যন্ত মরা, বিনষ্ট ও বিবর্ণ দানা পাওয়া যায়, তবে জরিমানা আদায় করে তা গ্রহণ করতে পারবে খাদ্য বিভাগ। কিন্তু দুটি জাহাজে আনা চাল জরিমানা করেও গ্রহণ করার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। খাদ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওলাম ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে মোট ৫০ হাজার টন চাল কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে প্রথম দুটি চালানেই শর্ত লঙ্ঘন করে নিয়ে আসা হয়েছে পঁচা চাল।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: